× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য দিবস

নিজেরা বাঁচতে বাঁচাই প্রাণবৈচিত্র্য

অহিদুর রহমান

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৪ ১১:১৫ এএম

ছবি : ফিরোজ আল সাবাহ

ছবি : ফিরোজ আল সাবাহ

আজ আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘বি পার্ট অব দ্য প্লান’, পরিকল্পনার অংশ হও।  ১৯৯২ সালের ২২ মে কেনিয়ার নাইরোবিতে জীববৈচিত্র্যবিষয়ক কনভেনশনে দিনটিকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বাসযোগ্য একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষার বিকল্প নেই। এ বিষয়ে বিশেষ লেখা...

আধুনিক পৃথিবীর মানুষের নানামুখী প্রয়োজন মেটানোর জন্য অসংখ্য প্রাণের বিলুপ্তি ঘটেছে। শুধু কয়েকটি আলোচিত প্রজাতি বাঘ, হাতি রক্ষা করলেই প্রাণের বৈচিত্র্য রক্ষা হয় না। প্রাণের বৈচিত্র্য কমে যাওয়ার বিষয়টি পৃথিবীজুড়ে এখন আলোচনার বিষয়। প্রাকৃতিক নিয়মে পৃথিবীর পরিবর্তন যেমন ঘটছে, তেমন মানুষ তার কর্মকাণ্ডের দ্বারাও পরিবর্তন করছে প্রকৃতি।

দিনের পর দিন প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। বন হারিয়ে যায় মানে অনেক কিছু হারিয়ে যায়। নদী হারিয়ে গেলে অনেক জলজ গ্রাণের অস্তিত্ব হারিয়ে যায়। হাওর হারিয়ে গেলে অনেক মাছের বৈচিত্র্য হারিয়ে যায়। প্রকৃতির ভারসাম্য হারিয়ে যায়। ভারসাম্য কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণবৈচিত্র্য কমে যাচ্ছে। মাছ, গাছ, লতাপাতা, পাখি, বন্য প্রাণী, বনজ-স্থলজ খাবার, ধানজাত, ঔষধি গাছ, অণুজীব, ব্যাঙ, কেঁচো, মৌমাছি, প্রজাপতিসহ সব উদ্ভিদ বা প্রাণের খাদ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

মাছ ধরছে মাছরাঙা

জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দাবানল, খরা, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট, প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস, প্রাণীর খাদ্য সংকট, দুর্বল আইন, চোরা শিকারি, হাওর-জলাভূমি ও নদীর নাব্য হ্রাস, ভূমিতে অতিরিক্ত বিষপ্রয়োগ, বন্য প্রাণী নিয়ে বাণিজ্য, মানুষের নির্দয় ব্যবহারের কারণে প্রকৃতি ও মানব জাতির জন্য জরুরি এ প্রাণবৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছে দিন দিন। আমরা বাঘ, হাতি, হরিণ, কুমির এসব প্রাণীর কথা যত ভাবি অন্যসব প্রাণীর কথা তত চিন্তা করি না। কিন্তু সব প্রাণের অস্তিত্ব যে আমার প্রকৃতি-পরিবেশের জন্য গুরুত্বপুর্ণ, মানব জাতির জন্য একান্ত প্রয়োজন তা গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, পৃথিবীতে প্রাণীর বিলুপ্তি শুরু হয়েছে ৭০০ বছর আগেই। চেনাজানা ২০ লাখ প্রাণ ও উদ্ভিদের ৭ থেকে ১৩ শতাংশই হারিয়ে গেছে চিরতরে। আইইউসিএন ১৯৬৮ সাল থেকে নিয়মিত লাল তালিকা প্রকাশ করছে। তাদের মতে, পৃথিবীতে ৪০ হাজার প্রজাতি বিলুপ্ত হওয়ার পথে। এর মধ্যে ৪১ শতাংশ উভচর, ২৬ শতাংশ স্তন্যপায়ী, ১৩ শতাংশ পাখি, ৩৭ শতাংশ হাঙর ও ২১ শতাংশ সরীসৃপ জাতীয়।

