প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:২৭ পিএম
আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:৪৬ পিএম
ভারতের একটি রাস্তায় শিশু ভিক্ষুক। ছবি : সংগৃহীত
ভারত সরকার ৩০টি শহর ভিক্ষুকমুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে শহরগুলো ভিক্ষুকমুক্ত করার জন্য নানা উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সংশ্লিষ্ট শহরগুলোর রাস্তা, রেলস্টেশন, পার্কে যেসব ভিক্ষুক ও ভবঘুরে ঘুরে বেড়ায় তাদের পুনর্বাসন করার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির নাম সাপোর্ট ফর মার্জিনালাইজড ইন্ডিভিজুয়ালস ফর লাইভহুড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ বা স্মাইল।
৩০টি শহরের মধ্যে অযোধ্যা, গুয়াহাটি, মাদুরাই, শ্রীনগর, পুদুচেরি, সিমলা, মাইসুরু এবং জয়সলমের উল্লেখযোগ্য। এসব শহরের মধ্যে ২৫টির জন্য প্রাথমিক ‘কর্ম পরিকল্পনা’ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে জরিপও শুরু হয়ে গেছে। জরিপের মূল উদ্দেশ্য ভিক্ষুকরা তাদের জীবিকার জন্য কী কাজ করতে চায়, তা যাচই করে দেখা। এরপর ভিক্ষুকদের দক্ষ করার মাধ্যমে বিভিন্ন পেশায় পুনর্বাসন করা হবে।
২০২৩ সালে ভিক্ষুকমুক্ত করার একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। সে প্রকল্পে ৪৮৬ ভিক্ষুককে দুই মাস প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন কাজে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এসব ভিক্ষুক কাজে আছে না আবার ভিক্ষায় ফিরে এসেছে স্মাইলের আওতায় সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।
আগামী মাসে ভারতের সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রণালয় একটি অ্যাপ ও পোর্টাল চালু করবে। এতে ভিক্ষা সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার এ প্রকল্পে অর্থায়ন করবে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ভারতের চার লাখের বেশি ভিক্ষুক ও ভবঘুরে রয়েছে।
অভাব থেকেই মানুষ প্রধানত ভিক্ষা করে। কিন্তু ভারতে ভিক্ষাবৃত্তি একটি প্রাচীন ধারা। সাধু-সন্নাসী, ফকির-বাউলদের একটা অংশ ভিক্ষা করে, তথা সমাজ থেকে চেয়ে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।
অন্যদিকে ভারতের অর্থনীতি সম্প্রতি ভালো করলেও বেকারত্ব দেশটির জন্য একটি বড় সমস্যা। এ অবস্থায় কিছু শহরকে জোরপূর্বক ভিক্ষুকমুক্ত করার পরিকল্পনা কতটা সফল হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, আরটি