প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ২২:২২ পিএম
আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ২২:২৬ পিএম
ডা. মোহাম্মদ মাসুমুল হক।
প্রতিবছর অক্টোবর মাস বিশ্বব্যাপী স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে পালিত হয়। এই মাসটির মূল উদ্দেশ্য হলো মারাত্মক এই রোগটি সম্পর্কে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং প্রাথমিক শনাক্তকরণে উৎসাহিত করা।
স্তন ক্যান্সার বর্তমানে নারীদের মধ্যে প্রধান ক্যান্সার। দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো- বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১৩ হাজার নারী এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুহার (প্রায় ৮ হাজার) অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে স্তন ক্যান্সার সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। এই নীরব ঘাতকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জেতার জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো সচেতনতা।
আপনার করণীয় কী?
স্তন ক্যান্সারকে পরাজিত করতে প্রতিটি নারীর তিনটি বিষয়ে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি:
১. ব্রেস্ট সেলফ-এক্সামিনেশন (BSE):
প্রতিটি নারীর উচিত ২০ বছর বয়স থেকেই প্রতি মাসে একবার নিজের স্তন পরীক্ষা করা। মাসিক শেষ হওয়ার ০৭ থেকে ১০ দিনের মাঝে এই পরীক্ষা করার সঠিক সময়। স্তনের আকার, গঠন বা ত্বকের কোনো পরিবর্তন, কোনো ধরনের পিণ্ড বা চাকা (লumps) অনুভব করা, স্তনবৃন্ত থেকে অস্বাভাবিক রসক্ষরণ বা বগলে কোনো ফোলাভাব দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
২. ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট এক্সামিনেশন (CBE):
২৯ থেকে ৩৯ বছর বয়সী মহিলাদের প্রতি ১ থেকে ৩ বছরে একবার চিকিৎসকের মাধ্যমে স্তন পরীক্ষা করানো উচিত। ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে সকল নারীর বছরে একবার নিয়মিত CBE করানো প্রয়োজন।
৩. ম্যামোগ্রাফি (Mammography):
এটি স্তনের এক ধরনের স্বল্প-মাত্রার এক্স-রে। ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের প্রতি বছর একবার ম্যামোগ্রাফি করানো উচিত। যাদের পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আরও কম বয়সে স্ক্রিনিং শুরু করা যেতে পারে।
জীবনযাত্রার পরিবর্তন: প্রতিরোধে সহায়ক
সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। যেমন:
মনে রাখবেন স্তন ক্যান্সার মোকাবিলায় সমাজে প্রচলিত অজ্ঞতা ও সংকোচ এই লড়াইয়ের সবচাইতে বড় বাধা। আমাদের প্রত্যেকের উচিত—এই রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা এবং নিজেদের ও প্রিয়জনদের নিয়মিত স্ক্রিনিং-এর জন্য উৎসাহিত করা। আমার আপনার সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় স্তন ক্যান্সারকে প্রতিরোধ সম্ভব।
ডা. মোহাম্মদ মাসুমুল হক
এম বি বি এস, এম পি এইচ
ক্যান্সার প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ
মহাসচিব, ক্যান্সার এওয়ারনেস ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশ
আবাসিক চিকিৎসক, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি হাসপাতাল ও ওয়েলফেয়ার হোম।