প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ডলফিনকে প্রাণিজগতের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রজাতির একটি হিসেবে ধরা হয়। সমুদ্রজীব বিজ্ঞানীদের মতে, তারা শুধু শিকার ধরতে নয়, আনন্দ ও কৌতূহল মেটাতেও নানা কৌশল ব্যবহার করে। এবার বিবিসি ওয়ানের নতুন তথ্যচিত্রে ধরা পড়েছে তাদের বুদ্ধিমত্তার এক চমকপ্রদ দিক, পাফার মাছ ব্যবহার করে ‘নেশা’ করা!
‘ডলফিনস: স্পাই ইন দ্য পড’ নামের এই ধারাবাহিক তথ্যচিত্রে দেখা যায়, একদল তরুণ ডলফিন খুব সাবধানে পাফার মাছ ধরে খেলছে। উত্তেজিত হলে পাফার মাছ শরীর থেকে স্নায়বিক বিষ (নিউরোটক্সিন) ছাড়ে। বেশি মাত্রায় এটি প্রাণঘাতী হলেও অল্প পরিমাণে নেশার মতো প্রভাব ফেলে।
ফুটেজে দেখা যায়, ডলফিনরা পাফার মাছকে আলতো করে কামড়ে একে অপরের দিকে ঠেলে দেয়। এরপর আচরণে পরিবর্তন আসে—তারা ধীরে পানির ওপর ভেসে থাকে, যেন নিজেদের প্রতিবিম্বে মুগ্ধ। চোখ-মুখে ঘোরের ছাপ স্পষ্ট।
প্রযোজক ও প্রাণিবিজ্ঞানী রব পিলি জানান, তরুণ ডলফিনরা সচেতনভাবেই এমন কিছুর সঙ্গে পরীক্ষা চালাচ্ছিল যা নেশার মতো প্রভাব ফেলে। তারা মাছটিকে এমনভাবে সামলাচ্ছিল যেন সঠিক মাত্রায় বিষ বের হয়। এরপর তারা ঘোরের মধ্যে ভেসে বেড়াচ্ছিল—এটি অনেকটা সেই অদ্ভুত মানব প্রবণতার মতো, যেখানে কেউ নেশার জন্য ব্যাঙ চাটত।
তথ্যচিত্র নির্মাতারা কৃত্রিম কচ্ছপ, মাছ ও স্কুইডের ভেতরে বিশেষ ক্যামেরা লুকিয়ে ৯০০ ঘণ্টা ফুটেজ ধারণ করেছেন। এর মধ্যে পাফার মাছ দিয়ে ডলফিনদের ‘নেশা’ করার দৃশ্য ছিল অন্যতম আকর্ষণ।