× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

যে দ্বীপে শুধু খরগোশের বাস

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৪ ১১:৩৭ এএম

খরগোশ। ছবি: সংগৃহীত

খরগোশ। ছবি: সংগৃহীত

হিরোশিমা থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে ওকুনোশিমা দ্বীপকে স্থানীয়রা ‘উসাগি শিমা’ বলে ডাকে। বাংলায় এর অর্থ ‘খরগোশের দ্বীপ’। সমুদ্র পরিবেষ্টন করে রাখা এই ওকুনোশিমা দ্বীপ হিরোশিমা প্রিফেকচারের তাকেহারা শহর থেকে ২ মাইল দূরে অবস্থিত। দ্বীপটির আয়তন ৪ দশমিক ৩ বর্গকিলোমিটার। অন্তত রাশিয়া-জাপান যুদ্ধের আগ পর্যন্ত অঞ্চলটি কৃষিনির্ভর ছিল। যুদ্ধের সময় নিরাপত্তা জোরদার করতে ১০টি দুর্গ বানায় জাপান সরকার। তবে উনিশ শতকে এই দ্বীপে রাসায়নিক অস্ত্র পরীক্ষার জায়গা হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। ১৯২৯ সালে এক গ্যাস কারখানা বানিয়ে বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস তৈরি করা শুরু হয়। চীন-জাপান যুদ্ধে এসব গ্যাস ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় দ্বীপটি জাপানের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার চেষ্টাও হয়েছিল। জনসাধারণের আনাগোনাও নিষিদ্ধ হয়েছিল এই দ্বীপে। কারণ দ্বীপটির বাতাসে ভেসে বেড়াত বিষাক্ত গ্যাস।

অনেক দিন পর দ্বীপটি মানুষের বসবাসের উপযোগী কি না সেটি পরীক্ষা করতে কিছু খরগোশ ছেড়ে দেওয়া হয়। একসময় সেটি খরগোশের দ্বীপ হয়ে ওঠে। চারদিকে শুধু খরগোশ আর খরগোশ। বর্তমানে ওকুনোশিমা দ্বীপে হাজারো খরগোশ রয়েছে। এসব খরগোশ বেশ বন্ধুবৎসল। মানুষ দেখলেই ছুটে আসে। খরগোশের এই দ্বীপ এখন হয়ে উঠেছে পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটকরা এখানে শুধুই খরগোশ দেখতে আসে। খরগোশের জন্য আলাদা খাবারও পাওয়া যায়। পর্যটকরা প্যাকেটে করে খরগোশের জন্য গাজর, বাঁধাকপি প্রভৃতি নিয়ে যায়। প্যাকেট ভরা খাবারের টানে খরগোশগুলোও ছুটে যায় পর্যটকদের দিকে। সম্প্রতি ওকুনোশিমা দ্বীপে পর্যটকদের কুকুর-বিড়াল নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে জাপান সরকার। তবে অন্যান্য পোষা প্রাণী সঙ্গে করে নিয়ে যেতে কোনো অসুবিধা নেই। এই দ্বীপের খরগোশের সুরক্ষায় কাজ করছে জাপানের বন্য প্রাণী অধিদপ্তর। তারা বলছে, খরগোশ ভেজা চামড়া বা নষ্ট সবজি খায় না। পাশাপাশি তাদের পেটে আলু হজম হয় না। আবার মানুষের বিভিন্ন খাবার বা স্ন্যাকস তাদের দেওয়া যাবে না। তাই তাদের জন্য নির্দিষ্ট খাবার নিতে হবে। কেউ যদি তার পোষা খরগোশকে এখানে এনে ছেড়ে দেয়, তবে তা সুখকর হবে না। বন্য খরগোশের সঙ্গে পোষা খরগোশের মিশতে অসুবিধা হবে। বন্য খরগোশের আক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা একদম উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

১৯৮৮ সালে জাপান সরকার ওকুনোশিমায় বিষাক্ত গ্যাস জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করে। উদ্দেশ্য ছিলÑ বিষাক্ত গ্যাস সম্পর্কে সচেতনতা, যুদ্ধের ভয়াবহতার কথা জানানো। আজও রয়েছে রাসায়নিক প্ল্যান্টের ধ্বংসাবশেষ। জনশ্রুতি আছে, রাসায়নিক কারখানায় খরগোশদের ওপরেও গ্যাস পরীক্ষা করা হতো। তবে সেসব খরগোশের সঙ্গে এখনকার খরগোশের কোনো সম্পর্ক নেই। সেখানকার প্রাচীন দুর্গগুলো এখনও রয়েছে।

সূত্র : ওসাকা নিউজ

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা