বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:১৯ পিএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:৪১ পিএম
খেজুরগুড়ের পিঠা অথবা গুড় দিয়ে মুড়ি বা মুড়ি-মুড়কি, খৈ, মোয়াÑ
এসব ছাড়া কি আর শীতের সকাল জমে। আর সঙ্গে যদি থাকে মধুর সংগীত, তাহলে তো কথাই নেই।
এমনি এক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায়।
গতকাল শুক্রবার ‘মাঘপুণ্যি উৎসব ও লোক সম্মাননা ১৪৩০’ নামে
এই উৎসবের আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘রঙ্গে
ভরা বঙ্গ’।
শুরুতে অতিথিদের বক্তব্যের পর বৈচিত্র্যময় নানা খাবারের সাথে
পরিবেশিত হয় পালাগান। বাদ্যযন্ত্রের সাথে গান আর মুড়ি-মোয়ায় জমে ওঠে চারুকলা
প্রাঙ্গণ। শীত কম থাকায় ছিল না তেমন কুয়াশা। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলে উৎসব। এক
যুগ ধরে ‘রঙ্গে ভরা বঙ্গ’ আয়োজন
করছে মেলা-পার্বণ। এবারের আয়োজনে চন্দ্রাবতী পালা প্রকাশের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে
সায়িক সিদ্দিকী গেয়ে শোনান জয়তুন বিবির পালা। উপস্থাপিত হয় কুমিল্লার বিজয়পুরের
বনমালী পালের বাঁশ-মাদুরের চিত্রশিল্প।
অন্যবার উৎসবে খেজুরের রস মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকলেও এবারের
উৎসবে তা রাখা হয়নি। নিপা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে খেজুরের রস না রাখার নির্দেশনা
থাকায় তার প্রতিবাদও করেছেন আয়োজকরা। অনুষ্ঠানে রস রাখতে না দেওয়া এবং উৎসবের নাম ‘রস
উৎসব’ দিতেও মানা করায় বকুলতলায় রসের হাঁড়ি উল্টো করে রেখে
প্রতিবাদ জানান তারা।
প্রতিবাদের কথা জানিয়ে রঙ্গে ভরা বঙ্গের সাধারণ সম্পাদক ইমরান
উজ-জামান বলেন, এবার আমাদের রস না রাখার বাধ্যবাধকতা ছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
দুবার আমাদের উপদেষ্টাকে শোকজ করেছে। তাই এবার আমরা রস রাখতে পারি নাই। রসের
নামটাও উনারা পরিবর্তন করতে বলেছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, নাম রাখলেও মানুষ রস
খাওয়াতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন। আমি পৃথিবীতে এমন অদ্ভুত দেশ দেখিনি যেখানে
মাথাব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলা হয়। উনারা ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি পথ তৈরি
করতে পারতেন, কিন্তু তা না করে আমাদের অনুষ্ঠানটিই বন্ধ করে দিতে বললেন। তাই রসের
হাঁড়িগুলো উল্টো করে রাখাই আমাদের প্রতিবাদ। আমাদের সংস্কৃতিকে কোনো কারণেই আমরা
ভুলে যেতে চাই না। আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই।
অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক হায়াৎ মামুদ শারীরিক অসুস্থতার
কারণে না আসতে পারায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান মৃধা
বেনু। উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির ফোকলোর বিভাগের পরিচালক শাহিদা আক্তার,
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জলিল ভূঁইয়া, উদযাপন
কমিটির আহ্বায়ক ডা. শওকত আরা হায়দার প্রমুখ।