প্রাণের বৈচিত্র্যই আমাদের জীবন, উন্নয়ন, শান্তি, সমৃদ্ধি। বৈচিত্র্য আছে বলেই আমাদের জীবন এত সুন্দর। এ বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতা, শ্রদ্ধাবোধের জায়গা তৈরি এবং আমাদের জীবনের জন্যই টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন বন ও বন্য প্রাণী। আইইউসিএনের সমীক্ষামতে, বাংলাদেশে ১১৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৬৩০ প্রজাতির পাখি, ১২৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ২২ প্রজাতির উভচর, ২৬১ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ, ৪৭৫ প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী, ৩২৭ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ৬৬ প্রজাতির কোরাল, অসংখ্য পোকামাকড়, ৫ হাজার প্রজাতির সপুষ্পক উদ্ভিদ যার ভেতর ১৬০ প্রজাতির শস্য রয়েছে। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশি ধানের জাত নামে একটি বইয়ে ১২ হাজার ৪৮৭টি স্থানীয় জাতের ধানের নাম উল্লেখ রয়েছে। প্রকৃতি থেকে হারিয়ে গেছে হাজারো বৈচিত্র্যের ধানের জাত। রিবই, রতিশাইল, বদ্দিরাজ, বোরো আবজি, বোরো ঝাঁপি, বিন্নি, পঙ্খিরাজ, আইজং, চাপালি, কলমিলতা, নাতিশাইল, বাইগুনবিচি, কালিজিরা, পিঁপড়ার চোখ, চিনিশাইল, তুলসীমালা, নুইন্যা, বাদশাহভোগ, চানমুনি, নুইন্যা (নেত্র), পুইট্টা আইজং, ভোলানাথ, জলকুমড়ি, তিলবাজাইল, মগি, শাইল আমন, খামা, আসকল, গইড্যামুড়ি, ঢেকিমালা, বিরন, কার্তিকশাইল, রাইমুহি, লালআনামিয়া, বাঁশফুল বালাম, দেফা, অগ্নিশাইল, লালকুমড়ি, শিরবাস, কার্তিক বিন্নি, কাচড়া, বোগরা, গোবিন্দকালার, দুধবিন্নি, খাসিপুড়ি, চরোবালাম, ডাকশাইল প্রভৃতি জাত এখন আর দেখা যায় না।

শিয়াল ছানা

প্রাকৃতিক বন হচ্ছে প্রাণীর জন্ম, বিচরণ, খাদ্য, প্রজনন ও বসবাসের উপযুক্ত জায়গা। দেশের জীববৈচিত্র্যের অফুরন্ত ভান্ডার হচ্ছে বন। যা প্রাণীর অবাধ মিউজিয়াম। বনই হচ্ছে জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণের ধারকবাহক। বন আছে বলেই উদ্ভিদ ও প্রাণী বেঁচে আছে। বন ধ্বংসের প্রধান কারণ হচ্ছে জনসংখ্যা বৃদ্ধি। জ্বালানির চাহিদা পূরণ করছে বনের কাঠ দিয়ে, বসতবাড়ি নির্মাণ, ফসল চাষাবাদ, রাস্তাঘাট নির্মাণ, নগরায়ণ, জুমচাষ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৃক্ষের পরিচর্যার অভাব, পরিবেশদূষণ, পাহাড় কাটা, পাহাড় ধ্বংস, বৃক্ষের রোগ, বনবিধি অমান্যসহ বিভিন্ন কারণে বন ধ্বংস হচ্ছে।

বনে পাহাড়ে সচরাচর বিচরণ করত বনহাঁস, সারস, প্যাঁচা, ময়না, ঘুঘু, চড়ুই, টুনটুনি, কোকিল, বেনেবউ, বউ কথা কও, টিয়া, বনমোরগ, মাছরাঙা, বক, কোয়েল, পাতিকাক, দাঁড়কাক, কাঠময়ূর, বালিহাঁস, চন্দনা, হরিয়াল, কাঠঠোকরা, ফেসকুল, বুলবুলি, ঈগল, বাজ, শকুন, হারগিলা, কাইম, ডাহুক। এসবের মধ্যে অনেক পাখিই আজ বিলুপ্তির পথে। গভীর রাতে ডাহুকের মিষ্টি ডাক শোনা যায় না।

সকাল বেলা ঘুঘুর মিষ্টি ডাক শুনে ঘুম ভাঙত। ব্যাপক নিধনের ফলে এখন আর ঘুