প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ ১০:২৮ এএম
ঘুড়ি ওড়ানো জনপ্রিয় বিনোদনমূলক খেলা হলেও অনেক দেশে এটি নিয়ে কঠোর আইন ও বিধিনিষেধ রয়েছে।
বিকালে মাঠ কিংবা ছাদে ঘুড়ি ওড়ানো প্রাচীন খেলার একটি। বিশেষ করে বাংলাদেশে। পুরান ঢাকায় পৌষ মাসের শেষদিন, অর্থাৎ পৌষ সংক্রান্তিতে ঘুড়ি ওড়ানো উৎসব পালন করা হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিশ্বকর্মা পূজার দিন ঘুড়ি ওড়ানোর প্রথা চালু আছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান প্রভৃতি দেশে ঘুড়ি ওড়ানো একটি অবসরমূলক বিনোদন। তবে ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য বিভিন্ন দেশে আছে নানা নিয়মকানুন। তা না মানলে হয় জেল-জরিমানা।
ঘুড়ি ওড়ানো জনপ্রিয় বিনোদনমূলক খেলা হলেও অনেক দেশে এটি নিয়ে কঠোর আইন ও বিধিনিষেধ রয়েছে। এসব আইন সাধারণত জননিরাপত্তা, পরিবেশ, বিমান চলাচল এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।
ভারতে ঘুড়ি ওড়ানোর ক্ষেত্রে বেশকিছু আইন রয়েছে, বিশেষ করে ভারতীয় বিমান আইন, ১৯৩৪ অনুযায়ী। ঘুড়ি একটি এয়ারক্রাফ্ট হিসেবে বিবেচিত এবং এটি ওড়ানোর জন্য বিশেষ অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। যদি কোনো ব্যক্তি ঘুড়ি ওড়ানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটে বা জনসাধারণের ক্ষতি হয়, তবে তাকে জরিমানা বা কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।
বিশেষ করে মাঞ্জা (ধাতব বা কাচের গুঁড়ো মেশানো সুতা) ব্যবহারে অনেক রাজ্যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, কারণ এটি গুরুতর আঘাত বা মৃত্যু ঘটাতে পারে। দিল্লি ও গুজরাটে বেশকিছু দুর্ঘটনার কারণে মাঞ্জা ব্যবহারে কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
পাকিস্তানে ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য কঠোর আইন রয়েছে, বিশেষ করে পাঞ্জাব প্রদেশে। ঘুড়ি ওড়ানো বিশেষত বাসন্তী উৎসব (বসন্তের সময়) খুব জনপ্রিয় হলেও, দুর্ঘটনা এবং বিদ্যুৎ সংযোগে বিঘ্ন ঘটার কারণে এটি নিষিদ্ধ।
বাংলাদেশে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) আইন অনুযায়ী, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ লাইন, বিমান চলাচল এবং মানুষের ওপর ঝুঁকি তৈরি করেÑ এমন ঘুড়ি ওড়ানো নিষিদ্ধ।
যুক্তরাজ্যে ঘুড়ি ওড়ানো নিয়ে বিশেষ কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। দি এয়ার নেভিগেশন অর্ডার ২০১৬ অনুযায়ী, বিমানবন্দর বা এয়ারস্পেসের কাছে ৬০ মিটারের বেশি উচ্চতায় ঘুড়ি ওড়ানো নিষিদ্ধ। যদি কেউ এই নিয়ম ভঙ্গ করে, তবে তাকে জরিমানা বা জেলের সাজা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট বিধি রয়েছে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)-এর নিয়ম অনুযায়ী, ঘুড়ি ১৫০ ফুটের বেশি উচ্চতায় ওড়ানো যায় না।
ইন্দোনেশিয়ায় ঘুড়ি ওড়ানো একটি জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হলেও, এটি নিয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। ঘুড়ির কারণে বিমান চলাচলে বিঘ্ন বা বিদ্যুৎ সংযোগে সমস্যা হলে দায়ী ব্যক্তিকে জরিমানা বা জেলে পাঠানো হয়।