প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৩ ১৭:২৪ পিএম
আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৩ ১৭:৪৪ পিএম
ভিয়েতনামে সম্প্রতি দুই হাজার বছর আগের পাথরের এই স্ল্যাব থেকে এখনও মসলার ঘ্রাণ পাওয়া যায়। ছবি : সংগৃহীত
তরকারি সুস্বাদু করতে মসলার বিকল্প নেই। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রাচীন কাল থেকে মসলার ব্যবহার রয়েছে। বিশেষ করে, মসলা ব্যবহারের জন্য প্রাচীন ভারত অত্যন্ত বিখ্যাত। কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামেও প্রায় দুই হাজার বছর আগেও নানা ধরনের মসলার ব্যবহার ছিল বলে জানা গেছে।
সায়েন্স অ্যাডভান্সেসের ২১ জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিয়েতনামের আন গিয়াং শহরের ওসি ইও থোয়াই সন নামক স্থানে সম্প্রতি একটি স্ল্যাব পাওয়া যায়। পাথরের স্ল্যাবটি দেখতে অনেকটা মসলা বাটার জন্য ব্যবহৃত পাটার মতো।
স্ল্যাবটিতে এখনও মসলার ঘ্রাণ পাওয়া যায়। ঘ্রাণটা জায়ফলের।
ওসি ইও থোয়াই সন নামক স্থানে ১৯৪০-এর দশকেও অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন জিনিস পাওয়া গিয়েছিল। সম্প্রতি সেই একই স্থান থেকে গবেষকরা আরও কিছু জিনিস উদ্ধার করেন। উল্লিখিত স্ল্যাবটি ছিল সম্প্রতি পাওয়া জিনিসগুলোর একটি।
স্ল্যাবটি গবেষক দলের সঙ্গে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক খান ট্রুং কিয়েন নুগুয়েনের নজরে পড়ে। প্রাথমিকভাবে নুগুয়েনের ধারণা হয়েছিল, স্ল্যাবটি মসলা বাটার জন্য ব্যবহার করা হতো। অনুমান থেকে গবেষণায় লেগে যান নুগুয়েন ও তার সহকর্মীরা। অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে স্ল্যাবটিতে তারা অনেকগুলো মসলার নমুনা পান। এসব নমুনা ২০০টিরও বেশি মসলার সঙ্গে তুলনা করে যাচাই করা হয়। এতে করে তারা হলুদ, আদা, লবঙ্গ, দারুচিনি ও জায়ফলসহ আটটি মসলার বিষয়ে নিশ্চিত হন।
এসব মসলা ভিয়েতনামের স্থানীয় না ভারত বা ইন্দোনেশিয়া থেকে সেখানে গেছে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে হলুদ, আদা, লবঙ্গ শত শত বছর ধরে ভিয়েতনামে চাষ হওয়ার পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়।
ওইসব মসলা যদি ভারত বা ইন্দোনেশিয়া থেকেও সেখানে যায়, তা আরেকটা নতুন তথ্য দেয়। অর্থাৎ এতে করে বোঝা যায় প্রায় দুই হাজার বছর আগেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ওই অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল।
সূত্র : সায়েন্স