× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দক্ষ ফার্মাসিস্ট তৈরির বিকল্প নেই

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১৪:৪৩ পিএম

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দক্ষ ফার্মাসিস্ট তৈরির বিকল্প নেই

সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট তৈরি এখন সময়ের দাবি বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা। তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ ওষুধের দোকান থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পেশাদার ফার্মাসিস্টের উপস্থিতি নেই। এসব দোকানকে যদি মডেল ফার্মেসিতে রূপান্তর করা যায়, তাহলে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। এজন্য অন্তত চার লাখ দক্ষ ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন, যা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল আয়োজিত ‘বি. ফার্ম কোর্সের অভিস্বীকৃতি ও শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা প্রতিপালন’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব মত দেন। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ফার্মেসি কাউন্সিলের সভাপতি ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান। অনুষ্ঠানে কাউন্সিলের অভিস্বীকৃত সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, উপাচার্য, ও ফার্মেসি বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

কাউন্সিলের সচিব মুহাম্মদ মাহবুবুল হক বলেন, ফার্মেসি শিক্ষার মানোন্নয়নে কাউন্সিল ধারাবাহিকভাবে বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করে আসছে। এসব আলোচনায় পাওয়া পরামর্শগুলো অ্যাক্রেডিটেশন ও এডুকেশন কমিটিতে উপস্থাপন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা পরে কাউন্সিলের সাধারণ সভায় অনুমোদন পায়। তিনি বলেন, ‘ফার্মেসি শিক্ষা ও পেশার উন্নয়নে আমরা সবসময় অংশীজনদের মতামতকে প্রাধান্য দিই।’

অ্যাক্রেডিটেশন ও এডুকেশন কমিটির সভাপতি মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বলেন, ‘বিদেশে ফার্মাসিস্টদের ৯৫ শতাংশ কাজ করে হাসপাতাল ও কমিউনিটি ফার্মেসিতে। কিন্তু বাংলাদেশে সরাসরি স্বাস্থ্যখাতে ফার্মাসিস্টদের অংশগ্রহণ এখনও সীমিত। দেশের সব ওষুধের দোকান যদি নিয়মিত ফার্মাসিস্টের তত্ত্বাবধানে চলে, তাহলে স্বাস্থ্যসেবা অনেক বেশি নিরাপদ হবে।’ তিনি দক্ষ ফার্মাসিস্ট তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত ল্যাব স্থাপন ও শিক্ষক নিয়োগে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘ফার্মেসি শিক্ষার মানোন্নয়নে ফার্মেসি কাউন্সিল সিলেবাস প্রণয়ন, ল্যাবরেটরি মান নির্ধারণ ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে।’ তিনি কাউন্সিলের কার্যক্রমকে ‘উন্নয়নশীল দেশের উপযোগী একটি মডেল’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

কাউন্সিলের সহ-সভাপতি চৌধুরী মাহমুদ হাসান বলেন, ‘ফার্মেসি শিক্ষার একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে। এজন্য সর্বজনীন ফার্মেসি সিলেবাস প্রণয়নের কাজ চলছে।’ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রশীদের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে সিলেবাসের খসড়া প্রণয়ন করেছে, যা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের মতো ফার্মেসি ক্যাডার চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকার ইতোমধ্যে সরকারি হাসপাতালে ফার্মাসিস্টদের পদ সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফার্মেসি শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ফার্মেসী কাউন্সিল একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে পারে। একই সঙ্গে অ্যাক্রেডিটেশন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কাউন্সিল, ইউজিসি ও ব্যাক যৌথভাবে কাজ করতে পারে।’

সভায় বক্তারা ফার্মেসি শিক্ষায় নৈতিকতা, মাননিয়ন্ত্রণ ও আধুনিক ল্যাব সুবিধা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। তারা মনে করেন, দক্ষ ফার্মাসিস্ট ছাড়া দেশের স্বাস্থ্যসেবা টেকসই হতে পারে না, এবং জনগণের হাতে নিরাপদ ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা