বানারীপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৫ ১৮:৪৩ পিএম
আপডেট : ১৬ জুন ২০২৫ ১৮:৪৫ পিএম
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ছয় মাস ধরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও নেই কোনো চালক। ফলে হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িটি এখন শুধুই একটি অচল সম্পদে পরিণত হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে একজন চালক না থাকায় সরকার প্রদত্ত অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার সাধারণ রোগীরা।
সরকারি সেবা না পাওয়ায় রোগীর স্বজনদের বাধ্য হয়ে বেছে নিতে হচ্ছে ব্যয়বহুল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স। এতে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে গিয়ে সবচেয়ে বিপাকে পড়ছেন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণির মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে যেখানে ৬০০ টাকার মতো খরচ হতো, সেখানে এখন বরিশাল শহরের হাসপাতালে রোগী পাঠাতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণির মানুষ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হয়। স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেনÑ অ্যাম্বুলেন্স আছে, অথচ একজন চালকের জন্য এত মাস কেন অপেক্ষা করতে হবে? একজন চালক রাখার মতো সামর্থ্য কি নেই স্বাস্থ্য বিভাগের?
এক রোগীর স্বজন বলেন, আমার বোনের সিজার করতে হবে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বরিশাল রেফার করে। কিন্তু হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক নেই শুনে আমরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে দেড় হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হয়েছে।
হাসপাতালের একজন সিনিয়র নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাতে রোগী এলে মানুষ প্রথমে জিজ্ঞেস করেÑ অ্যাম্বুলেন্স আছে? বলি, আছে কিন্তু চালক নেই। মানুষ ভাবে আমরা মিথ্যে বলছি।
জানা গেছে, গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সচালক কাজী আব্দুর রহমানকে প্রশাসনিক কারণে স্ট্যান্ডরিলিজ করা হয়। এরপর থেকেই পদটি শূন্য রয়েছে। এদিকে গত ছয় মাস ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় এবং এর পেছনে কোনো স্থায়ী সমাধান না আসায় জনমনে ক্ষোভ বিরাজ হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফকরুল ইসলাম মৃধা বলেন, প্রতিমাসেই অ্যাম্বুলেন্সচালক চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিচ্ছি। কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেই। অস্থায়ী নিয়োগও অনুমোদনসাপেক্ষ। ফলে নিরুপায় হয়ে চালকের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছি।
বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস.এম. মনজুর-এ-এলাহী বলেন, চালক নিয়োগের জন্য পরীক্ষা ও বাছাই চলমান রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য শূন্য পদ নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করি চলতি মাসেই এ সমস্যার সমাধান হবে।