প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৩ ১২:১২ পিএম
আপডেট : ৩১ মে ২০২৩ ২০:৩৯ পিএম
মাটির নিচে স্তরে স্তরে তৈরি হয়েছিল ডেরিংকুয়ু শহর। ছবি : বিবিসি
উপাসনালয়, স্কুল, মদ মজুদ রাখার বিশেষ ঘর থেকে শুরু করে পড়ুয়াদের জন্য আলাদা ঘর! সবই ছিল এ শহরে। তবু এ শহর পৃথিবীর অন্যান্য শহরের চেয়ে আলাদা।
কারণ মাটির ওপর নয়, বরং মাটির নিচে স্তরে স্তরে তৈরি হয়েছিল এই ডেরিংকুয়ু শহর। প্রাচীন তুরস্কের ভূগর্ভস্থ শহরের মধ্যে ডেরিংকুয়ু শহর বৃহত্তম।
ইতিহাসবিদদের মতে, অষ্টম থেকে সপ্তম খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে গ্রিক অধিবাসীরা এ শহর গড়ে তোলেন। তৎকালীন পারস্যের রাজা ইমার রাজত্বকালে মাটির নিচে শহরটি নির্মাণ করা হয়।
যুদ্ধের সময় শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পেতে ভূগর্ভস্থ এ শহর গড়ে তোলা হয়। বাইজান্টাইন যুগে আরব মুসলিমদের আক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে ভূগর্ভস্থ শহরে আশ্রয় নিতেন বাসিন্দারা।
১৮ তলার ডেরিংকুয়ু শহরে মূলত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করে রাখা হতো। ৮৫ মিটার গভীর এ শহরটি কেমাকলি নামের অন্য একটি ভূগর্ভস্থ শহরের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে জানিয়েছেন ইতিহাসবিদরা।
কালের নিয়মে ডেরিংকুয়ু শহরটি ধীরে ধীরে মাটির তলায় চাপা পড়ে যায়। ১৯৬৩ সালে শহরটির অস্তিত্বের কথা প্রকাশ্যে আসে।
সেখানকার এক স্থানীয় ওই এলাকায় বাড়ি তৈরি করবেন বলে মাটি খুঁড়ছিলেন। তখন তার পোষ্য মুরগি হারিয়ে যায়।
মুরগির খোঁজ করতে গিয়ে একটি গর্তের সন্ধান পান তিনি। গর্তের ভেতর মুরগিটি পড়ে গেছে বলে তা খুঁড়তে শুরু করেন।
গর্ত খুঁড়ে নিচে নামার পর তিনি দেখেন গর্তের ভেতর অসংখ্য সরু রাস্তা রয়েছে। তার পরই শুরু হয়ে যায় হইচই।
ইতিহাসবিদদের দাবি, ১৮ স্তরে বানানো ডেরিংকুয়ু শহরের মাটির নিচের দরজাগুলো শুধু ভেতর থেকে বন্ধ করা যেত। বাইরে থেকে বন্ধ করার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বাতাস যেন অবাধে যাতায়াত করতে পারে, তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও ছিল।
প্রত্নতত্ত্ববিদরা ডেরিংকুয়ু শহরের ধ্বংসাবশেষ পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছেন, ১৮ তলার শহরে একসঙ্গে ২০ হাজার মানুষ থাকতে পারত। শহরের দ্বিতীয় তলায় স্কুলও ছিল।
ডেরিংকুয়ু শহরের তৃতীয় ও চতুর্থ তলা থেকে ধাপে ধাপে সিঁড়ি ওপরের দিকে উঠে গেছে পাঁচ তলায়। সেখানে ছিল একটি উপাসনালয়।
ডেরিংকুয়ু শহরের মাঝে ছিল একটি কুয়ো। ৫৫ মিটার গভীর কুয়ো থেকে পানি সংগ্রহ করতেন শহরের বাসিন্দারা। গৃহপালিত পশু রাখার জায়গাও ছিল আলাদা।
বর্তমানে ডেরিংকুয়ু শহরটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। টিকিট কেটে পর্যটকরা ইতিহাসে ঘেরা এ শহর দেখতে ভিড় জমান।
প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, প্রাচীন তুরস্কে ২০০টির বেশি ভূগর্ভস্থ শহর রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ৪৪৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকা ডেরিংকুয়ু শহরটি বৃহত্তম।
সূত্র : বিবিসি