ফারুক আহমাদ আরিফ
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৫ ০৮:৪৪ এএম
আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৫ ০৮:৫৮ এএম
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা এখনও মানসিক বিষাদে ভুগছেন। এ অবস্থায় আগামী রবিবার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে সীমিত পরিসরে ক্লাস চালু হচ্ছে। ক্লাস শুরু হওয়ার পর শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সেই দুঃসহ স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামসুন্নাহার।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা একটি মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। তারা যখন ক্লাসরুম বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরবে তখন দুঃসহ স্মৃতি বয়ে নিয়ে ফিরবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে শুনছি এসব শিক্ষার্থী প্লেনের শব্দ পেলে ভয়ে কাঁপছে। শিক্ষক ও অভিভাবকরাও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়ছে।
মানসিক বিষাদ দূর করতে কাউন্সেলিং করা খুবই জরুরি উল্লেখ করে ডা. ঝুনু শামসুন্নাহার বলেন, যেকোনো ধরনের মানসিক চাপ নিরসনে কাউন্সেলিং করা খুবই জরুরি। যদি দুর্ঘটনার বিষয় হয় তাহলে তো আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন করে সাইকোলজিস্ট থাকা দরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা দরকার প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সাইকোলজিস্ট রাখতে হবে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার জানতে চাইলে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কথা বলতে জোর করা যাবে না। তারা কান্নাকাটি করতে চাইলে করুক। বাধা দেওয়া যাবে না। মন খারাপ থাকলে থাকুক। প্রচণ্ড রাগ দেখাতে চাইলে দেখাক। তাদেরকে স্বাভাবিক থাকতে দিতে হবে। তবে যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তবে মানসিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
পারিবারিকভাবে সান্ত্বনা দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা পারিবারিকভাবে সান্ত্বনা তো দিবই পাশাপাশি সামাজিকভাবেও সান্ত্বনা দিতে হবে। তাদেরকে সেই দিনের কোনো কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদেরকে সেই দিনের ঘটনা সম্পর্কে বেশি খোঁচানো বা বারবার জিজ্ঞেস না করাই ভালো। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের উচিত হবে একটি নম্বর দিয়ে রাখা। যাতে কোনো শিক্ষার্থী সমস্যা অনুভব করলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাউন্সেলিং করতে পারে।