× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস আজ

বিনামূল্যে চারবার চেকআপের কথা জানেন না অনেকেই

ফারহানা বহ্নি

প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৪ ১৫:২৮ পিএম

আপডেট : ২৮ মে ২০২৪ ১৫:২৮ পিএম

বিনামূল্যে চারবার চেকআপের কথা জানেন না অনেকেই

তিন বছর আগে বাড়িতেই সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে মারা যান রহিমা আক্তার। প্রসব বেদনা শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে গ্রামের ধাত্রীকে দিয়েই জন্মদানের চেষ্টা চালায় তার পরিবার। একপর্যায়ে মৃত কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। পরে হাসপাতালে আনার পথে তারও মৃত্যু ঘটে। 

রহিমার চাচা মাসুদ রানা আফসোস করে বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে প্রসবের চেষ্টা চালানোর ফলে এ ঘটনা ঘটেছে। সময়মতো হাসপাতালে নিলে এমন ঘটনা হয়তো ঘটত না। প্রসব বেদনা উঠলে গ্রামে দাইদের দিয়েই প্রসব করানোর চেষ্টা করা হয়। যার ফলে অনেকসময় দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।’

একই ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর কড়াইল বস্তির বাসিন্দা খুদেজা বেগমের ক্ষেত্রে। রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে স্বামী ও এক মেয়েকে নিয়ে সংসার তার। প্রথম সন্তান বাড়িতে হলেও দ্বিতীয় সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে বেগ পেতে হয় তাকে। বাড়িতে জন্মদান করতে গিয়ে মারা যায় সেই সন্তান। 

খুদেজা বলেন, ‘ছয় মাসের মাথায় সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু বুঝি নাই। ভাবছিলাম কী আর হইবÑআগেরটা তো ঘরেই হইছে। আমি বাইচ্যা গেছি। কিন্তু বাচ্চাডারে তো বাঁচানো গেল না।’

বস্তিগুলোয় এখনও বাসায় প্রসবের সংখ্যা বেশি

রাজধানীর বস্তিগুলো ঘুরে দেখা যায়, এখনও বাড়িতে সন্তান প্রসবেই বেশি উৎসাহী অধিকাংশ পরিবার। পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের এমন আগ্রহের কারণে অন্তঃসত্ত্বা মায়েরাও আর হাসপাতালে যেতে উৎসাহী হন না। এ ছাড়া দারিদ্র্য, অসচেতনতা, সি-সেকশনে সন্তান প্রসবের ভয় এবং দরিদ্র পরিবারের জন্য এলাকাভিত্তিক যথাযথ স্বাস্থ্যসেবার অভাব ইত্যাদি কারণেও অনেকে বাড়িতেই সন্তান প্রসবের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। তা ছাড়া টানাটানির সংসারে খরচ বাঁচাতে তারা বেছে নেন ঘরেই সন্তান প্রসবের পথকে।

বিনামূল্যে চেকআপ করানো নারীও কম

শুধু বাসায় সন্তান প্রসবই নয়- অন্তঃসত্ত্বাবস্থায় বিনামূল্যে সরকারের দেওয়া চারবার চেকআপে যাওয়া নারীর সংখ্যাও বাংলাদেশে আশঙ্কাজনকভাবে কম। প্রচারের অভাবে অনেকে আবার বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নারীদের গর্ভাবস্থায় কমপক্ষে আটবার চেকআপ করানোর সুপারিশ করেছে। তবে বাংলাদেশ সরকারের সুপারিশ হলো, অবশ্যই কমপক্ষে চারবার গর্ভকালীন চেকআপে যেতে হবে এবং বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে তাদের এই চেকআপ সুবিধা দেওয়া হবে। এই চারটির মধ্যে প্রথম চেকআপটি গর্ভধারণের পরে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, দ্বিতীয়টি ২৪তম থেকে ২৮তম সপ্তাহে বা ষষ্ঠ মাসে, তৃতীয়টি ৩২তম সপ্তাহে বা অষ্টম মাসে এবং চতুর্থ চেকআপটি ৩৬তম সপ্তাহে বা নবম মাসে করাতে হবে।

