প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৪ ১৭:২৪ পিএম
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৪ ১৯:২৪ পিএম
ইংল্যান্ডের ধনাঢ্য ব্যক্তি জন জ্যাকব অস্তরের মরদেহ থেকে সোনার পকেট ঘড়িটি উদ্ধার করা হয়। ছবি : সংগৃহীত
টাইটানিক ডুবে গেছে আজ থেকে ১১২ বছর আগে। কিন্তু তা নিয়ে এখনও মানুষের সমান আগ্রহ। জাহাজটি সংশ্লিষ্ট সব কিছুতে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ডুবে যাওয়া জাহাজটির ধনী এক যাত্রীর একটি পকেট ঘড়ি বিক্রি হয়েছে ১২ লাখ পাউন্ডে। বাংলাদেশি হিসেবে সোনার ঘড়িটির মূল্য ১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকার বেশি।
শনিবার (২৭ এপ্রিল) ঘড়িটি নিলামে তোলে ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ার শহরের হেনরি অ্যালড্রিজ অ্যান্ড সন ইন ডেভাইস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। একজন ব্যক্তিগত সংগ্রাহক ঘড়িটি কিনে নিয়েছেন।
এর আগে টাইটানিকের স্মারকগুলোর মধ্যে একটি ভায়োলিন বিক্রি হয়েছিল ১১ লাখ পাউন্ড বা ১৫ কোটি ২ লাখ ৯৬ টাকায়। ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের ওই একই নিলাম প্রতিষ্ঠান বায়োলিনটি বিক্রি করেছিল। ১৯১২ সালের ১৪-১৫ এপ্রিল জাহাজটি ডুবে যাওয়ার সময় বায়োলিনিটি বাজানো হয়েছিল।
১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্ক সিটির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে টাইটানিক, যার ডাকনাম ছিল মিলিয়নিয়ার’স স্পেশাল। মিলিয়নিয়ারদের এ প্রমোদতরিতে ইংল্যান্ডের যেসব ধনীরা উঠেছিলেন তাদের অন্যতম জন জ্যাকব অস্তর। ৪৭ বছর বয়সি এ ধনকুবের সঙ্গে হয়েছিলেন তার নববধূ ম্যাডেলিন।
যাত্রা করার চতুর্থ দিনে ১৪ এপ্রিল রাত ১১টা ৪০ মিনিটে টাইটানিকটি একটি প্রকাণ্ড হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সঙ্গে সঙ্গে ওই সময়কার যাত্রীবাহী দৈত্যাকার এ জাহাজটি ডুবে যেতে শুরু করে। জাহাজটি ডুবে মারা যায় ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি।
নিলামকারী অ্যান্ড্রু অ্যালড্রিজ বলেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির জাহাজটি ডুবে যাচ্ছে, এ খবর শুরুতে অস্তর বিশ্বাসই করতে চাননি। তবে যখন নিশ্চিত হলেন তখন তিনি তার স্ত্রীকে একটি লাইফবোটে তুলে দেন। সাত দিন পর আটলান্টিক মহাসাগর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে থাকা ওয়েল্টহ্যাম কোম্পানির সোনার তৈরি পকেট ঘড়িটিও উদ্ধার করা হয়। বেঁচে যান স্ত্রী ম্যাডেলিন।
অস্তরের সন্তান ভিনসেন্টের হাতে আসে বাবার ঘটিড়ি। ভিনসেন্ট ঘড়িটি তার বাবার নির্বাহী সচিব উইলিয়ান ডাবনির ছেলের হাতে তুলে দেন। সেখান থেকে ঘড়িটি নিলাম কোম্পানি হেনরি অ্যালড্রিজ অ্যান্ড সন ইন ডেভাইসে কাছে পৌঁছে।
সূত্র : গার্ডিয়ান