কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৪ ১৮:৪০ পিএম
আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৪ ১৮:৪১ পিএম
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা নিয়ে এক মাদ্রাসার ২১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।
সোমবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার সিমলা রোকনপুর ইউনিয়নে পুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় টিকা দেওয়া হয়।
প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর প্রায় সবাই সুস্থ হয়ে উঠলেও এখনো বেশ কয়েকজন চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অসুস্থ ছাত্রীরা হলেন-খুশি, মিম, সিমা, লামিয়া, সূবর্ণা, হাবিবা, মুন্নি, তারিন, সোনারী, ঔশি, জাকিয়াসহ মোট ২১ জন। তাদের সবার বাড়ি মাদ্রাসা এলাকার পুকুরিয়া ও পার্শ্ববর্তী মনোহরপুর গ্রামে।
পুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. ইউনুচ আলী জানান, সোমবার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ কর্মীরা ছাত্রীদের জরায়ু সংক্রান্ত এইচপিভি টিকা দিতে মাদ্রাসায় আসেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মাদ্রাসার বিভিন্ন শ্রেণির ১০৫ জন ছাত্রীকে টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়। কিন্তু এর কিছু সময় পরই ২/৩ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এরপর পর্যায়ক্রমে টিকা গ্রহনকারীদের মধ্যে ২১ জন অসুস্থ হয়ে পড়াতে মাদ্রাসাটিতে ছাত্রীদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রীদের অভিভাবকরা মাদ্রাসায় ছুটে আসেন এবং অসুস্থদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কালৗগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, তিনি স্বাস্থকর্মীদের নিয়ে ছাত্রীদের জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধ সংক্রান্ত এইচপিভি টিকা দিতে সকালে ওই মাদ্রাসায় যান। টিকা নেওয়া ২১ জন ছাত্রী দুপুরের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ৩ জন বাদে সবাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
তিনি বলেন, ‘টিকার ভয় ভীতিতে শঙ্কিত হয়েই ছাত্রীদের এমনটি হয়েছে। এছাড়াও মাদ্রাসাটিতে পর্যাপ্ত আলো বাতাস না থাকা এবং ছাত্রীদের হিজাব পরে গরমেও এমনটি হতে পারে। তবে, ভয় বা কোন শঙ্কা নেই, দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবেন শিক্ষার্থীরা।’
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দেদারুল ইসলাম জানান, বিষয়টি শুনেই তাৎক্ষণিক হাসপাতালের ডাক্তারদের সুচিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন।