প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২০:৪৯ পিএম
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:০৬ পিএম
প্রবা ফটো।
খাদ্য সমৃদ্ধকরণ শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং বর্তমানে বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে পরিণত হয়েছে। আমাদের স্টাপল ফুডে ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধকরণের কাজ চলছে। খাদ্য সমৃদ্ধকরণে সুপ্ত ক্ষুধাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয় বলে মন্তব্য করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রযুক্তি ও গ্রামীণ শিল্প বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন।
গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে নিজস্ব কার্যালয়ে স্ট্রেংদেনিং ফুড ফর্টিফিকেশন প্রোগ্রাম ইন বাংলাদেশ বিষয়ক সেমিনারে কি-নোট উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইম্প্রুভ নিউট্রিশনের (গেইন) সহযোগিতায় সেমিনারটির আয়োজন করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।
বিএফএসএর চেয়ারম্যান জাকারিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য
সচিব মো. মাসুদুল হাসান, বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শামীউল
হক এবং যুগ্ম সচিব ও ডিএফকিউএসের প্রকল্পের পরিচালক সুলতান আলম, গেইনের কান্টি ডাইরেক্টর,
ড. রুবাদা খন্দকার, কি-নোট স্পিকার ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রযুক্তি
ও গ্রামীণ শিল্প বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন। আরো বক্তব্য রাখেন বিএফএসএর সদস্য
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব, গেইনের পোর্টফোলিও লিডার ড. আশেক মাহফুজ প্রমুখ।
বোরহান উদ্দিন বলেন, আমাদের দেশে আগে গলায় গলগন্ড রোগ হতো। তারপর আশির দশক থেকে লবণে আয়োডিন যুক্ত করায় সেটি থেকে জাতি মুক্তি পেয়েছে। তা ছাড়া এখন সয়াবিনসহ বিভিন্ন ধরনের ভোজ্যতেলে ভিটামিন-এ যুক্ত করা হচ্ছে। ভিটামিন-ডি যুক্ত করার দাবি উঠছে। আবার বিশ্বের অনেক দেশে ময়দাতেও ভিটামিন যুক্ত করা হচ্ছে। আমাদের সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।
মো. মাসুদুল হাসান বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে বিশাল জনগোষ্ঠীর ভিটামিন-এ-এর স্বল্পতা রয়েছে। এটি পূরণে আমাদের কাজ করতে হবে।
জাকারিয়া বলেন, নিরাপদ খাদ্য এবং খাদ্যের নিরাপত্তা নিয়েই আমাদের কাজ। বর্তমানে বাজারে পাওয়া ৬০ শতাংশ ডালে রঙ মেশানো হয়। আমরা চকচকা ডাল কিনতে গিয়ে অজান্তেই বিপদে পড়ে যাচ্ছি।
শামীউল হক বলেন, আমাদের অপুষ্টি ও অনুপুষ্টি দুটোরই সমস্যা রয়েছে। কেননা আমাদের নারীদের ভিটামিন-ডির ঘাটতি রয়েছে। এটি পূরণে কাজ করতে বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ের সচেতনতা বাড়াতে হবে।
সুলতান আলম বলেন, এখন দেশে খাবারের অভাব নেই কিন্তু গুণগত মান কেমন
সেটি বড় প্রশ্ন। অস্ট্রেলিয়ারমত দেশেও সুষম খাদ্যের অভাব। আর আমাদের দেশে তো আরও বেশি।
তিনি বলেন, ভোজ্যতেলে ভিটামিনের বিষয়টি অধিকাংশ মানুষই জানেন না। উৎপাদনকারীরা ক্রেতাদের
চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন করে। খোলা তেলে ভিটামিন সমৃদ্ধ থাকে না।
ড. রুবাদা খন্দকার বলেন, খাদ্য, শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ
বিভিন্ন রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। তাই কাজের জন্য সকলের
সমন্বয় দরকার। কেননা একটি আইন করতে হলে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হয়। তিনি বলেন,
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদতা নিশ্চিত করে দেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে হবে।
ড. আশেক মাহফুজ বলেন, ৬৫ শতাংশ তেল খোলা অবস্থায় ও মাত্র ৩৫ শতাংশ
তেল প্যাকেটজাত অবস্থায় বিক্রি হচ্ছে। এসব খোলা তেলে সঠিক উপাদান থাকে না। এতে করে
রোগবালাই সৃষ্টি হয়।
মাত্র কয়েকটি কোম্পানি তেল বিক্রি করে। এদেরকে খোলা তেল বিক্রি
না করতে বাধ্য করলে আমাদের কিনার সুযোগ থাকবে না বলে দাবি করেন নবাবী ভোজের এক্সিকিউটিভ
ডিরেক্টর কামরুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, আমরা রেস্তোরাঁ মালিকরা কিছুটা কম দামে পণ্য
কিনতে চাই। কোম্পানিগুলো বিক্রি না করলে আমাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে। তিনি বলেন, সিটি
করপোরেশন আমাদের অহেতুক জরিমানা করে। অথচ যারা উৎপাদক তাদের কাছে যায় না।
নগরভবন (সিটি করপোরেশন) আয়না ঘরের চেয়েও ভয়ংকরভাবে নির্যাতন করছে
বলে অভিযোগ করেছেন রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি ওসমান গণি। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য
আইনে আমাদের নানা ধরনের নাজেহাল করা হয়। তারা সামন্য অনিয়ম পেলেই হাজার হাজার টাকা
জরিমানা ধরে। তারা টাকা ছাড়া আমাদের প্রোডাক্ট নিয়ে যায়। কিন্তু আমরা যাদের কাছ থেকে
পণ্য কিনি তাদেরকে ধরা হয় না।
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া খোলা তেলের ৫১ শতাংশেই ভিটামিন ‘এ’ খুঁজে পায়নি পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) উপপরিচালক এস এম আবু সাঈদ। তিনি জানান, গত অর্থবছরে বাজার থেকে খোলা ভোজ্যতেল এবং প্যাকেট ভোজ্যতেলের ২০৪টি নমুনা সংগ্রহ করে দেখা যায়, এর মধ্যে ৫১ শতাংশ খোলা তেলে ভিটামিন ‘এ’ শনাক্ত হয়নি। প্যাকেটজাত তেলের ৯৮ দশমিক ৩ শতাংশে ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া গেছে। সরকার ২০১৩ সালে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধিকরণ আইন করলেও কোম্পানিগুলো তা মানছে না।