প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৯:৪৫ পিএম
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৩:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
অন্য কিছু নয়, মাখন চুরি ব্যাপকভাবে বেড়েছে রাশিয়াতে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে অনেকেই মাখন চুরি করছে।
কোনো কোনো গণমাধ্যম বলছে, সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত দামের কারণে মাখন কিনতে পারছে না, ফলে তারা তা চুরি করছে। কিছু দোকান চুরি ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, নিরাপত্তাসংবলিত বাক্সের মধ্যে মাখনের প্যাকেট ঢুকিয়ে তা বিক্রি করা। ব্রিটিশ গণমাধ্যম এক্সপ্রেস এ খবর দিয়েছে।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রকাশিত মস্কোভস্কি কমসোমোলেতস সংবাদপত্রে মাখন চুরি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কিছ সুপারমার্কেটে দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রির এলাকা থেকে মাখন সরিয়ে নিয়ে তা ক্যাভিয়ার বিক্রি করার বিশেষ ফ্রিজে রাখা হয়েছে। ওই ফ্রিজগুলো দোকানের বিল গ্রহণকারীর পাশে রাখা হয়।’
মস্কোভস্কি কমসোমোলেতস সংবাদপত্রে আরও বলা হয়েছে, কোনো কোনো চেইন শপে চুরি প্রতিরোধক বিশেষ বাক্সে মাখন রাখা হচ্ছে। একজন সুপারমার্কেট কর্মী সংবাদপত্রটিকে জানিয়েছে, মাখনের চুরি এখন অনেকটাই বেড়ে গেছে। কখনও কখনও প্রতি ঘণ্টায় ১০-১৫ প্যাকেট মাখনও চুরি হয়ে যাচ্ছে।
আরেকটি রুশ সংবাদপত্র নেজাভিসমায়া জানিয়েছে, ডলারের বিপরীতে রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের দাম অনেকটা কমে গেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র নতুন দফার যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, সে কারণেই রুবলের এই মূল্যপতন। সাম্প্রতিক সময়ে রুবল বেশ দুর্বল হয়েছে এবং একপর্যায়ে প্রতি ডলারের দাম দাঁড়ায় ১১৫ রুবলে। তবে গত কয়েক দিনে রুবলের দাম সামান্য বেড়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ায় মূল্যস্ফীতি বেশ বেড়েছে। ফলে বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। স্তানিস্লাভ নামে মস্কোর একজন বাসিন্দা সিএনবিসিকে বলেন, ‘তিন বছর ধরে মৌলিক খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। প্রতিদিনই পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে, দাম বাড়ছে। বিশেষ করে চলতি বছরে মূল্য পরিস্থিতি বেশি খারাপ হয়েছে।’
মস্কোর ওই বাসিন্দা আরও বলেন, ‘অবশ্য পণ্যের দাম কমেছেও। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাজরার দাম কমেছে। কোভিড মহামারির সময় ২০২০ সালে এই শস্যের দাম আরও অনেক বেশি ছিল। এখন এর দাম সেই সময়ের তুলনায় তিনগুণ কম। কিন্তু দাম কমার এটি একমাত্র উদাহরণ। অন্যসব খাবারের দাম বেড়েই চলেছে। আমার মনে হয়, প্রতিবছর ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ছে।’