প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৩ ১১:৩৯ এএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৩ ১২:৪৮ পিএম
অধারা পেরেজ স্যানচেজ। ছবি : হিন্দুস্তান টাইমস
সমবয়সিদের চেয়ে একটু আলাদা মেক্সিকোর ১১ বছর বয়সি অধারা পেরেজ স্যানচেজ। কারণ তার অটিজমের সমস্যা রয়েছে।
কিন্তু এ বয়সেই স্নাতকোত্তরের পড়াশোনা শেষ করে অধারা প্রমাণ করে দিয়েছে, বুদ্ধিমত্তায় সে কোনো অংশে কম নয়!
তার ‘ইন্টেলিজেন্স কোশেন্ট’ বা আইকিউ স্কোর বলছে, অধারা ছাপিয়ে গেছে কিংবদন্তি বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন এবং স্বনামধন্য পদার্থবিদ স্টিফেন হকিংকেও!
এভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে মেক্সিকো সিটির অধারা। তার আইকিউ স্কোর ১৬২। এ ক্ষেত্রে স্টিফেন হকিংয়ের স্কোর ছিল ১৬০।
বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, আইনস্টাইনের আইকিউ স্কোরও ছিল ১৬০-এর কাছাকাছি।
ফলে সেদিক থেকে দেখতে গেলে অধারা এই বিখ্যাত দুজনকেই ছাপিয়ে গেছে।
অধারা মাত্র সাত বছর বয়সেই স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে আসে। এরপর মাত্র ১১ বছর বয়সে ‘টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব মেক্সিকো’ থেকে সিস্টেম্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর পূর্ণের কৃতিত্ব লাভ করে। অধারার স্পেশালাইজেশনের বিষয় ছিল অঙ্ক। বর্তমানে মেক্সিকান স্পেস এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত সে।
নতুন প্রজন্মের মধ্যে মহাকাশ গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে অধারা। এত কিছু সত্ত্বেও ঠিকমতো কথা বলতে না পারার জন্য র্যাগিংয়ের শিকার হতে হয়েছে অধারাকে। এমনটাই জানিয়েছেন তার মা।
তার কথায়, ‘মাত্র তিন বছর বয়সে প্রথম অটিস্টিক হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পায় অধারার মধ্যে। তারপর কমপক্ষে তিনবার স্কুল পাল্টাতে হয়েছে তার।’
তিনি আরও বললেন, ‘শিক্ষিকারা একেবারেই সহানুভূতিশীল ছিলেন না ওর প্রতি। তারা বলতেন, ও একটা কাজ ঠিকমতো শেষ করতে পারে না! এসবের ফলে আস্তে আস্তে অধারা নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছিল। সহপাঠীদের সঙ্গে খেলতে চাইত না, ওর নিজেকে আলাদা মনে হতো।’
তবে সেই অন্ধকার সময় এখন অনেকটাই পেছনে ফেলে এসেছে অধারা। তার দৃষ্টি এখন মঙ্গলে। মহাকাশচারী হয়ে এখন সেখানেই উড়ে যাওয়ার স্বপ্ন বুনছে সে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস