× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রেমিককে বিয়ে করতে কোটি ডলার তুচ্ছ করলেন ধনকুবের কন্যা

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৩ ১৩:০২ পিএম

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৩ ১৩:০৪ পিএম

জেডিডিয়া ফ্রান্সিসের সঙ্গে অ্যাঞ্জেলিন ফ্রান্সিস খু। ছবি : সংগৃহীত

জেডিডিয়া ফ্রান্সিসের সঙ্গে অ্যাঞ্জেলিন ফ্রান্সিস খু। ছবি : সংগৃহীত

নাটক-সিনেমায় সচরাচর এমনটা দেখা যায়। দেখা যায়, প্রেমের টানে হতদরিদ্র প্রেমিকের হাত ধরে ঘরে থেকে বের হয়ে গেছেন ধনীর দুলালী। উপন্যাস-সিনেমার এসব কাহিনী বাস্তব জীবনেও মাঝে-মধ্যে ঘটে, যা বেশ দুর্লভ। তবে মালয়েশিয়ার এমন একটা ঘটান সম্প্রতি আলোড়ন তৈরি করেছে।  

বছর পনেরো আগে তেমনটাই করেছিলেন মালয়েশিয়ার ধনকুবের খু কায় পেং-এর কন্যা অ্যাঞ্জেলিন ফ্রান্সিস খু। চিরজীবনের জন্য প্রেমিকের হাত ধরতে ৩০ কোটি ডলারের (২ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা) পারিবারিক সম্পত্তিকে ‘না’ বলেছিলেন তিনি।

দেশ-বিদেশের সংবাদমাধ্যমে অ্যাঞ্জেলিনের সেই কাহিনি সম্প্রতি জায়গা করে নিয়েছে। বিয়ের পর জীবনসঙ্গীর পদবিকে নিজের নামের সঙ্গে জুড়ে নিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্টের একটি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ার প্রথম ৫০ জন ধনকুবেরের তালিকায় অন্যতম ছিলেন অ্যাঞ্জেলিনের বাবা পেং। তাঁর পূর্বপুরুষেরা চীন ছেড়ে মালয়েশিয়ায় বসতি গড়েছিলেন।

মালয়েশিয়ায় একটি ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠা করা থেকে শুরু করে ‘লরা অ্যাশলি’ নামে ব্রিটেনের একটি নামজাদা ফ্যাশন, ফার্নিশিং এবং টেক্সটাইল ডিজাইন সংস্থায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন পেং। 

নিজের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য বৃদ্ধি করতে মালায়ান ইউনাইটেড ইন্ডাস্ট্রিজ় (এমইউআই) গোষ্ঠীর ছাতার তলায় হোটেল, খুচরো পণ্য, পর্যটন, ফাইনান্সের ক্ষেত্র থেকে নানা ব্র্যান্ডের মাধ্যমে ফুড ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছেন ৮৩ বছরের পেং।

২০১৫ সালে এমইউআই গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা পেং-এর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে জ্যেষ্ঠ পুত্র অ্যান্ড্রুর হাতে এমইউআই গোষ্ঠীর দায়িত্ব ছেড়ে অবসর নেন পেং।

অ্যাঞ্জেলিনের মা পলিন চাই-ও বিভিন্ন কারণে বিখ্যাত। এক সময়কার এই মডেল মালয়েশিয়ার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ‘মিস মালয়েশিয়া’র শিরোপা জিতে নিয়েছিলেন। পলিন-পেং দম্পতির তিন পুত্র এবং দুই কন্যা রয়েছে।

অ্যাঞ্জেলিনের প্রেমকাহিনি খানিকটা সিনেমার গল্পের মতো। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় ক্যারিবীয় সহপাঠী জেডিডিয়া ফ্রান্সিসের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল অ্যাঞ্জেলিনের। পড়াশোনার ফাঁকে চুটিয়ে প্রেম চলেছে তাঁদের।

অক্সফোর্ডের সহপাঠীর সঙ্গে ঘরবাঁধার স্বপ্ন লালন করতেন পেং-এর চতুর্থ সন্তান অ্যাঞ্জেলিন। তবে তাঁদের বিয়েতে রাজি ছিলেন না পেং। বাবার অমতে বিয়ে করলে যে তাঁকে বিপুল সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হতে হবে, তা ভালমতোই জানতেন অ্যাঞ্জেলিন। তবে কেন প্রেমিকের হাত ধরলেন তিনি?

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে কাছে এক সাক্ষাৎকারে অ্যাঞ্জেলিন বলেন, আমার মনে হয়েছিল, আমাদের বিয়ে নিয়ে বাবার মনোভাব ভুল ছিল। তাই কোনটা ঠিক, তা বুঝতে বেগ পেতে হয়নি।

বিপুল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ হারিয়ে আফসোস হয় না? এমন এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাঞ্জেলিন বলেন, বিত্তশালী হওয়াটা এক অর্থে আশীর্বাদ বটে। অর্থের বিনিময়ে অনেক কিছু করা যায়, বহু পথ খুলে যায়। তবে সেই সঙ্গে কিছু ক্ষতিকর দিক থাকে। ক্ষতিকর দিকগুলোর একটি ক্ষমতার দখলদারি। আর্থিক ক্ষমতা থাকলে বহু ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য চারপাশে গজিয়ে ওঠে। আমার নিজেকে সৌভাগ্যমান মনে হয়, কারণ আমার বিপুল বিত্তের কোনো লোভ নেই। 

এত বিপুল অর্থের মোহ ত্যাগ অনেকের কাছে বেশ কঠিন মনে হলেও বেশ সহজেই সব ছেড়ে ছিলেন অ্যাঞ্জেলিন। তার ভাষায়, সব ছেড়েছুড়ে বেরিয়ে আসতে আমার কোনো বেগ পেতে হয়নি। ওই সব নিয়ে কখনও বিশেষ চিন্তা-ভাবনা করিনি।

৩৪ বছরের অ্যাঞ্জেলিন পেশায় ফ্যাশন ডিজাইনার। ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসাবে কাজ করেন জেডিডিয়া। 

জেডিডিয়াকে বিয়ে করার পর ২০০৮ সালে মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন অ্যাঞ্জেলিন। এরপর ২০১৩ সালে মা-বাবার সঙ্গে তার দেখা হয়। তবে সাধারণ কোনো স্থানে নয়, আদালতে। 

২০১৩ সালে পলিনের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল পেং-এর। সে সময় আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দিতে হয়েছিল অ্যাঞ্জেলিনকে।

আদালতে মায়ের পক্ষেই সাক্ষ্য দিয়েছিলেন পেং-কন্যা। অ্যাঞ্জেলিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পাঁচ সন্তানের জন্য কখনও সময় ব্যয় করেননি তাঁদরে বাবা। তাঁদের একার হাতেই মানুষ করেছেন মা।

সূত্র : দ্য ইকোনমিক টাইমস, আনন্দবাজার পত্রিকা


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা