প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৬:০৩ পিএম
আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৬:৪০ পিএম
স্পেনের সপ্তদশ শতকের নাট্যকার ফেলিক্স লোপে ডি ভেগার লেখা ’দ্য ফ্রেন্সওমেন লাউরা’ নাটকের মূল পান্ডুলিপি। ৩১ জানুয়ারি তোলা। ছবি : সংগৃহীত
সময় এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই)। মানুষের দক্ষতা, নিপুণতা ও গতিকে হার মানাচ্ছে এই প্রযুক্তি। পুরোনো এক স্প্যানিশ নাটকের নাট্যকারের নির্ভুল সন্ধান দিয়ে ফের আলোচনায় এসেছে এটি।
স্পেনের জাতীয় মহাফেজখানায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে ছিল অনেকগুলো নাটক ও পণ্ডুলিপি। চার-পাঁচশ বছর আগে লেখা এসব নাটক কার, কখন লেখা ইত্যাদি নিয়ে মানুষের কৌতূহল ছিল। কিন্তু সেভাবে গবেষণাও হয়নি। ফলে ওইসব তথ্য জানাও যায়নি।
কিন্তু প্রযুক্তি সেই অচলায়তন ভেঙে দিয়েছে। সম্প্রতি এআইয়ের সাহায্যে মহাফেজখানাটির অজ্ঞাতনামা ১৩শ পাণ্ডুলিপির অনুলিপি তৈরি করা হয়েছে। এসব পাণ্ডুলিপিতে ছিল সাড়ে তিনশ নাটক। কিন্তু কোন নাটকের নাট্যকার কে, সেই ধাঁধা কীভাবে সমাধান করা যায়? এই এক জটিল সমস্যা।
যথারীতি এআই-ই একমাত্র ভরসা। বিভিন্নভাবে প্রোগ্রাম তৈরি করা হলো। অবশেষে কয়েকটি নাটকের নাট্যকারের পরিচয় জানা সম্ভব হলো। পরে বিশেজ্ঞরা এআইয়ের রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।
এমন একটি নাটকের নাম ‘দ্য ফ্রেন্সওমেন লাউরা’। লেখক ফেলিক্স লোপে ডি ভেগা (১৫৬২-১৬৩৫)।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ’দ্য ফ্রেন্সওমেন লাউরা’ অন্য কোনো নাট্যকারের নাটক হলে হয়তো খবরই হতো না। কিন্তু নাটকটি যে ডি ভেগার লেখা।
ডি ভেগা স্পেনের সপ্তদশ শতাব্দীর বিখ্যাত নাট্যকার, লেখক ও ঔপন্যাসিক। বারোক বা বাস্তব জীবনের নিপুণ এই শিল্পী প্রকরণ, শব্দের ব্যবহার ও বাক্যের গঠনে স্প্যানিশ ভাষায় নতুনত্ব এনেছিলেন। স্পেনের সোনালি যুগের এ নাট্যকারের আরও দুটি বিখ্যাত নাটক হলো ’ফুয়েন্তে ওভেজুনা’ ও ’দ্য নাইট ফ্রম ওলমেডো’।
দ্য ফ্রেন্সওমেন লাউরার গল্পের প্লট ও স্থান ফ্রান্সে। ব্রিট্যানির ডিউক ও কাউন্ট আর্নাল্ডোর স্ত্রী লাউরাকে নিয়ে লেখা এই নাটক একটি কমেডি। যেখানে অসীম ভালোবাসা সত্ত্বেও আর্নাল্ডোকে প্রত্যাখ্যান করেন লাউরা। এ অবস্থায় পরশ্রীকাতর স্বামী আর্নাল্ডো বিষ দিয়ে লাউরার প্রাণনাশের চেষ্টা করে। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্যে মিলবন্ধন হয়। তারা সুখে-দুঃখে জীবনযাপন করতে থাকে।
স্পেনের প্রকাশক গ্রেডোস কয়েক মাসের মধ্যে নাটকটি প্রকাশ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
সূত্র : রয়টার্স।