কিন্তু এক গবেষণামতে, বাংলাদেশে চারটি গর্ভকালীন চেকআপ করানো নারীর সংখ্যা ভয়ানক কম। শহরের নারীদের অর্ধেকেরও কম বা ৪৩.২ শতাংশ নারী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর কমপক্ষে চারটি চেকআপ করান। গ্রামে প্রতি পাঁচজনে মাত্র একজন নারী বা ১৭.৯ শতাংশ নারী চারবার চেকআপ করিয়ে থাকেন। যদিও মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু কমাতে হলে এই চেকআপ করানোর বিকল্প নেই। 

বেসরকারি চাকরিজীবী ফারজানা ইয়াসমিন জানান, তার দুইবার গর্ভপাত হয়েছে। এখন তিনি মনে করেন, এ জন্য নিয়মিত হাসপাতালে চেকআপ না করানোই মূলত দায়ী। তিনি বলেন, ‘তৃতীয়বার শুরু থেকেই নিয়মিত হাসপাতালে যাই। ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। নিয়মিত চেকআপ করাই। আমার বাচ্চা এবার সুস্থভাবে পৃথিবীর মুখ দেখেছে।’

এখনও বাড়িতে সন্তান প্রসবের হার ৩৩ শতাংশ

এরই মধ্যে আজ মঙ্গলবার, ২৮ মে, পালিত হচ্ছে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস। গত কয়েক বছর ধরেই দিবসটির প্রতিপাদ্যে হাসপাতালে সন্তান জন্মদান ও নিয়মিত চেকআপকে উৎসাহ দেওয়া হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে ‘হাসপাতালে সন্তান প্রসব করান, মা ও নবজাতকের জীবন বাঁচান’। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২৩’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুসারে, এ দেশে এখনও বাড়িতে সন্তান প্রসবের হার প্রায় ৩৩ শতাংশ। অস্ত্রোপচারে শিশু জন্মের হার প্রায় ৫১ শতাংশ। একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর চারবার বা এর বেশিবার প্রসবপূর্ব সেবা নেওয়ার হার মাত্র ৩৯ শতাংশ। প্রতি লাখ জীবিত জন্মে মাতৃমৃত্যু ১৩৬।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুসারে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি লাখ জীবিত জন্মে মাতৃমৃত্যু ৭০-এর নিচে নামিয়ে আনতে হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার বাড়াতে হবে

মেরি স্টোপস বাংলাদেশের লিড অ্যাডভোকেসি মনজুন নাহার বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার দিকে তাকালে আমাদের নিরাপদ মাতৃত্ব ভয়াবহ অবস্থায় আছে। নিরাপদ সন্তান প্রসবের কিছু শর্ত আছে। গর্ভকালীন অবস্থায় মা পুষ্টিকর খাবার খাবে, সমস্যা দেখা দিলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেবে, নিয়মিত চেকআপ করাতে হবে। এই শর্তগুলো পূরণ না হলে ঝুঁকিতে থাকবে মা ও শিশু। এখনও বাংলাদেশে প্রায় অর্ধেকের বেশি সন্তান প্রসব হচ্ছে ঘরে। শহরের তুলনায় গ্রামে এ সংখ্যা বেশি।’ 

শহরের প্রজনন বৈষম্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শহরকে ভাগ করলে দেখা যাবে, সেখানেও অনেক বৈষম্য আছে। আমাদের শহরের বস্তিগুলোতে বিভিন্ন জায়গার মাইগ্রেটেড মানুষরা বাস করে। এসব পকেটগুলোতে সেবাকেন্দ্র নেই। যাদের সামর্থ্য আছে টাকা খরচ করে হাসপাতালে প্রসবের ব্যবস্থা করছে। কিন্তু নিম্নবিত্তরা কোথায় যাবে? এই প্রশ্নটা জরুরি। এখানে সরকারিভাবে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। সচেতনতা তৈরিতে ভলান্টিয়ার নিয়োগ করা যেতে পারে। কারণ মাতৃমৃত্যু কমাতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার বাড়াতে হবে।’ 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা