মিঠুন সরকার
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৫ ১৯:১৯ পিএম
প্রতীকী ছবি
তামাক থাকে না বলে অনেকেই মনে করে সিগারেটের চেয়ে ই-সিগারেট কম ক্ষতিকর। কিন্তু সাধারণ সিগারেটের মতোই ই-সিগারেটেও থাকে ক্ষতিকারক নিকোটিন। তাই এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে ই-সিগারেট নেশা কাটাবে। বরং গবেষকেরা বলছেন, তরল-নিকোটিন সিগারেটের মতোই আপনাকে নেশাগ্রস্ত করে ফেলতে পারে।
জানা যায়, ই-সিগারেটে রয়েছে কার্সিনোজেনিক রাসায়নিক পদার্থ। যা ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। এ ছাড়াও ই-সিগারেটে থাকা রাসায়নিক পদার্থ ফুসফুসের রোগ ও শ্বাসযন্ত্রে ইনফেকশন ঘটাতে পারে বলে দাবি করছেন গবেষকেরা।
গত কয়েক বছর ধরেই তরুণদের মধ্যে ক্ষতিকর ই-সিগারেটের আসক্তি বেড়েছে। ই-সিগারেটসহ সব ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টকে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পণ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তাই কিশোর-কিশোরীদের ই-সিগারেটের আসক্তি থেকে বাঁচাতে এর প্রচার-প্রচারণাসহ আমদানি, বিক্রয় ও ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, স্মার্ট দেশের উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায় ই-সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্য।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সাধারণ সিগারেটের চেয়ে ই-সিগারেট ১০গুণ বেশি ক্ষতিকারক। সবচেয়ে বড় কথা, ই-সিগারেট দিয়ে ধুমপান কখনও ছাড়া যায় না। সরেজমিনে ঢাকার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ইদানীং এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে ই-সিগারেটের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আমজাদুল হক বলেন, যারা ট্র্যাডিশনাল ধুমপান এড়াতে তামাক ছেড়ে ই-সিগারেট ধরছেন, তারাও স্বাস্থ্যের দিক থেকে মোটেও নিরাপদ নন। আর আপনার আশপাশের লোকজনও নিরাপদ নয়।
হেলথকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক ও মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, ই-সিগারেটের প্রধান উপকরণ নিকোটিন থেকে দ্রুত আসক্তি তৈরি হয়। যা থেকে ফুসফুসের বিভিন্ন অসুখ হতে পারে। এর মধ্যে যেভাবে রাসায়নিক নিকোটিন ব্যবহার করা হয়, এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে মৃত্যুও হতে পারে। এর ধোঁয়ায় এমন কিছু উপাদান আছে যেগুলো থেকে ক্যানসার হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।
ই-সিগারেটে আসক্ত ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ইমন (ছদ্মনাম) বলেন, বন্ধুদের ই-সিগারেট সেবন করা দেখে আমি এ নেশায় আসক্ত হয়েছি। পছন্দের ফ্লেভারেরটা অনলাইনে অর্ডার করে থাকি।
নগরীর বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ধীরে ধীরে এ নেশায় আসক্ত হচ্ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিন বলেন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থীদের অনেকেই ই-সিগারেটের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবগত না হয়ে এর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। অনেক তরুণের কাছে ইলেকট্রনিক সিগারেট এখন ফ্যাশন হিসেবে দেখা দিয়েছে। ই-সিগারেটে যেভাবে রাসায়নিক নিকোটিন ব্যবহার করা হয় তা স্বাস্থ্য সংস্থা দ্বারা অনুমোদিত নয়।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ই- সিগারেটের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে আমরা নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছি। তরুণ বয়সে মস্তিষ্কের বিকাশ চলাকালীন নিকোটিন গ্রহণ করলে তা স্মৃতি, শেখার ক্ষমতা এবং মনোযোগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই তরুণদের একদমই ই-সিগারেট ব্যবহার করা উচিত নয়।