× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

৪৭ বছর পর একসঙ্গে ৪ বান্ধবী

হৈমন্তী শুকলা

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২২ ২২:০৪ পিএম

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২২ ১৫:৪৩ পিএম

৪৭ বছর পর ধানমন্ডির একটি রেস্তোরাঁয় চার বান্ধবী

৪৭ বছর পর ধানমন্ডির একটি রেস্তোরাঁয় চার বান্ধবী

‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপের উদ্যোগে ৪৭ বছর পর খুঁজে পাওয়া গেছে ছয় বান্ধবীকে। বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডির একটি রেস্তোরাঁয় দেখা হয়েছে তাদের। দীর্ঘদিন পর তাদের সাক্ষাতে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গেয়ে ওঠেন, ও আমার বন্ধু গো... মেতে থাকে আনন্দ উল্লাসে।

বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ইতিহাসচর্চা কেন্দ্রিক সংগঠন ও সংগ্রহশালা ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র । স্বেচ্ছাশ্রম ও ব্যক্তি অর্থায়নে দেশব্যাপী ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রাম, সংস্কৃতি চর্চা, প্রচার, সংরক্ষণ ও তথ্যবিকৃতিরোধে কাজ করছে সংগঠনটি। ইতিহাস, সংস্কৃতি বিষয় ছাড়াও সমাজের নানা বিষয় নিয়ে কাজ করেন তারা

সম্প্রতি ১টি ছবির মাধ্যমে দীর্ঘ ৪৭ বছর খুঁজে না পাওয়া ৭ বান্ধবীদের খুঁজে বের করেছে তারা। জানা যায় সংগঠনটির বিপুল সদস্য সংখ্যা থাকা অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে এক রাতের ভেতর ৪ জনকে খুঁজে বের করেন, এরপর গতকাল আরও একজনের খোঁজ পেয়েছেন তারা। মোট ৭ জনের ৬ জনকেই পাওয়া গেছে তাদের ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে। 

‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’র প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক গিরিধর দে বলেন, সবকিছু এখন যেমন সহজভাবে হয়ে যাচ্ছে শুরুর দিকে বিষয়টি একদমই তেমন ছিলো না। গত ১৪ জুলাই রাতে প্রথমে ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’র ফেসবুক গ্রুপের পেন্ডিংয়ে খুশনুদ নাজিন প্রত্যাশা নামের একটি প্রোফাইল থেকে একটি মেয়ের পোস্ট পেন্ডিংয়ে জমা হয়। তখন গ্রুপের পক্ষ থেকে পোস্টটির সত্যতা এবং বিষয়াবলী বুঝতে চেষ্টা করা হয়। পোস্টটি প্রায় ১ ঘণ্টা পেন্ডিংয়ে রেখে দিয়ে যাচাই বাছাই চলে। 

তিনি বলেন, পরে ওই পোস্টটি অনুমোদন দিয়ে তা নিয়ে কাজ শুরু করা হয়। এই সংগঠক বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে সেটির প্রচার চালাতে শুরু করি, বিষয়টি রাতের ভেতরই বেশ ভাইরাল হয়। এরপর সকালের ভেতরে ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’ এর মাধ্যমে আমরা চার জনকে খুঁজে পাই। সর্বপ্রথম যাকে পাওয়া গেলো তিনি ঝুমা আবদুল্লাহ। জানা যায়, তিনি সেদিনই হজ করে দেশে ফিরেছেন। এরপর একে-একে সাবেরা বেগম, হাওয়া, রওশন আরা নিলুকেও পেলাম। তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলো আমাদের। এরপর তাদের একে-অপরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করানো হলো। সাতজনের দুইজন শামীম আরা রুবি এবং সেলিনা বেগম পারুলকে তখনও পাওয়া যায়নি। আমরা আমাদের সব সদস্য, প্রতিনিধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব ক্ষেত্রগুলোকে অনবরত ব্যবহার করে প্রচার চালাতে থাকি, এরই ভেতর ২৬ জুলাই দিলখোশ বেগম পুতুল (সাত জনের একজন) আন্টির মেয়ে প্রত্যাশা জানায় রুবি আন্টি যোগাযোগ করেছেন। এরই ভেতর আজ একটি সূত্রে আমি বাকি থাকা পারুল আন্টিরও খোঁজ পেয়ে গেলাম, যদিও নিশ্চিত হতে পারিনি। যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। শুনেছি তিনি দেশের বাইরে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, ইতোপূর্বে আমরা বাকিদের দেখা করানোর জন্য কথা বলে একটা দিন নির্ধারণ করি কিন্তু হঠাৎ-ই সব ঠিক থাকা অবস্থায় এবং সকলে এই দেখা হওয়ার বিষয়টি অবগত হবার পরও কোন একটি সঙ্গত কারণে প্রোগ্রামটি গতকাল সন্ধার আগে ক্যানসেল হয়ে যায়। আমি একটু বিপাকে পড়ে যাই! কারণ তখন বিষয়টি সকল মাধ্যমে প্রচার হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় কি করবো বুঝে উঠতে পারিনা, তারপর হাওয়া আন্টির ছেলে উপল ভাই এবং প্রত্যাশার সঙ্গে যোগাযোগ করি উনারা খুব আন্তরিকতার সঙ্গে সাহায্য করেন। চেষ্টা করি সমাধান করতে এবং সফল হই। সকলের সঙ্গে দীর্ঘসময় যাবৎ কথা বলে পূর্ব নির্ধারিত তারিখ, সময় এবং স্থানেই উনাদের দেখা হবার বিষয়টি চূড়ান্ত করি। এরই ভেতর নানা জায়গা থেকে অসংখ্য গণমাধ্যমকর্মীরা যোগাযোগ করেন। সকলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, সঠিকভাবে তথ্য দেওয়া এবং সাক্ষাৎকারের সুযোগ করে দিই। আমি চেয়েছিলেন এত বছর পর যেহেতু উনাদের দেখা হচ্ছে তাই উনাদের নিজেদের একান্তে কিছু সময় ব্যবস্থা করে দিতে, সবকিছু মিলিয়ে সেভাবে সম্ভব হয়নি তবে আমরা এই পুণর্মিলনটাকে ২টি পর্বে বিভক্ত করেছি। উনাদের দেখা হবার শুরুর সময় অর্থাৎ ১ম পর্ব বিকাল ৫.০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬.০০ টা পর্যন্ত যে সময়ে শুধুমাত্র উনারা একান্তে উনাদের নিজেদের মত করে সময় কাঁটাবেন। জানি এই সামান্য সময় উনাদের এই দীর্ঘদিনের আবেগ, অনুভুতি, ভালোবাসা প্রকাশের জন্য পর্যাপ্ত নয় তবুও সাধ্যের ভেতর যেটুকু সম্ভব হয়েছে আমরা চেষ্টা করেছি। এবং সন্ধা ৬.০০ টা থেকে ৬.১৫ বা ৬.৩০ মিনিট পর্যন্ত মিডিয়া-এর জন্য সময় বরাদ্দ করেছি এবং এটুকু নিশ্চিত করতে চেষ্টা করেছি যাতে করে উনাদের কোনভাবেই কোন বিব্রতকর পরিবেশ, পরিস্থিতি এবং ভোগান্তি না পোহাতে হয়। আন্টিরা সকলেই খুব আন্তরিক এবং সহযোগিতা করেছেন। উনারা দিনটি নিয়ে প্রচন্ড উৎসাহী ছিলেন, যা ভাষায় ব্যক্ত করা সম্ভব নয়। প্রতি মুহূর্তে আমি উনাদের খুশি দেখে আনন্দে ভাসছিলাম। জানি শুধু আমি বা আমরাই নই, সারাদেশবাসী উনাদের এই মিলনে আনন্দিত।

আমি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই সারা দেশবাসীকে এবং বিশেষ করে আমাদের অনলাইন-অফলাইনে থাকা ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’র সকল সদস্য, ফলোয়ার, প্রতিনিধিদের যারা আমাদের সর্বক্ষণ এই অসাধ্য সাধনের জন্য উৎসাহ দিয়ে শক্তি জুগিয়েছেন। আরও ধন্যবাদ জানাই সকল আন্টিদের (যাদের খুঁজে পেয়েছি) এবং প্রত্যাশা এবং উপল ভাইকে। সকলকে ধন্যবাদ। ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’ আবারও প্রমাণ করলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু দিক সবসময় খারাপ নয়, ভালোকাজে ব্যবহার হলে এটি আমাদের জন্য সর্বদাই মঙ্গলকর। ধন্যবাদ সবাইকে, এটি আমাদের জন্য অন্যতম একটি বড় অর্জন হয়ে থাকবে। সকলের জন্য শুভকামনা।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা