কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০২৩ ২২:১০ পিএম
আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৩ ২২:১৫ পিএম
সারা দেশে সুস্বাদু কোরাল কিংবা ভেটকি মাছের কদর রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের গভীর পানির মাছ কোরাল সবসময় হাটবাজারে পাওয়া যায় না। চিংড়ির মতো চাষের মাধ্যমে কোরাল মাছ উৎপাদনের তেমন সুযোগও নেই। তবে সম্প্রতি সামুদ্রিক লোনাপানির কোরালের কৃত্রিম প্রজনন করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে সামুদ্রিক কোরালের চাষ করা যাবে পুকুরেও।
কক্সবাজারের বেসরকারি হ্যাচারি গ্রিন হাউস মেরিকালচারের প্রচেষ্টায় সামুদ্রিক লোনাপানির কোরালের কৃত্রিম প্রজনন প্রক্রিয়া সফল হয়েছে। এর ফলে এই মাছ সমুদ্রের লোনাপানির খাঁচা, উপকূলের স্বল্প লোনাপানির পুকুর ও মিঠাপানির পুকুরে চাষ করা সম্ভব বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট মৎস্য গবেষকরা।
গ্রিনহাউস মেরিকালচার হ্যাচারির প্রধান গবেষক মোদাব্বির আহমেদ খন্দকার পলাশ জানিয়েছেন, দীর্ঘ গবেষণার পর গত ৪ নভেম্বর কোরালের কৃত্রিম প্রজনন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ৪ নভেম্বর রাতে হ্যাচারির স্পনিং ট্যাংকে একটি মা কোরাল ১০ লাখ ডিম ছাড়ে এবং সেখান থেকে ৬ লাখ রেণু জন্ম নেয়। এসব রেণু বর্তমানে হ্যাচারিতে প্রতিপালন করা হচ্ছে। রেণু বড় হলে ক্রমান্বয়ে সেগুলো নার্সারির পুকুর ও চাষাবাদের পুকুরে চাষ করা হবে। এই মাছ সমুদ্রের লোনাপানির খাঁচা, উপকূলের স্বল্প লোনাপানির পুকুর ও মিঠাপানির পুকুরে চাষ করা যাবে।
তিনি জানান, গ্রিনহাউস মেরিকালচারের এই উদ্যোগ বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘টেকসই উপকূলীয় এবং সামুদ্রিক মৎস্য প্রকল্প’ থেকে গবেষণার ক্ষেত্রে সহায়তা করা হয়। এই কাজের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘২০১৮ সালে সোনাদিয়া দ্বীপে গিয়ে প্রাকৃতিক নিয়মে আমরা পুরুষ কোরাল থেকে বাচ্চা প্রজননের ব্যবস্থা করেছিলাম। কৃত্রিম উপায়ে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রজনন করেছে কি না, তা মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে রেকর্ড নেই। তবে ১৮ নভেম্বরের পর এক সপ্তাহের মধ্যে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সামুদ্রিক কোরাল থেকে কৃত্রিম প্রজননের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এ নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা চলছে।’
গ্রিনহাউস মেরিকালচারের ব্যবস্থাপক তারিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ২০ মাসের গবেষণা শেষে এই কৃত্রিম প্রজনন তৈরি হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কাসহ অন্যান্য দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও কোরাল উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের রপ্তানি খাতে একটি নতুন পণ্য যোগ করতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।