× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

‘টাকার অভাবে ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দেন কিডনি রোগীরা’

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২২ ১৯:২৪ পিএম

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২২ ১৯:২৮ পিএম

শনিবার রাজধানীর মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ১৮তম বার্ষিক সভা ও বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। ছবি: প্রবা

শনিবার রাজধানীর মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ১৮তম বার্ষিক সভা ও বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। ছবি: প্রবা

দেশে প্রায় দুই কোটি কিডনি রোগী রয়েছেন। এদের মধ্যে বছরে ৪০ হাজার জনের কিডনি বিকল হয়। এদের ৭৫ শতাংশ বিভিন্ন সময়ে ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজনজনিত চিকিৎসা না পেয়ে মারা যান। চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় বেশির ভাগ রোগী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দেন। এর বাইরে হঠাৎ কিডনি বিকল হয়ে বছরে আরও ২০ হাজার রোগী মারা যান। 

শনিবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সভাকক্ষে ১৮তম বার্ষিক সভা ও বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন তথ্য জানিয়েছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেছেন, কিডনি রোগ শনাক্তের জন্য নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। মরণোত্তর অঙ্গদান বা ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্টের বিষয়ে জনসাধারণকে আরও উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মৃত ব্যক্তির কিডনি দান করা হলে অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচবে। 

কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন-আর-রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ। 

তিনি বলেন, ‘মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) আইন- ২০১৮ আছে। এ আইন অনুযায়ী, রোগীর জীবিত আত্মীয়ের দান করা কিডনি প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।  কিন্তু এখনও ব্রেন ডেথ ঘোষিত ব্যক্তির অঙ্গ প্রতিস্থাপিত হয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিগগিরই এটি শুরু করা হবে।’ 

অধ্যাপক ডা. হারুন-আর-রশিদ বলেন, ‘কিডনি রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় অধিকাংশ রোগী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। এজন্য উদ্যোগ প্রয়োজন। মৃত ব্যক্তির অঙ্গদানের বিষয়ে মানুষের মধ্যে থাকা ভুল ধারণা দূর করতে সচেতনতা বাড়াতে হবে।’

সারা বিশ্বে ৮৫ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যে দুই কোটি কিডনি রোগী রয়েছে, তার মধ্যে ৪০ হাজার রোগীর প্রতি বছরে কিডনি বিকল হয় এবং এদের ৭৫ ভাগই মৃত্যুবরণ করে থাকে ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি সংযোজনের চিকিৎসার অভাবে। এছাড়া হঠাৎ করে কিডনি বিকল হয়েও প্রতি বছর আরও ২০ হাজার রোগী মারা যান।’

ডা. হারুন আর রশিদ বলেন, ‘কিডনি রোগীদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য জেলা পর্যাযয়ে ডায়ালাইসিস করার ব্যবস্থা রাখা এবং প্রতিটি মেডিকেল কলেজে কিডনি সংযোজনের ব্যবস্থা রাখা দরকার। এর সঙ্গে সঙ্গে কিডনির রোগ বিশেষজ্ঞ, ট্রান্সপ্ল্যান্ট রোগ বিশেষজ্ঞ ও নার্সদের উচ্চতর ট্রেনিং বিশেষভাবে প্রয়োজন।’

ডা. মো. শরফুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে কিডনি রোগ ও কিডনি অকেজো রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুটো কিডনি অকেজো হয়ে গেলে রোগীকে বেঁচে থাকার জন্য ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি সংযোজন করতে হয়। বাংলাদেশে এটা চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এই চিকিৎসা ব্যয়বহুল এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তবে আমি জেনে আনন্দিত যে কিছু সরকারি হাসপাতাল এবং বেসরকারি পর্যায়ে কিছু অলাভজনক প্রতিষ্ঠান যেমন কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এই কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজনের ক্ষেত্রে গত ১৬ বছর থেকে স্বল্পমূল্যে মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে মরণোত্তর কিডনি দান করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। সুতরাং এই ধরনের সেবা অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অনুসরণ করলে মানুষের উপকার হবে।‘

অধ্যাপক এ.কে.এম মোশারফ হোসেন বলেন, ‘কিডনি রোগের প্রধান কারণ হচ্ছে ডায়াবেটিক এবং উচ্চ রক্তচাপ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় গত ৩০ বছর থেকে ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজন করে আসছে। আমরা কিডনি ও লিভার নিকট আত্মীয়ের জীবিত অবস্থায় শুরু করেছি এবং মৃত ব্যক্তির অঙ্গ সংযোজন করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএসএমএমইউয়ের যুক্তরাজ্যের রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালের ডা. মুহাম্মদ মাগদি ইয়াকুব, কিডনি ফাউন্ডেনের মহাসচিব ডা. রুহুল আমিন রুবেল ও প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক শামীম আহমেদ।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা