× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

স্বাস্থ্য

একটি গুরুত্ব না পাওয়া সংবাদ

ডা. আবদুল্লাহ্‌ বাকী

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫ ১০:০৫ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

আজকের দিনের হিরো হওয়ার কথা ছিল ডা. শীর্ষ শ্রেয়ানের। প্রতিটা নিউজ মিডিয়ার একটা করে ক্যামেরা খাড়া থাকার কথা ছিল তার দিকে। ইন্টারভিউ দিতে দিতে তার অবস্থা হতে পারত পাগলপ্রায়। ভাগ্যিস, তার কিছুই হয়নি। কেন ভাগ্যিস, পরে বলছি। শ্রেয়ানের কীর্তিটা আগে জানিয়ে দেই।

স্ট্রোকের রোগী এখন ঘরে ঘরে। ধরুন আপনার বাবা বা মা মাথা ঘুরে পড়ে গেছেন। হন্তদন্ত হয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাবেন। সিটি স্ক্যান, এমআরআই হবে। চিকিৎসক জানাবেন, আপনার বাবা/মা স্ট্রোক করেছেন। শরীর প্যারালাইজড। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। খাওয়া-দাওয়া দেওয়া হচ্ছে নাকের নলে। প্রচণ্ড অসহায় সময়। আপনি চিকিৎককে ভীষণ আশা নিয়ে জিজ্ঞেস করবেন, রোগী সুস্থ হবে তো?

চিকিৎসক দেবেন ভয়ানক এক উত্তর। ‘স্ট্রোক ভালো করার কোনো চিকিৎসা নেই’। আপনি ধাক্কা খাবেন। কথাটা বিশ্বাস করতে চাইবেন না। কিন্তু নির্মম হলেও এটাই সত্যি। স্ট্রোকের সরাসরি চিকিৎসা হয় না। আপনার স্বজন স্যালাইন হাতে শুয়ে শুয়ে ভাগ্য গুনবে। মৃত্যু হলে তো ভালোই। প্যারালাইজড হয়ে টিকে গেলে মরতে হবে প্রতিদিন। 

প্রবাদ আছে, টাকায় বাঘের দুধও পাওয়া যায়। জী, স্ট্রোকের মেডিসিন একেবারেই নেইÑ কথাটা সত্যি নয়। আঘাতটা যদি হেমোরেজিক না হয় এবং স্ট্রোকের পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া যায়, তাহলে একটা উপায় আছে। নতুন শতাব্দীতে একটা ওষুধ এসেছে। ভাগ্য সহায় হলে এই বাঘের দুধ স্ট্রোক প্রায় পুরোপুরি সারিয়ে তুলতে সক্ষম। বাঘের দুধের জেনেরিক নাম Alteplase। এই মেডিসিন বাংলাদেশে বানায় একটি মাত্র কোম্পানিÑ র‍্যাডিয়েন্ট ফার্মা। ৫০ মিগ্রা’র ইনজেকশন ও ইনফিউশনের পার ভায়াল দাম মাত্র ৫০ হাজার টাকা। রোগী ৬০ কেজির বেশি হলে দুই ভায়াল লাগার কথা। অর্থাৎ এই মেডিসিন গরিব তো বটেই, অধিকাংশ মধ্যবিত্তের নাগালেরও বাইরে। 

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডা. শীর্ষ শ্রেয়ানের কল্যাণে গরিব রোগীরা স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছেন। এই অল্প বয়সি জেদী ছেলেটা নেদারল্যান্ডস থেকে ১৭ কোটি টাকার Alteplase নিয়ে এসেছে। এই ১৭ কোটির মালিক এখন রাজশাহী অঞ্চলের গরিব লোকজন।

