প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:৩৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
স্তন্যপায়ী অন্য প্রাণীদের মধ্যে ডলফিনকে সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী বলেই বিবেচনা করা হয়। বুদ্ধিমান এই প্রাণী মানুষের মতোও মাদকসেবী হতে পারে। ভুল বোঝার কারণ নেই। ডলফিনের মাদকগ্রহণের বিষয়টি অত ভয়ংকর কিছু নয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, সমুদ্রে বিচরণকারী এক ধরনের পটকা মাছ যাদের বলা হয় পাফার ফিশÑ তাদের সংস্পর্শে এলেই ডলফিনরা নেশাগ্রস্ত হতে পারে। একটি ডকুমেন্টারিতেও এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ডলফিনগুলো পাফার মাছের আশপাশে ঘুরপাক খায়। বিরক্ত হয়ে পাফার মাছ টক্সিন নির্গত করে। এই নার্ভ টক্সিনগুলোই মূলত ডলফিনের মাদক।
মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে এই টক্সিন বেরোলে অবশ্য যেকোনো ডলফিনই মারা যেতে পারে। অবশ্য এই পাফার মাছ বিষাক্ত হলেও জাপানে সুস্বাদু ও অত্যন্ত দামি খাবার বলেই বিবেচিত। তবে অভিজ্ঞ শেফরাই পারেন পুরোপুরি টক্সিন দূর করে মাছ রান্না করতে। রান্না তো আর না, কাঁচা অবস্থাতেই সাশিমি বানিয়ে ফেলা। যাহোক, ডলফিন বুদ্ধিমান তা তো আগেই বলা হয়েছে। তারা এমনভাবে পাফার মাছগুলোকে বিরক্ত করে যাতে সামান্য পরিমাণ টক্সিন নির্গত হয়। সমুদ্রের পানিতে তা চারপাশে ভেসে বেড়ায় বলে ডলফিনের গায়ে অত বেশি লাগে না। আর তারা এমনভাবে পাফার মাছকে বিরক্ত করে যাতে যথেষ্ট পরিমাণ টক্সিনই বের হয়। একবার টক্সিনের সংস্পর্শে এলে ডলফিনরা এক ধরনের স্থবির অবস্থায় চলে আসে।
বিবিসির স্পাই ইন দ্য পড নামক বিখ্যাত এক সিরিজের এক পর্বে এই অদ্ভুত আচরণ প্রথম ধরা পড়ে। জন ডাউনার পরবর্তীতে এর জন্য পুরস্কারও পান। সিরিজে একজন প্রাণিবিজ্ঞানী রব রিলি কাজ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘ডলফিনরা ইচ্ছে করেই এমনটা করে যাতে তারা নেশাগ্রস্ত হতে পারে। তারা খুব নম্রভাবে পাফার মাছগুলোকে চিবিয়ে খাওয়ার ভঙ্গি করে। আর যখন পাফার মাছগুলো মুক্ত হয়ে যায় তখন টক্সিন ছাড়ে। আর ডলফিনগুলো নাক দিয়ে তা শুষে নেয়।’ এ দৃশ্যকে তিনি অসাধারণ বলে রায় দিয়েছেন।
সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট