প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৩ ২০:২৬ পিএম
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৩ ২১:১০ পিএম
অ্যাঞ্জেলা নামের এই ভল্লুকের আচরণ অনেকটা মানুষের মতো। ছবি : সংগৃহীত
ভল্লুক হিংস্র প্রাণী। সুযোগ পেলেই মানুষের ওপর হামলে পড়ে। প্রাণীটা নিয়ে মানুষের এটাই সাধারণ ধারণা। কিন্তু ভল্লুক হিংস্র প্রকৃতির বলে মানুষের বদ্ধমূল যে ধারণা রয়েছে, চীনের একটা ভল্লুক তা বদলে দিয়েছে।
ঘটনাটা ঘটেছে পূর্ব চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের হ্যাংজু চিড়িয়াখানায়। সেখানে একটি ভল্লুকের আচরণ ছিল অনেকটা মানুষের মতো। তাই সেটাকে দেখে অনেকে কালো স্যুট পরা মানুষ বলে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।
২৭ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিড়িয়াখানার ওই ভল্লুকের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ভল্লুকটি তার ঘাড় সোজা করে পেছনের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
এটা প্রকৃত ভল্লুক কি না, তা নিয়ে নেটিজেনদের (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী) মধ্যে বিচিত্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের ধারণা, আসলে এটা একজন মানুষ। তাকে ভল্লুকের মতো স্যুট পরানো হয়েছে।
কিন্তু চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, না এটা প্রকৃত ভল্লুক। এটার নাম অ্যাঞ্জেলা। এটি মালয়ান প্রজাতির সূর্য ভল্লুক।
ভিডিওটা ভাইরাল হওয়ার পর থেকে হ্যাংজু চিড়িয়াখানায় দৈনিক দর্শনার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। দেশটির বিখ্যাত এই চিড়িয়াখানার দৈনিক দর্শনার্থীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ২০ হাজারে পৌঁছেছে।
ইউ নামের একজন দর্শনার্থী বলেন, ‘আমি ইন্টারনেটে এই ভল্লুকের একটি দাঁড়িয়ে থাকার ভিডিও দেখেছি। তারপর এটি বাস্তবে কেমন, তা দেখার কৌতূহল তৈরি হয়। সেই কৌতূহল থেকেই ভল্লুকটাকে সামনাসামনি দেখতে এখানে এসেছি।’
চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে একজন লেখেন, ’এটা প্রকৃত ভল্লুক না হলেও যারা অবিকল ভল্লুকের মতো জিনিস তৈরি করেছেন, তারা অস্কার পাওয়ার যোগ্য।’
হ্যাংজু চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা অ্যাঞ্জেলাকে প্রকৃত ভল্লুক বলেই দাবি করেছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কর্মকর্তারা বলছেন, অ্যাঞ্জেলা অবশ্যই একটা ভল্লুক। এটা কোনোভাবেই মানুষ নয়। আমাদের চিড়িয়াখানাটি সরকার দ্বারা পরিচালিত। তাই এ ধরনের ঘটনা ঘটার কোনো শঙ্কা নেই।
প্রাণী অধিকারবিষয়ক সংগঠন পিইটিএ এক বিবৃতিতে জানায়, এ ঘটনা আমাদের এটাই শিক্ষা দেয় যে ভল্লুক ও অন্য প্রাণীদের চিড়িয়াখানায় নয়, বরং তারা নিরাপদে থাকতে পারে এমন অভয়ারণ্যে রাখা উচিত। কারণ অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও সামাজিক এসব প্রাণী প্রাকৃতিক পরিবেশেই নিজেদের যথাযথভাবে বিকাশ ঘটাতে পারে। তারা মানুষের চিত্তবিনোদনের বস্তু হওয়ার উপাদান নয়।
সূত্র : রয়টার্স