প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৫ ১৬:৩৮ পিএম
কিডনী রোগীদের একটি সাধারণ জিজ্ঞাসা যে, তিনি রোযা রাখতে সক্ষম কিনা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা রোযা রাখার ইচ্ছা পোষণ করেন। একজন কিডনী রোগী রোযা পালন করতে পারবেন কি-না, তা মুলত নির্ভর করে তার সার্বিক শারীরিক সুস্থতা এবং কিডনীর কার্যক্ষমতার উপরে।
ক্রনিক কিডনী ডিজিজ (সিকেডি)’কে মূলত ৫ ভাগে ভাগ করা যায়। স্টেজ ১ থেকে স্টেজ ৫; আর শেষধাপ ESRD (End Stage Renal Disease), যখন একজন রোগীকে ডায়ালাইসিস নির্ভর থাকতে হয়। এক্ষেত্রে যারা স্টেজ ৪, স্টেজ ৫ ও ESRD রোগী, বা যারা পেরিটোনিয়াল, বা হেমোডায়ালাইসিস নির্ভর, তারা রোযা রাখার জন্য সম্পূর্ণভাবে অনুপযুক্ত। তবে সিকেডি স্টেজ ১, স্টেজ ২ ও স্টেজ ৩ এ আক্রান্ত রোগী একজন কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থেকে, তাঁর নির্দেশনা মেনে এবং আনুষঙ্গিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে রোযা রাখতে পারেন।
কিডনী রোগীদের একটি বিরাট অংশ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এক্ষেত্রে যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত এবং ইতোমধ্যে যারা নানাবিধ ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা যেমন, হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে চিনির পরিমাণ কমে যাওয়া), হাইপারগ্লাইসেমিয়া (রক্তে চিনির পরিমান মাত্রাতিরিক্ত বেশী হয়ে যাওয়া) ও ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস এ ভুগেছেন, এবং যাদেরকে দিনে তিন বা ততোধিক বার ইনসুলিন গ্রহণ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, তারা রোযা রাখার জন্য উপযুক্ত নন।
যে সব কিডনী রোগী বারে বারে কিডনী পাথরে আক্রান্ত হন বা যাদের প্রায়শঃই প্রস্রাবে ইনফেকশন হয়, তাদের জন্য রোযা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ কারণ পানিশূন্যতা এই রোগের উপসর্গগুলো বাড়াতে পারে। এক্ষেত্রে তারা রোযা রাখলেও রোযা ভাঙ্গার পর পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে এবং কিডনী বিশেষজ্ঞের পরামর্শে কিডনীর কার্যকারিতা নিয়মিত পরীক্ষা করাতে হবে।

কিডনী ট্রান্সপ্ল্যান্ট রোগীর কিডনী পূর্ণ কার্যক্ষম থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ইমিউনোসাপ্রিশেন্ট সেবন করতে হয়, কিন্তু রোযা রেখে ঠিক সময়মতো এই ওষুধ গ্রহণ করা অনেকক্ষেত্রে সম্ভব হয় না বিধায় তাদের রোযা রাখা অনুচিত। উল্লেখ্য যে, নিয়মিত ও সঠিক সময়ে এই ওষুধ গ্রহণ না করলে কিডনী অকার্যকর হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
কিডনী রোগীদের শরীরে পটাশিয়াম-এর মাত্রা অন্যান্য রোগীদের তুলনায় সাধারণত বেশী থাকে। মাত্রাতিরিক্ত পটাশিয়াম হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, কাজেই তাদেরকে পটাশিয়াম যুক্ত খাবার যেমন খেজুর, কলা, কমলা, মালটা, ডাব প্রভৃতি ফল বর্জন করতে হবে।
প্রাভা হেলথ সম্পর্কে
প্রাভা হেলথ একটি ওয়ান-স্টপ স্বাস্থ্যসেবা সিস্টেম এবং বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র ইন্টিগ্রেটেড আন্তর্জাতিক মানের বহির্বিভাগীয় ক্লিনিক, যা দেশের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্তের জন্য নির্ভুল, সহানুভূতিশীল ও বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে। প্রাভা হেলথ প্রতিরোধমূলক, উন্নয়নমূলক ও চিকিৎসামূলক রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে, যেখানে পারিবারিক চিকিৎসকের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক, কঠোর কর্মী প্রশিক্ষণ, বিশ্বমানের রোগ নির্ণয় সুবিধা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার রোগীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে। প্রাভা বাংলাদেশের প্রথম রোগী অ্যাপ এবং প্রথম মলিকুলার ক্যান্সার ডায়াগনস্টিক পিসিআর ল্যাব চালু করেছে এবং এটি দেশের ১১টি আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবের মধ্যে একটি, যা বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলার রোগীদের জন্য ল্যাব সেবা প্রদান করে।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম প্রাভা হেলথকে ২০২৩ সালে "গ্লোবাল ইনোভেটর" এবং ২০২১ সালে "টেকনোলজি পাইওনিয়ার" হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বিশ্ববিখ্যাত ফাস্ট কোম্পানি ২০২০ সালে "ওয়ার্ল্ড চেঞ্জিং আইডিয়া" হিসেবে প্রাভাকে স্বীকৃতি দেয়। এছাড়া, প্রাভা হেলথের সাফল্য হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল ও কলাম্বিয়া বিজনেস স্কুল দ্বারা প্রাভা হেলথকে নিয়ে কেস স্টাডি প্রকাশিত হয়েছে এবং গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
২০২৩ সালে, EY ও Hogan Lovells প্রাভা হেলথকে "১০০টি অর্থবহ ব্যবসায়িক উদ্যোগ"-এর একটি হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা লাভজনক ব্যবসার পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (UN Global Goals) অর্জনে অবদান রাখছে। সম্প্রতি, ২০২৪ সালে, প্রাভা হেলথ "গ্লোবাল হেলথ ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড" অর্জন করেছে, যা TEAM Fund কর্তৃক প্রদান করা হয়েছে।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: www.praavahealth.com
ডাঃ তানিয়া মাহবুব, এমডি
কনসালট্যান্ট নেফ্রোলজী
প্রাভা হেলথ