ইয়ালিনা তাসিফা
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৪ ১১:৫৭ এএম
আপডেট : ২৩ মে ২০২৪ ১২:০৮ পিএম
সুন্দর ছবি এঁকেছে মুবাশশিরা মুরতাষা মৌণতা। সে ঢাকার মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী
গরমে স্কুল বন্ধ। এ সুযোগে মিলি আর পাপলু নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছে। ওরা আগে নানাবাড়িতে যখন এসেছিল সেবার প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়েছিল! তখন মজাদার পিঠেপুলি খেয়েছিল। কত যে মজায় কেটেছিল সেবারের ছুটিটা। নানির কাছে ভয়ানক ভূতের গল্প শোনার কথা মনে হলে তো এখনও নানির কাছে ছুটে যেতে ইচ্ছে করে। এবার স্কুল ছুটি দেওয়ার পরই সিদ্ধান্ত হলো নানাবাড়িতে ছুটি কাটাবে! বাবা-মাও রাজি হয়ে গেলেন। কী আনন্দ! কী মজা! ব্যাগপত্তর। কাপড়চোপড় গোছগাছ করা হলো। নানাবাড়ির পথে রওনা দিল। গভীর রাতে নানাবাড়ি পৌঁছল। মনটা তখন আনন্দে নেচে উঠল। ওদের আসার খবর শুনে মামতো ভাই পলাশ, বোন রোজি, খালতো ভাই রেজা চলে এসেছে। সকালে ওদের সঙ্গে দেখা হয়ে আরও ভালো লাগল। নাতি-নাতনিদের কাছে পেয়ে নানা-নানিও মহাখুশি! সবার স্কুল ছুটি। তাই সকালে সবার সঙ্গে দেখা হলো। সবাই মিলে সকালবেলা বাড়ির বড় উঠানেই খেলাধুলা করতে লাগল। গরমে ভরদুপুরে তাদের বের হওয়া নিষেধ! কিন্তু কে শোনে কার কথা। খাওয়ার পর সবাই ঘুমিয়ে পড়লে চুপিচুপি তারা বের হয়ে যেত। পাশের বাড়ির মিন্টু, রিনা, শিউলি ও নীরা ওদের দলে যোগ দিত। সারা দুপুর মাঠঘাট, নদীর পাড়। কত জায়গায় যে ছুটে বেড়াল। এক দিন ভরদুপুরে একটি বড় আমগাছের নিচে বসে খেলছিল। পাপলুর খুব গরম লাগায় সে গাছের একটু দূরে পুকুর পাড়ের বাঁধানো ঘাটে বসেছিল। হঠাৎ পাপলু লক্ষ করল পরিবেশটা কেমন যেন নীরব ও ঠান্ডা হয়ে গেল। যেন সবকিছু দম বন্ধ করে খুব বড় কিছু ঘটার অপেক্ষা করছে। খেলা থেকে রোজি উঠে বলল আকাশে মেঘ জমেছে। দমকা হাওয়া বইবে। লক্ষণ ভালো না। চলো আমরা বাড়ি ফিরি। এর মধ্যে মলির পিঠে কী যেন একটি পড়ল। সে দেখল বাতাসে গাছ থেকে মাটিতে অনেক আম পড়তে লাগল! এক-দুই ফোঁটা করে বৃষ্টি পড়তে শুরু করল। শিউলি বলে উঠল এটি হলো আম কুড়ানোর সময়, প্রথমে মিলি এবং পাপলু রাজি না হলেও পরে অতি উৎসাহ নিয়ে তারা আম কুড়াতে লাগল! একদিকে দমকা হাওয়া বইছে, বৃষ্টি পড়ছে ঝিরিঝিরি! এর মাঝে আম কুড়ানোর মজাই আলাদা। বৃষ্টিটা জোরে আসার পরও তারা আম কুড়ানো বন্ধ করল না এবং শেষে বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে বাড়ি ফিরল। নানা-নানি, বাবা-মা প্রথমে সবাইকে বেশ বকা দিলেন। তারপর তাদের কুড়ানো আম নিয়ে নানি কেটে মেখে খেতে দিলেন। মিলি ও পাপলু আম মাখা খেয়ে অভিভূত। এত মজার আম। মুহূর্তেই আনন্দের দিনগুলো শেষ হয়ে গেল।
দশম শ্রেণি, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দিনাজপুর