প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৩ ১২:২২ পিএম
আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৩ ১২:৩৭ পিএম
নাইজেরিয়ার যুবক টেম্বু এবেরে। ছবি : সংগৃহীত
গিনেস বুকে নাম লেখাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা করতে গিয়ে আংশিক দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন নাইজেরিয়ার এক যুবক।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুসারে টেম্বু এবেরে নামের নাইজেরিয়ার ওই যুবক গিনেস রেকর্ড করার আশায় সাত দিন একটানা কেঁদেছেন।
তিনি চেয়ারে বসে কান্নাকাটি করছিলেন এবং তার পাশেই রাখা একটি লাইভ টাইমারে তার কান্নার সময় গণনা করা হচ্ছিল।
এ সময় তিনি জোর করে চোখে জল আনার জন্য নানা রকম কলাকৌশলও করেছিলেন।
আর ওই কলাকৌশল করতে গিয়েই হঠাৎ ওই যুবক টের পান যে, তিনি সব কিছুই অস্পষ্ট দেখছেন।
বিবিসি’র ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কে দীর্ঘতম সময় কাঁদতে পারেন, তা নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা চলছিল। সেই প্রতিযোগিতায়ই শামিল হয়েছিলেন নাইজেরীয় ওই যুবক।
ওই যুবক পরে বিবিসিকে জানান, ৪৫ মিনিটের জন্য তিনি কিছু দেখতে পাননি। চোখ ফুলেও গিয়েছিল। মাথাতেও অসম্ভব যন্ত্রণা হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
এখন অবশ্য তিনি সুস্থই রয়েছেন। চোখ নিয়েও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ফের তার দৃষ্টিশক্তি সমস্যায় পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
কারণ তার ওই জোর করে কান্নার কলাকৌশলের কারণে চোখের অভ্যন্তরের সংবেদনশীল অংশে চাপ তৈরি হয়েছে।
এত কিছুর পরও হাল ছাড়তে রাজি হননি তিনি। জানিয়েছেন কৌশল বদলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার চেষ্টা করবেন তিনি।
কিন্তু প্রতিযোগিতার আয়োজকরা তার শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পেরে জানিয়ে দেন যে তাকে ওই প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
যাই হোক, এবেরের কান্নার ভিডিওটি বিশ্বজুড়ে ৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন ভিউ হয়েছে।
ওই ভিডিওর নিচে নেটিজেনরা নানা মন্তব্য করেছেন।
এমনকি কেউ কেউ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একজন লিখেছেন, 'কোনো মানুষ এটা করতে পারে!'
আরেকজন লিখেছেন, 'আমি মনে করি, আমি অনেক দিন ধরে কেঁদেছি এবং আমি ওই রেকর্ডের যোগ্য।'
গিনেস রেকর্ডের নামে এই হুজুগ অবশ্য নাইজেরিয়ায় নতুন কিছু নয়।
পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে কিছুদিন আগেই হিলদা বাছি নামের এক নারী গিনেস রেকর্ড করার আশায় দাঁড়িয়ে একটানা ১০০ ঘণ্টা ধরে রান্না করে খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন।
সূত্র : ডেইলি মেইল