প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৩ ১৯:০৭ পিএম
আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৩ ২০:২৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে হাঙ্গর। সংগৃহীত ফটো
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে মাদক চোরাচালানকারীদের ফেলে দেওয়া কোকেন হাঙ্গরের দল সেবন করে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির গবেষকরা।
বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ডিসকভারি চ্যানেলের আসন্ন টিভি সিরিজ ‘কোকেন শার্কস’-এ কর্মরত গবেষকরা গত বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) লাইভসায়েন্সকে বলেছেন, গবেষণায় তারা দেখেছেন যে এই এলাকায় কিছু হাঙ্গর বেশ অদ্ভুত আচরণ করছে। ফ্লোরিডা কিস এলাকায় হাঙ্গরদের ওপর বেশ কয়েকটি পরীক্ষা চালিয়েছে তারা, যেখানে জেলেরা ‘মাদকাসক্ত’ মাছ দেখতে পেয়েছে বলে জানিয়েছেন।
সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী টম হির্ড এবং ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানী ট্রেসি ফানারা দাবি করেছেন, সম্প্রতি একটি অভিযানের সময় তারা একটি দুর্দান্ত হ্যামারহেড হাঙ্গর দেখেছেন। এই হ্যামারহেড প্রজাতির হাঙ্গর সাধারণত মানুষকে এড়িয়ে চলে। তবে সেদিন এই হ্যামারহেড হাঙ্গর সাঁতার কাটার সময় সরাসরি ডুবুরি দলকে আক্রমণ করেছে।
তারা আরও জানান, এদিন আরেকটি স্যান্ডবার হাঙ্গরকে জলসীমার একটি নির্দিষ্ট বক্ররেখায় ক্রমাগত সাঁতার কাটতে দেখা গেছে।
বিজ্ঞানীরা সেখানে একটি পরীক্ষাও চালিয়েছিলেন, যেখানে একটি নকল রাজহাঁস ও একটি আসল কোকেনের প্যাকেট রেখেছিলেন যেভাবে মাদক চোরাচালানকারীরা সমুদ্রে ফেলে দেয়। গবেষকদের আশ্চর্য করে হাঙ্গরগুলো রাজহাঁসকে আক্রমণ না করে কোকেনের দিকে ছুটে যায় ও সেটিকে কামড়াতে চেষ্টা করে।
বিষয়টি গভীরভাবে বুঝতে বিজ্ঞানীরা আরেকটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। এ সময় তারা মাছের গুঁড়া থেকে একটি টোপ বল তৈরি করে দিয়েছিলেন, যা হাঙ্গরদের মধ্যে প্রাণবন্ত ভাব সৃষ্টি করেছিল। হাঙ্গরগুলো যখন তা (পাউডার) খেয়েছিল, গবেষকরা বলছেন, তারা তাদের সম্পূর্ণ বন্য হয়ে যেতে দেখেছেন।
টম হির্ড বলেন, ‘আমি মনে করি আপনি যদি হাঙ্গরকে কোকেন দেন তাহলে এটি কেমন হতে পারে তার একটি সম্ভাব্য দৃশ্যকল্প আমরা পেয়েছি। আমি মনে করি, আমরা তাদের সেরা জিনিসটাই দিয়েছি। এটি যেন তাদের মস্তিষ্কে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। বিষয়টা সত্যিই উন্মত্ত ছিল।’
গবেষক দলটি বাস্তবতা বোঝার জন্য সেখানে নকল কোকেনও ফেলেছিল এবং দেখেছে যে একাধিক হাঙ্গর প্রজাতি তাত্ক্ষণিকভাবে ওই প্যাকেজে দিকে চলে গেছে।
জীববিজ্ঞানীরা অবশ্য স্বীকার করেছেন, তাদের গবেষণা এখনও প্রমাণ করতে পারেনি যে হাঙ্গররা আসলেই কোকেন খাচ্ছে। কিন্তু টম হির্ড আশা করেছেন, ডকুমেন্টারি সিরিজের সম্প্রচার বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণার পাশাপাশি অন্যান্য ফার্মাসিউটিক্যালস কীভাবে সামুদ্রিক জীবনকে প্রভাবিত করে তা জানতে উৎসাহিত করবে।
সূত্র : আরটি