× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিবিএসের জরিপ

সর্বোচ্চ থ্যালাসেমিয়া বাহক রংপুরে, বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৪ ১৫:০৮ পিএম

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৪ ১৬:৩২ পিএম

রবিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর ন্যাশনাল থ্যালাসেমিয়া সার্ভে ২০২৪ এর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রবা ফটো

রবিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর ন্যাশনাল থ্যালাসেমিয়া সার্ভে ২০২৪ এর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রবা ফটো

দেশে জাতীয়ভাবে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বাহকের সংখ্যা ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে মহিলার সংখ্যা ১১ দশমিক ২ শতাংশ এবং পুরুষের সংখ্যা ১১ দশমিক ৯ শতাংশ।

১৪ থেকে ৩৫ বছর বয়সী বিবাহিত ও অবিবাহিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। এটি ৮ হাজার ৬৮০ জনের উপর জরিপ করা হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর ন্যাশনাল থ্যালাসেমিয়া সার্ভে ২০২৪ এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. শহীদুজ্জামান সরকার, বিশেষ অতিথি ছিলেন, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা লিজেন শাহ নঈম। বক্তব্য রাখেন, বিবিএসের উপমহাপরিচালক ওবায়দুল ইসলাম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থ্যালাসেমিয়া বাহকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি রংপুরে ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে আছে রাজশাহীতে ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে আছে চিটাগাংয়ে ১১ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া ময়মনসিংহে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। খুলনা ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। ঢাকা ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। বরিশাল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। সিলেটে সব চেয়ে কম ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশে হ্যাপাটাইটিস বি আক্রান্তের সংখ্যা এক দশমিক ২ শতাংশ এবং হ্যাপাটাইটিস সি আক্রান্তের সংখ্যা শূন্য দশমিক শূণ্য ৫ শতাংশ।

মো. শহীদুজ্জামান বলেন, ‘বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করে বিয়ে করা দরকার। তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্মে এ রোগ কমে যাবে। এই জরিপ বিন্দুতে সিন্ধু দেখার মতো। এটি দিয়ে জাতির সামগ্রিকচিত্রের ডাক। থ্যালাসেমিয়া রোগী নিয়ে কোন অভিভাবক আমাদের কাছে এলে ৫-১০ হাজার টাকার বেশি দিতে পারি না। একজন মা দুই তিন বছর বয়সের বাচ্চা নিয়ে আমাদের কাছে আসে সেই কষ্ট বর্ণনা করার মতো নয়। কিন্তু তাদের কষ্টটা আমরা বুঝি। সরকার থ্যালাসেমিয়াসহ ৫টি রোগের চিকিৎসার জন্য টাকা দেয়। এটা দিয়ে কিছুই করা যায় না। কীভাবে থ্যালাসেমিয়া রোগমুক্ত করতে হবে তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। এজন্য বিয়ের ক্ষেত্রে খুব সচেতন হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সচেতন হলে সমাজকে একটু ভালো স্থানে নিয়ে যেতে পারব। বিবিএস এ ধরনের একটি সার্ভে করে দেখিয়েছে ১১ শতাংশ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক। এই সার্ভেটি জাগরণীর ডাক হতে পারে। রোগটি নির্মূলে আমরা নিজ নিজ স্থান থেকে কাজ করব।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসকরা তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সহযোগিতা করবে। পরিসংখ্যান ব্যুরো তথ্য জানান দিতে পারে কিন্তু প্রকৃত উদ্যোগ নিতে হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে।’ তিনি বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিকেও অনেক লোক যায় তাদেরকে রক্তের পরীক্ষার জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক কর্মীদের দায়িত্ব রয়েছে।’

ড. শাহনাজ আরেফিন বলেন, ‘নিজের চোখের সামনে ধুকে ধুকে সন্তানের মৃত্যু কতটা কঠিন, একজন মা তা বোঝে। আমরা থ্যালাসেমিয়া নির্মূল করতে সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেব- এমন উদ্যোগ দরকার। এজন্য বাহক থেকে বাহকের বিয়ে নিষিদ্ধ করলেই তা সম্ভব। এদের মধ্যে বিয়ে হলে সন্তানের ২৫ শতাংশ থ্যালাসেমিয়া হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘জরিপে কিছু তথ্য উঠে এসেছে, এখন দেখতে হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কী কাজ করে। তারা উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিলে আমরা বিশ্বকে বলতে পারব- এ নিয়ে কাজ হচ্ছে।’

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যস্থাপনা বিভাগের সচিব আরও বলেন, ‘থ্যালাসেমিয়া রোগ নির্মূলে একটা নীতিমালা থাকা দরকার।’

মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই। আমরা সরকারি বেসরকারি জেলা পর্যায়ে সব জায়গাতেই সচেতন থাকার চেষ্টা করি। এছাড়াও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ রোগের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে দেন।’

তিনি বলেন, ‘গ্রাম পর্যায়ে অনেক মানুষ থ্যালাসেমিয়া রোগ সম্পর্কে জানেন না। তবে বিয়ের ক্ষেত্রে থ্যালাসেমিয়ার রোগীদের নিজ থেকে জানানো দরকার।’

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কী করবে এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে এ রোগ নিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। রোগ নির্ণয়ে সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে। এ রোগ থেকে আমরা মুক্ত করতে পারব না, তবে ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারব।’

দীপংকর বলেন, ‘রংপুরে আত্মীয়দের মধ্যে বিয়েটা বেশি। এ কারণে সেখানে এ কারণে হতে পারে। রোগী ও বাহক এক নয়। ১০ শতাংশ বাহক আছে।’

থ্যালাসেমিয়া সমিতির সভাপতি এম এ মতিন বলেন, ‘প্রতিদিন ৬০-৯০ জন রোগী চিকিৎসার জন্য আসে। মাসে ৩ বার রক্ত দিতে হয়। একজন রোগীর গড়ে ২০-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। দৈনিক ৬০-৭০ ব্যাগ রক্তের দরকার পরে।’

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘জরিপের ফলাফল সরকারের নতুন করে কার্যক্রম গ্রহণ করা সহজ হবে। এ রোগকে নির্মূল করা সম্ভব না হলেও তা কীভাবে কমিয়ে আনা যায় সেই বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নেবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা