প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৩ ১৪:২১ পিএম
আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৩ ১৪:২৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের ইরিন হানিকাট নারীদের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা দাড়ির রেকর্ড গড়েছেন। ছবি : সংগৃহীত
নারীদের পুরুষদের মতো দাড়ি-গোঁফ ওঠে না। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো কোনো নারীর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি দাড়ি-গোঁফ ওঠে। হরমোনের তারতম্যের কারণে এমনটি হয়।
কিন্তু কখনও কী কোনো নারীর পুরষদের মতো দাড়ি উঠতে দেখেছেন? যুক্তরাষ্ট্রের এক নারীর এমনটি হয়েছে। নারীর লম্বা দাড়ি ক্যাটাগরিতে তিনি রেকর্ড করেছেন। নাম লিখিয়েছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে।
বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা দাড়ির এই নারীর নাম ইরিন হানিকাট। তার দাড়ি ১১ দশমিক ৮ ইঞ্চি লম্বা।
এর আগে সবচেয়ে লম্বা দাড়ির নারীর রেকর্ডটা ছিল ভিভিয়ান হুইলার নামের ৭৫ বছর বয়সি আরেক নারীর। হুইলারের দাড়ি ১০ দশমিক ০৪ ইঞ্চি লম্বা ছিল।
গিনেস ওয়েবসাইট জানায়, হানিকাট চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ভিভিয়ান হুইলারের রেকর্ড ভাঙেন ইরিন হানিকাট। হানিকাট যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের বাসিন্দা।
৩৮ বছর বয়সি হানিকাটের পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম রয়েছে। এ সিনড্রোমের ফলে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়। বৃদ্ধি পায় মুখের লোম বা দাড়ি। পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের কারণে দাড়ি লম্বা করতে পেরেছেন হানিকাট।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস জানায়, হানিকাটের বয়স যখন ১৩ তখন থেকেই তার দাড়ি বাড়তে শুরু করে। এটি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শুরু থেকেই তিনি শেভিং, ওয়াক্সিং ও চুল অপসারণের সমস্ত উপায় অবলম্বন করেন। হানিকাট নিয়ম করে দিনে তিনবার শেভ করতেন। পরে তিনি রুটিন মাফিক এ কাজটি বাদ দিয়ে দেন। এরপরই তার দাড়ি ১১ দশমিক ৮ ইঞ্চি বেড়ে যায়।
হানিকাট জানান, তার কৈশোর ও যৌবনজুড়ে শেভিং, ওয়াক্সিং ও চুল অপসারণের জীবনধারা বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু এসব কিছুর কারণে একসময় তার দৃষ্টিশক্তি কিছুটা ক্ষীণ হয়ে আসে। অন্যদিকে রোজ তিনবার শেভ করতেও ক্লান্তি বোধ করতেন তিনি। তাই একটা সময় তিনি এসব বাদ দেন।
পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম ছাড়াও হানিকাটকে আরও কিছু শারীরিক জটিলতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে তার একটি পায়ের নিচের অর্ধেক কেটে ফেলতে হয়েছে। অন্যদিকে উচ্চ রক্তচাপের কারণে চোখের স্ট্রোকও হয়েছে তার। ফলে অনেকটা দৃষ্টিশক্তিহীন হয়ে পড়েন হানিকাট।
দীর্ঘ দাড়ির নারী ক্যাটাগরিতে বিশ্ব রেকর্ড করে শুরুতে কিছুটা লজ্জা পেতেন হানিকাট। তবে এখন এমন রেকর্ড করতে পেরে তার ভালোই লাগে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান