প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৫ এএম
রোমের একটি ঐতিহাসিক গির্জার দেয়ালচিত্র (ফ্রেস্কো) সংস্কারের পর সেখানে অঙ্কিত এক দেবদূতের মুখের সঙ্গে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির চেহারার মিল পাওয়া গেছেÑ এমন অভিযোগ ঘিরে দেশটিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চার্চ কর্তৃপক্ষ ও ইতালি সরকার পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
ইতালির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় রোমের ‘ব্যাসিলিকা অব সেন্ট লরেন্স ইন লুসিনা’ গির্জায় বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে রোম ডায়োসিস এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় ‘অসন্তোষ’ প্রকাশ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
ইতালীয় দৈনিক লা রিপাবলিকা প্রথম এ বিষয় প্রকাশ করে। পত্রিকাটি ফ্রেস্কোটির সংস্কারের আগের ও পরের ছবি প্রকাশ করে দাবি করে, সংস্কারের আগে দেবদূতটির মুখাবয়ব ছিল সাধারণ। কিন্তু সংস্কারের পর ইতালির মানচিত্র হাতে দাঁড়িয়ে থাকা দেবদূতটির মুখের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মেলোনির বিস্ময়কর মিল দেখা যাচ্ছে।
তবে অভিযোগটি নাকচ করেছেন ৮৩ বছর বয়সী শিল্পী ব্রুনো ভালেনতিনেত্তি। তিনি জানান, ২০০০ সালে তিনিই ফ্রেস্কোটি এঁকেছিলেন এবং সাম্প্রতিক সংস্কারে কেবল রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। শিল্পীর ভাষ্য, ‘কে বলেছে এটি মেলোনির মতো দেখাচ্ছে? আমি তো আগের ছবির আদলই রেখেছি।’
গির্জার প্রধান যাজক মনসিনিয়র দানিয়েল মিশেলেত্তিও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তার মতে, পানির কারণে ফ্রেস্কোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সংস্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখানে বিতর্কের কিছু দেখছি না। ফ্রেস্কোতে শিল্পীরা নানা ধরনের অবয়ব আঁকেন।’
এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা আইরিন মানজি একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। ফাইভ স্টার মুভমেন্ট সতর্ক করে বলেছে, শিল্পকর্মকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি অবশ্য বিষয়টি নিয়ে হালকা রসিকতা করেছেন। তিনি ইনস্টাগ্রামে আলোচিত ফ্রেস্কোর ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবেই দেবদূতের মতো দেখতে নই।’