মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৪ ১৩:০৩ পিএম
আপডেট : ২৫ মে ২০২৪ ১৫:১০ পিএম
সুগন্ধি আগর কাঠ ও আগর তেল বহুভাবে ব্যবহার হয়।
সুগন্ধি উৎপাদনকারী আগর গাছ বা agarwood হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি কাঠগুলোর অন্যতম; যার ১ কেজি প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত ভালো মানের কাঠের দাম ১ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।
শতভাগ রপ্তানিমুখী এ কাঠ থেকে বাংলাদেশে উৎপাদিত নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল বা আতর বা liquid resin-এর দাম আন্তর্জাতিক বাজারে গড়ে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। সুগন্ধি আগর কাঠ ও আগর তেল বহুভাবে ব্যবহার হয়- আতর/পারফিউমারি পণ্য তৈরিতে, দামি কসমেটিক তৈরিতে, হারবাল ওষুধ তৈরিতে, শৌখিন ও অ্যান্টিক দ্রব্য হিসেবে এবং ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনে ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে।
তথ্য-উপাত্ত বলছে, সারা বিশ্বে আগরপণ্যের বাজার বছরে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। এবং তা প্রতি বছর ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে। তথ্যমতে, গত বছর বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আগরপণ্য উৎপাদন হয়েছে, সে হিসেবে বিশ্ববাজারে আগরপণ্যে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বেশ সামান্যই। আদতে আগর নিয়ে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ১২ বিলিয়নের অর্ধেক অর্থাৎ ৬ বিলিয়ন না হলেও তিন ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ৪ বিলিয়ন হতে পারে বা হওয়া সম্ভব।
সমীক্ষামতে, গত বছর দেশের গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি বিদেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। ভেবে দেখা প্রয়োজন, এ ৩৫ বিলিয়ন ডলার থেকে দেশ নিট মুনাফা করেছিল কত? এত বিপুল মূল্যের পণ্য তৈরিতে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করতে হয়েছে কত বিলিয়ন ডলারের? এ ছাড়া বিদেশি এক্সপার্ট ও বিনিয়োগকারীরা কত বিলিয়ন ডলার নিজ দেশে নিয়ে গেল রেমিট্যান্স হিসেবে? গার্মেন্টগুলো তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ার জন্য কত বিলিয়ন ডলারের যন্ত্রাংশ আমদানি করল? কত ডলারের অ্যাক্সেসরিজ আমদানি করল? সব হিসাবের পর দেখা যাবে, মজুরি ও রাজস্ব দেওয়ার পর দেশি গার্মেন্ট মালিকদের আয় মিলে কমবেশি ১০ শতাংশের মধ্যে থাকে; যা ৩ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হয়তো থাকবে।
গার্মেন্ট সেক্টরের প্রসঙ্গটি নেতিবাচক অর্থে তুলনায় আনা হয়নি মোটেই। বরং বোঝাতে চাওয়া হয়েছে, বাংলাদেশ যদি পরিকল্পিতভাবে আগরপণ্য নিয়ে বিশ্ববাজারে যায়, তবে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যায় অনায়াসেই। এ পণ্য তৈরিতে বিদেশ থেকে প্রায় কিছুই আমদানি করতে হবে না। তার মানে আয়কৃত বৈদেশিক মুদ্রার সবটাই দেশের নিট আয়; যা গার্মেন্ট সেক্টরের নিট আয়কৃত বৈদেশিক মুদ্রার প্রায় সমপরিমাণ।
আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিগুলো প্রায় সবই শহর এলাকায়। আগরসম্পর্কিত শিল্প/ব্যবসাগুলো গ্রাম এলাকায় গড়ে তোলা সম্ভব। এতে গ্রামে বসবাসরত মানুষের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের ভাগ্যোন্নয়ন যেমন হবে, তেমন তাদের শহরমুখিনতাও কমবে।
এ ছাড়া সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক বিদেশি জাতের ইউক্যালিপটাস, অ্যাকাশিয়ার মতো গাছের প্রজাতি আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা হুমকিস্বরূপ তা অভিজ্ঞজনেরাই জানেন। এ অবস্থায় আমাদের এ অঞ্চলের আদিবৃক্ষ ‘আগর গাছ’ দিয়েই এর মোকাবিলা করা সম্ভব।