প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:০৫ এএম
আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:০৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ইয়োগার শিক্ষক তিনি। অবশ্য পাশাপাশি কম্পিউটার প্রোগ্রামিংও করেন। সংগতই ইয়োগা বা যোগব্যায়াম নিয়েই আলাপ করবেন। কিন্তু রাশিয়ার ওই শিক্ষককে ‘অবৈধ মিশনারি কার্যক্রমের’ জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জঙ্গি তৎপরতা বন্ধে বিতর্কিত একটি আইন রয়েছে। আর এই আইনের আওতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাও কিনা ইয়োগা নিয়ে কথা বলার মধ্যে জঙ্গিবাদের আলামত খুঁজে পাওয়া গেছে। দমিত্রি উগায় নামে ওই ব্যক্তি সেন্ট পিটার্সবার্গ ফেস্টিভ্যালে বক্তব্য দেওয়ার সময় আচমকা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। মূলত কম্পিউটার প্রোগ্রামিং করার মাধ্যমে তিনি মিশনারি কার্যক্রম চালাচ্ছিলেনÑ এমন অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। গত বছর ইরোভায়া আইন অনুযায়ী এমন কাজ করা বেআইনি। ভ্লাদিমির পুতিন নিজেও মিশনারিদের কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য কড়াকড়ি আরোপ করেছেন। অন্য ধর্মীয় সংস্থা বা সংখ্যালঘু ধর্ম সম্প্রদায়কে রক্ষার জন্যই এমন আইন। তবে এই বিতর্কিত আইনের কারণে যেকোনোভাবেই গ্রেপ্তার বা সন্দেহভাজন হতে হয়।
উগায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগÑ তিনি যোগব্যায়ামের কথা বললেও একটি সিউডো হিন্দু সংস্থার হয়ে কাজ করেন। তবে এ অভিযোগ উগায় অস্বীকার করেন। তিনি উল্টো জানান, তাকে কারণ ছাড়াই আটক করে একটি সাদা কাগজে সাইন করতে বাধ্য করা হয়। তিনি নিজেকে সনাতন ধর্মানুরাগী মেনে নিলেও ধর্ম প্রচারের অভিযোগ অস্বীকার করেন। বরং তিনি জানান, যোগব্যায়ামের বিষয়ে আলোচনার সময় দার্শনিক ভিত্তি উপস্থাপনের খাতিরেই অনেক সময় ধর্মীয় প্রসঙ্গ আসে। তিনি জানান, আমি কোনো জঙ্গি নই। আর আমার কথায় কোনো ধর্মবাণী থাকে না। আমি কোনো ধর্মগ্রন্থেরও প্রচার করি না।
বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এই আইনের অপপ্রয়োগ করছে পুলিশ। উগায়ের মতে, এই আইন যেহেতু হয়েছে তাই এর বাস্তবায়নও জোর করে করার চেষ্টা চলছে। এমনটা কোনোভাবেই ভালো হতে পারে না। মাঝে আমার দুটো মাস নষ্ট হয়ে গেল কারাগারে।
সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট