প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৩৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে সাগরের তলদেশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বহু বছরের পুরনো গুপ্তধন। ফ্লোরিডার বিখ্যাত ‘ট্রেজার কোস্ট’ থেকে একদল ডুবুরি এসব মূল্যবান সম্পদ উদ্ধার করেছেন। বাজারমূল্যে যা প্রায় ১০ লাখ ডলার এবং বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২ কোটি ১৭ লাখ।
উদ্ধার করা সম্পদের মধ্যে রয়েছেÑ এক হাজারেরও বেশি স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মুদ্রাগুলো ১৭১৫ সালে স্পেনে পাঠানো এক নৌবহরের অংশ ছিল। সে সময় বলিভিয়া, মেক্সিকো ও পেরুর স্প্যানিশ উপনিবেশগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ গহনা ও ধাতব মুদ্রা জাহাজে করে পাঠানো হচ্ছিল। কিন্তু ঝড়ে পড়ে পুরো বহরটি ডুবে যায় এবং সমুদ্রের তলদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
ফ্লোরিডার ‘ট্রেজার কোস্ট’ থেকে এর আগে আরও বহুবার গুপ্তধন উদ্ধার হয়েছে। গত কয়েক বছরে এখান থেকে কোটি কোটি ডলারের ধাতব মুদ্রা উদ্ধার করেছেন অনুসন্ধানকারীরা। তবে এবার উদ্ধার হওয়া মুদ্রাগুলো শুধু আর্থিক মূল্যেই নয়, ঐতিহাসিক গুরুত্বেরও দাবিদার। মুদ্রার অনেকগুলোতেই তৈরি হওয়ার সময় ও স্থান স্পষ্টভাবে খোদাই করা আছে, যা ইতিহাসবিদদের জন্য মূল্যবান তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গুপ্তধন অনুসন্ধানকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান কুইন জুয়েলসের বিশেষজ্ঞ ডুবুরিরা এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা স্যাল গুটোসো বলেন, এটা শুধু গুপ্তধন নয়, ইতিহাসের এক জীবন্ত নিদর্শন। প্রতিটি মুদ্রা অতীতের মানুষের জীবন ও স্পেন সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগের সঙ্গে আমাদের সংযোগ ঘটায়।
কুইন জুয়েলসের ডুবুরিরা ধাতু শনাক্তকরণ যন্ত্র ও হাতে ধরা ফ্যান ব্যবহার করে সাগরের তলদেশে বালু সরিয়ে অত্যন্ত সতর্কভাবে অনুসন্ধান চালান। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ১৭১৫ সালের ‘ট্রেজার ফ্লিট’ নামের জাহাজডুবির স্থান থেকে উদ্ধারকাজের একচেটিয়া অধিকার তাদেরই রয়েছে।
তৎকালীন সেই বহরে ছিল ১১টি জাহাজ, যা ঝড়ে পড়ে পুরোপুরি ধ্বংস হয় এবং প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী, এই গুপ্তধনের মালিক হবে স্থানীয় সরকার; অর্থাৎ সম্পদগুলো অঙ্গরাজ্যের মালিকানায় থাকবে।