১৭ কোটির ওষুধ শ্রেয়ান কীভাবে ম্যানেজ করেছে বিস্তারিত জানা নেই। তার আইডিতে গিয়ে ট্যাগ করা পোস্ট থেকে দেখছি এসবের জন্য সে যোগাযোগ করেছে World Stroke Organization (WSO) এবং Direct Relief ও Angels Initiative-এর মতো এনজিওর সঙ্গে। শ্রেয়ান সম্ভবত তিনটা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজটি করেছে। প্রচণ্ড দক্ষ, দাঁত ভাঙা শপথ না থাকলে এসব সম্ভব নয়। অবশ্য একটা বাচ্চা ছেলের হাতে ১৭ কোটি টাকা কেউ এমনি এমনি দেয় নাকি? আমি চিন্তা করছি, এই ডোনেশনের জন্য তার ঠিক কতটা মেইল করতে হয়েছে, কতবার চেক করেছে রেস্পন্স। কজনের পক্ষে এসব সম্ভব, জানি না।

একটা ২৩-২৪ বছরের ছেলে বিসিএসের পড়া বাদ দিয়ে বা পড়ার ফাঁকে, জেনজির রাজনৈতিক ডামাডোল উপেক্ষা করে দেশের গরিব মানুষ বাঁচানোর জন্য বিদেশি সংস্থার কাছে ধরনা দিচ্ছে!

দুই দিন অপেক্ষা করে দেখলাম, এই খবরটি নিউজ মিডিয়ায় জায়গা পায়নি। চিকিৎসক ও চিকিৎসকদের কয়েকটা ফেসবুক পেজ ছাড়া কোথাও কেউ শীর্ষ শ্রেয়ানকে ধন্যবাদ দেওয়ার দরকার মনে করছে না। 

শুরুতে যেটা বলছিলাম, আজকের নিউজফিড ডা. শীর্ষ শ্রেয়ানের দখলে থাকার কথা ছিল। কোথাও ছেলেটা নেই। একচুয়ালি মিডিয়ার একেবারেই দায় নেই। টিভির বুম ধরে যে হাত, তার ভাতের দরকার আছে। ক্যামেরা যে কাঁধে রাখে তার কাঁধেও আছে পরিবার। তাদের বেতন যে লোক দিচ্ছে, নিউজ থেকে টাকা তুলেই তবে সেটা দিতে হয়। মসজিদ-মন্দিরে দোয়া-প্রার্থনা চাইতে গেলেও আগে কিছু টাকা দেওয়ার অলিখিত নিয়ম রয়েছে।

১৭ কোটি টাকার জীবনদায়ী ওষুধে মানুষের যদি আনন্দ হতো, যদি আগ্রহ থাকত। মিডিয়া ক্যামেরা ঠিকই খুঁজে বের করত ডা. শীর্ষ শ্রেয়ানকে। ভাগ্যিস, কেউ এখনও দরকার মনে করছে না। একবার ক্যামেরা যাকে পেয়ে যায়, তার পরিণতি দুইটা। বাটপার অথবা ভিলেন। শীর্ষ নীরবে কাজ করেছেন। ক্রেডিটের লোভে এত দূর যাওয়া কারও পক্ষে সম্ভব না। 

শীর্ষের বয়স এখনও কম। হুট করে বিখ্যাত বনে গেলে মিডিয়ার সার্ভেলেন্সে পড়ে যাবে। তারপর হঠাৎ একদিন ভুল কিছু বলে ফেলল অথবা ঠিকই বলেছে কিন্তু অনেকের কাছে ভুল মনে হলোÑ দেশের জনতা স্রেফ নরক বানিয়ে দেবে জীবন। ১৭ কোটি অভিশাপ দিয়ে দেবে এক দিনে। তার এনে দেওয়া মেডিসিনে যে লোকটা হাতে পায়ে বল পেয়েছে, সেও পা দাপিয়ে হাত উঁচু করে ছুটবে শীর্ষকে মারতে। ক্রেডিটের দরকার নেই, গুণকীর্তন নিষ্প্রয়োজন। আপাতত মিডিয়া ও প্রশাসন এই বিরল ও ভীষণ দরকারি ওষুধগুলোর ন্যায্য বিতরণে কাজ করুক। ধনীদের সর্বগ্রাসী পেটে যেন এগুলো অন্তত না ঢোকে।

অভিনন্দন ও ভালোবাসা ডা. শীর্ষ শ্রেয়ান। তোমার প্রচেষ্টার ফলাফল যেন জীবনে পেয়ে যাও। আশা করি, এই উদ্যম তুমি ধরে রাখবে। 


লেখক : হৃদরোগ বিশারদ


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা