প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৫ ২২:১৯ পিএম
দেশে হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের স্টেন্টের (রিং) দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সোমবার (৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানিয়েছে। সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের সই করা আদেশে তিন কোম্পানির ১১ ধরনের স্টেন্টের দাম কমিয়ে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়। স্টেন্ট আমদানি প্রতিষ্ঠানভেদে খুচরা মূল্য সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুমোদিত মূল্য তালিকা ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণসহ হাসপাতালসমূহ যেন স্টেন্টের ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ হিসেবে ৫ শতাংশের অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করে এ বিষয়ে মনিটরিং করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
নতুন তালিকা অনুযায়ী, মেডট্রনিক কোম্পানির ‘রিজলিউট অনিক্স’ স্টেন্ট আগের দাম ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা, যা কমিয়ে ৯০ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। বোস্টন সায়েন্টিফিক কোম্পানির ‘প্রোমাস এলিট’ স্টেন্ট আগে ৭৯ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ৭২ হাজার টাকা। একই কোম্পানির ‘প্রোমাস প্রিমিয়ার’ স্টেন্টের দাম ৭৩ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৭০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
সিনার্জি সিরিজের ৩টি স্টেন্টের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে ‘সিনার্জি এক্সডি’ স্টেন্টে, যার আগের দাম ছিল ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। নতুন দামে এটি এখন বিক্রি হবে ১ লাখ টাকায়। অন্যদিকে ‘সিনার্জি’ ও ‘সিনার্জি শিল্ড’ স্টেন্ট দুটির দাম কমিয়ে যথাক্রমে ৯০ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
অ্যাবট কোম্পানির ‘জায়েন্স প্রাইম’ স্টেন্ট দাম ছিল ৬৬ হাজার ৬০০ টাকা, যা কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘জায়েন্স এক্সপেডিশন’ স্টেন্ট দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি, এটি আগের মতোই ৭১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হবে। তবে ‘জায়েন্স আলপাইন’ এবং ‘জায়েন্স সিয়েরা’ স্টেন্ট দুটির দাম ছিল যথাক্রমে ১ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ এবং ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যা কমিয়ে ৯০ হাজার টাকায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া মেডট্রনিক কোম্পানির আরেকটি স্টেন্ট ‘অনিক্স ট্রুকর’ আগে বিক্রি হতো ৭২ হাজার ৫০০ টাকায়। এখন সেটি পাওয়া যাবে ৫০ হাজার টাকায়।
প্রসঙ্গত, স্টেন্ট বা রিং পরানো বাংলাদেশে হার্ট চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। কারও হৃদপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনে ব্লক বা বাধার সৃষ্টি হলে ডাক্তার তাকে এক বা একাধিক রিং পরানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
হার্টে রিং পরানোর পদ্ধতিকে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি বলা হয়। এই পদ্ধতিতে, একটি সরু ক্যাথেটার ব্যবহার করে ধমনিতে একটি ছোট, জাল আকৃতির নল (স্টেন্ট) স্থাপন করা হয়। এটি রক্তনালিকে খোলা রাখতে সাহায্য করে এবং হৃদপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।