প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২২ ১০:২৯ এএম
আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২২ ১১:০৬ এএম
মঙ্গলের জেজিরো ক্রেটারে জীবাশ্মের খোঁজে নাসার পারসিভারেন্স রোভার।
মঙ্গলের মাটিতে প্রাণের উৎস খুঁজতে পাঠানো হয়েছে নাসার পারসিভারেন্স রোভার। এক বছর ধরে এই অত্যাধুনিক মহাকাশযান ঘুরে বেড়াচ্ছে লাল গ্রহের কোনায় কোনায়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত সেখান থেকে বহু নমুনা সফলভাবে সংগ্রহ করতে পেরেছে সেটি। পারসিভারেন্স রোভারের নজর এবার ঘুরেছে মঙ্গলের সবচেয়ে রহস্যময় গহ্বরে।
মঙ্গলের মাটিতে এক প্রাচীন নদী উপত্যকা জেজিরো ক্রেটার। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই বিশাল গর্তে একসময় ছিল টলটলে জল। আস্ত একটা হ্রদের অস্তিত্ব ছিল এই গহ্বরের পশ্চিম প্রান্তে। হ্রদের সেই পানিতে কি তবে জন্ম নিয়েছিল প্রাণও? তারই সন্ধানে নেমেছে নাসার রোভার। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সূত্রে খবর- এ মুহূর্তে জেজিরো ক্রেটারের মধ্যে যেখানে তাদের রোভারটি রয়েছে, তার দক্ষিণ-পশ্চিমেই সেই হ্রদের অবস্থান।
নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি মঙ্গলের মাটিতে রোভারটির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে। তারা জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাচীন সেই হ্রদের দিকে এগোতে শুরু করবে পারসিভারেন্স রোভার। সেপ্টেম্বরে গন্তব্যে পৌঁছাবে সেটি। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই শুকনো হ্রদটির মধ্যে যেসব পাথর রয়েছে, তাতে মিলতে পারে প্রাণের হদিস। পাথরের গায়ে সেই জীবাশ্ম খুঁজবে নাসার রোভার। তা যদি পাওয়া যায়, নিঃসন্দেহে তা মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে যুগান্তর ঘটাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞানীরা।
মহাকাশ গবেষকরা জানিয়েছেন, হাজার হাজার বছর আগে জেজিরো ক্রেটারের এই পাথরগুলো সৃষ্টি হয়েছিল কোনো এক আগ্নেয়গিরির ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণের ফলে। এই পাথরের গায়ে ক্ষুদ্র জীবাণুর অস্তিত্বের চিহ্ন মিলতে পারে, আশাবাদী বিজ্ঞানীরা। মঙ্গলে যে একসময় প্রাণের অস্তিত্ব ছিল, দীর্ঘদিন ধরেই তা দাবি করে আসছে মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। সে পথেই এবার নতুন দিশা দেখাতে চলেছে নাসার পারসিভারেন্স রোভার। সূত্র : নাসা।