প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৩ ১২:৪১ পিএম
আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৩ ১২:৫৯ পিএম
দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসর নিয়েছেন মেলবা মেব্যান। ছবি : সংগৃহীত
চলতি মাসের গোড়ায় অবশেষে অবসর নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের বাসিন্দা মেলবা মেব্যান।
তিনি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে কাজে ঢুকেছিলেন ১৭ বছর বয়সে। তার পর থেকে একটানা ৭৪ বছর ধরে সেখানেই কাজ করে গেছেন। গত সাত দশকের বেশি দীর্ঘ কর্মজীবনে এক দিনের জন্যও ছুটির দরখাস্ত করেননি ৯১ বছরের মেলবা মেব্যান।
মেলবার অবসরের পর প্রকাশ্যে আসে তার এমন কীর্তির কথা। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে দেশবিদেশের নানা সংবাদমাধ্যমে।
১৯৪৯ সালে প্রথম চাকরিতে ঢুকেছিলেন তিনি, টেক্সাসের টাইলার শহরে ডিপার্টমেন্ট স্টোরের চেন ‘ডিলার্ডস’-এ।
মেলবার শহর ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি রাজ্যজুড়ে এই স্টোর ছড়িয়ে রয়েছে। শুরুতে ডিলার্ডসে লিফ্ট চালানোর কাজ পেয়েছিলেন মেলবা। ধীরে ধীরে তার পদোন্নতি হয়। পরে তাকে প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
কিছুদিনের মধ্যেই স্টোর কর্তৃপক্ষের মন জয় করে নেন মেলবা। ডিলার্ডসের কাউন্টারে দাঁড়িয়ে বিক্রিবাট্টার ফাঁকে তার কথাবার্তা, আচার-আচরণে সন্তুষ্ট ছিলেন সহকর্মী থেকে ক্রেতা—সবাই।
অবসরের দিনে মেলবার কর্মজীবন উদ্যাপন করেছেন তার সহকর্মীরা। সেই পার্টিতে হাজির ছিলেন স্টোর কর্তৃপক্ষও। মেলবার প্রশংসায় পঞ্চমুখ স্টোরের ম্যানেজার জেমস সায়েঞ্জ।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে জেমস বলেন, ‘ক্রেতা থেকে সহকর্মী সবারই প্রত্যাশা পূরণ করেছেন মেলবা। স্টোরের প্রত্যেক ক্রেতাকে এমন পরিষেবা দিতেন যে আমরা অভিজ্ঞতালাভের জন্য মুখিয়ে থাকতাম।’
মেলবার কথা বলতে গিয়ে যেন থামতেই চান না জেমস। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের টিমের জন্য সবকিছু করতেন তিনি। ভাবতে পারবেন না, টিমের কত জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন মেলবা!’
মায়ের কাজে যাওয়ার গল্প শুনিয়েছেন মেলবার ছেলে টেরি মেব্যান। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিদিন কাজে যেতে ভালোবাসতেন তার মা। মায়ের নিয়মানুবর্তিতা তাকে অনুপ্রেরণা জোগায়।
টেরি বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল ১০টায় স্টোর খোলার ঘণ্টাখানেক আগেই সেখানে পৌঁছে যেতেন মা; যাতে পার্কিংয়ে তার গাড়ি রাখার জায়গা পাওয়া যায়। ফলে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সোয়া ৯টার মধ্যে স্টোরে পৌঁছতেন তিনি।’
ডিলার্ডসের কাউন্টারে প্রতিদিন সবার আগে গিয়ে দাঁড়াতেন মেলবা। টেরি বলেন, ‘আগে থেকেই দৈনন্দিন কাজের প্রস্তুতি নিয়ে নিতেন মা। কাজের ফাঁকে দুপুরের খাওয়ার জন্য মোটে ২৫ মিনিট খরচ করতেন তিনি।’
টেরি জানিয়েছেন, ৭০-৮০ বছর বয়সেও সমান কর্মক্ষম ছিলেন তার মা। তখনও সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করতেন। সে সময় অবশ্য মাকে কাজের জায়গা থেকে গাড়ি চালিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসতেন টেরি।
সূত্র : ডেইলি মেইল