প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৫ ১০:৪৮ এএম
পরীক্ষায় ফেল করার ঘটনায় আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটে থাকে। তবে আলজেরিয়ায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এক নারী ২৬ বছর ধরে নিজের পারিবারিক বাড়িতেই একাকী বন্দি ছিলেন। সম্প্রতি এক প্রতিবেশী বিষয়টি পুলিশের নজরে আনলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। তিনি স্বেচ্ছায় বা অন্য কোনো কারণে বাইরে আসেননি। জানা গেছে, তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফেল করার পর এই দীর্ঘ সময় নিজের ঘরে নিজেকে অবরুদ্ধ করেছিলেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, অনলাইনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই নারীর থাকার পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা। বাড়ির ভেতরে তার জিনিসপত্র এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। ঘরের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, কেউ ভেতরে প্রবেশ করলেও অবস্থা দেখে চমকে যায়।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, যে কেউ তার কাছে গেলে তিনি চিৎকার করতেন এবং মাঝে মাঝে আঘাতও করতেন। যদিও একই বাড়িতে তার ভাইবোনরা থাকতেন, তবুও তারা তাকে সাহায্য করতে বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিলেন না।
অবশেষে এক স্থানীয় বাসিন্দার তথ্য দেওয়ার পর পুলিশ এবং সিভিল ডিফেন্স টিম তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা তাকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে এসেছেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ও যত্ন নিশ্চিত করা হয়েছে।
আলজেরিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম আল-নাহারের খবরে বলা হয়েছে, ১৯৯৯ সালে ১৭ বছর বয়সি নাদিয়া উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন কিন্তু ফেল করেন। এই ব্যর্থতা তার জন্য গভীর মানসিক ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায় এবং তিনি এর ফলে নিজেকে ২৬ বছর ধরে গৃহবন্দি করে রাখেন। নাদিয়ার বয়স এখন ৪৩ বছর, চুল সাদা হয়ে গেছে।
ঘটনাটি আলজেরিয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ এবং অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। দেশজুড়ে মানুষ প্রশ্ন করছেন, কীভাবে ২৫ বছর একজন মানুষ এইভাবে একাকী থাকতে পারে, অথচ তার পরিবার বা সমাজ কোনোভাবে হস্তক্ষেপ করেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা দেশের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অভাবের দিকে নজর দিয়েছে। একজন লিখেছে, ‘ফেল করার পর যদি সে মনোবিজ্ঞানীর কাছে যেত, হয়তো সে সুস্থ হয়ে উঠতে পারত।’ অন্যরা দাবি তুলেছেন, এই ক্ষেত্রে পরিবারের দায়িত্ব ও সামাজিক সহায়তার ত্রুটি নিয়ে তদন্ত করা উচিত।