× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ কেন হয় ও করণীয়

ডা. নূরুন নাহার মহুয়া

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৪ ১০:০৭ এএম

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৪ ১৬:৩৯ পিএম

ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ কেন হয় ও করণীয়

হৃদপিণ্ড আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। চার প্রকোষ্ঠের হৃদযন্ত্র এক কথায় মস্তিষ্কের পরেই স্থান। হৃদযন্ত্র মানবদেহের জন্য অনেক জরুরি কাজ করে থাকে। বিশ্বের সমগ্র জনগোষ্ঠীর ১.৭২% বা ১২৬ মিলিয়ন ‘ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ’ বা হৃদযন্ত্রে অক্সিজেনস্বল্পতা রোগে আক্রান্ত। অক্সিজেনের চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য হলেই হৃদযন্ত্রে অক্সিজেনস্বল্পতা রোগ হয়। হৃদযন্ত্রের রক্তনালিতে রক্ত চলাচল বন্ধ বা বাধাপ্রাপ্ত হলে রক্তনালির সংকোচন বা ব্লক কমপক্ষে ৭০ শতাংশ হলেই হৃদযন্ত্রের মাংসপেশিতে রক্ত তথা অক্সিজেন সরবরাহ কমে গিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। অক্সিজেনস্বল্পতার প্রাথমিক অবস্থা হচ্ছে ইসকেমিয়া বা অ্যানজাইনা। আর তীব্র বা প্রকট অবস্থা হচ্ছে ইনফারকশন বা হার্ট অ্যাটাক।

হৃৎপিণ্ডের কাজ

হৃৎপিণ্ডের কাজ হলো দেহের প্রতিটি কোষে খাদ্যকণা পৌঁছে দেওয়া। ফুসফুস থেকে বিশুদ্ধ অক্সিজেন কোষে কোষে পৌঁছে দিতে সাহায্য করা। বিশুদ্ধকরণের জন্য কোষ থেকে দূষিত কার্বন ডাইঅক্সাইড ফুসফুসে পৌঁছে দেওয়া। দেহের তাপমাত্রা ও শরীরের মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা। হৃৎপিণ্ড নিজেই নিজেকে দুটি রক্তনালির মাধ্যমে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য খাদ্য উপাদান সরবরাহ করে থাকে। এ দুটি রক্তনালির কমপক্ষে একটি আংশিক বা পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেলেই সমস্যা হয়।

কারা ঝুঁকিতে

নারী বা পুরুষের অতিরিক্ত স্থূলতা, খাবারে অনিয়ম, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অত্যধিক চর্বি, পরিশ্রমহীনতা, পারিবারিক ইতিহাস এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

লক্ষণ

বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ, বুক ভারী লাগা, ঘাড়ব্যথা, চোয়ালব্যথা এসব লক্ষণ ছাড়াও বিভিন্ন জটিলতা হতে পারে।

চিকিৎসা

বুকে ব্যথাই এ রোগের আভাস দেয়। হৃদযন্ত্রে অক্সিজেনস্বল্পতা ধীরে ধীরে জটিল আকার ধারণ করে। রোগের প্রাথমিক অবস্থায় বিশ্রাম বা জিবের নিচে নাইট্রেট স্প্রে বা ট্যাবলেট দিলেই বুকের ব্যথা কমে যায়। কিন্তু জটিল পর্যায়ে বিশ্রাম এবং নাইট্রেট জিবের নিচে ব্যবহার করেও বুকের ব্যথা কমানো যায় না। আক্রান্তকে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে। দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ রোগীর অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসা দিবেন।

প্রতিকার

রুটিনমাফিক জীবনযাপন ও প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করা। বেশি শাকসবজি খাওয়া। গিলা, কলিজা, গরু ও খাসির মাংস বাদ দেওয়া। তেল, চর্বি, মিষ্টি কম খাওয়া। ধূমপান ও জর্দা খাওয়া থেকে বিরত থাকা। পরিমিত বিশ্রাম নেওয়া ও ঘুম। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা থাকলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শে থাকা। উত্তেজনা তৈরি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা। আলগা লবণ খাওয়া যাবে না। দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করা। মনে রাখা জরুরি, হৃদযন্ত্রে অক্সিজেনস্বল্পতা চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই সহজ ও নিরাপদ।

লেখক

এমবিবিএস (ডিএমসি), ডি-কার্ড (বিএসএমএম ইউ)

পিএইচডি (জাপান), ফেলো ইন অ্যাডভান্সড ইকোকার্ডিওগ্রাফি (জাপান)

সহকারী অধ্যাপক ও কনসালট্যান্ট, কার্ডিওলজি বিভাগ

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট, মিরপুর, ঢাকা

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ

চেম্বার : আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০

হটলাইন : ১০৬৭২

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা