প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৫ ১১:১৩ এএম
হৃদযন্ত্রের বিরল সংক্রমণে কোমায় চলে গিয়েছিলেন চীনের হেনান প্রদেশের ১৮ বছর বয়সি এক তরুণী। চিকিৎসকরা আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। কিন্তু এমন সময় পরিবারের হাতে এলো এক সুখবর। জিয়াং চেননান নামে ওই তরুণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ভর্তির চিঠিও পাঠিয়েছে। সেই ভর্তির চিঠিই হয়ে উঠল আশ্চর্য এক ‘ওষুধ’, যা জিয়াংকে আবারও ফিরিয়ে এনেছে জীবনযুদ্ধে।
হংকং থেকে প্রকাশিত সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, গত জুনে চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ‘গাওকাও’ শেষ করেন জিয়াং চেননান। স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে নিজের জীবন গড়ে তোলার। কিন্তু ১১ জুলাই, পরীক্ষা শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন, সঙ্গে বুকে চাপ অনুভব করতে থাকেন। পরিবার দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসকরা জানান, জিয়াংয়ের শরীরে ধরা পড়েছে ‘ফুলমিন্যান্ট মায়োকার্ডাইটিস।’ এটি এক বিরল ও মারাত্মক রোগ, যেখানে হঠাৎ হৃদযন্ত্রে তীব্র প্রদাহ হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যে রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে। ভাইরাস, মানসিক চাপ কিংবা অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এর কারণ হতে পারে, তবে জিয়াংয়ের ক্ষেত্রে সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।
অবস্থার অবনতি হলে জিয়াংকে অন্য এক বড় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই কোমায় চলে যান তিনি। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) কৃত্রিম হৃদযন্ত্র-ফুসফুসের সহায়তায় তাকে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছিল। চিকিৎসকরা জানালেন, অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।
এদিকে পরিবারের অবস্থা নাজুক। জিয়াংয়ের বাবা গত বছর এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাঁটাচলায় অক্ষম হয়ে পড়েন এবং কাঁধে প্রচুর ঋণের বোঝা। মা রাস্তার ধারে খাবার বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। বাড়িতে আরও এক ছোট ভাই আছে স্কুলপড়ুয়া। জিয়াংয়ের চিকিৎসার খরচের পেছনে এরই মধ্যেই ২ লাখ ইউয়ানের (প্রায় ২৮ হাজার ডলার) বেশি খরচ হয়ে গেছে। এই টাকা জোগাড় করতে পরিবার বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়েছে।
এরপরই একদিন এলো সুসংবাদ। জিয়াং কোমায় যাওয়ার অষ্টম দিন, ডাকবাক্সে এসে পৌঁছল একটি খামÑ তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চিঠি। মেয়ের স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ সফল হয়েছে। বাবা আর দেরি করলেন না। চিঠি হাতে নিয়ে হাসপাতালের আইসিইউতে মেয়ের কাছে পৌঁছলেন। কোমায় থাকা মেয়ের কানে কানে বললেন, ‘আমরা সবাই খুব খুশি, তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছ!’
চমকপ্রদভাবে জিয়াংয়ের বাবা দেখলেন তার মেয়ের চোখের পাতা কেঁপে উঠেছে। চিকিৎসকরা বললেন, কোমা থেকে ফিরে আসার লক্ষ্যে সাড়া দেওয়ার লক্ষণ হতে পারে। পরিবারে নতুন করে আশার আলো জ্বলে উঠল। পরদিন সকালে ঘটলও আরও বিস্ময়কর ঘটনাÑ জিয়াং চেননান জ্ঞান ফিরে পেলেন। ভিডিও কলে বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বললেন, যদিও কথা বলা তখনও কষ্টকর ছিল। কিন্তু দুই হাত তুলে ‘ওকে’ ভঙ্গি করে বুঝিয়ে দিলেন, তিনি খুশি এবং শুনতে পাচ্ছেন সবকিছু।
চিকিৎসকরা বললেন, তার হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক এবং অবস্থা স্থিতিশীল। কীভাবে এত দ্রুত তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন, তার সঠিক কারণ এখনও অজানা।
জিয়াং হেনান প্রদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হুয়াংহে ট্রান্সপোর্টেশন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছেন। তার গাওকাও পরীক্ষার নম্বর প্রকাশ করা হয়নি। পরিবার জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরেই জিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া শুরু করবে। জিয়াংয়ের বাবা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘অর্থনৈতিক অবস্থা যতই কঠিন হোক, আমি তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাব। এটা তার স্বপ্ন। সে যেন নিজের জীবন নিজের মতো করে গড়তে পারে, সেই সুযোগ দেব।’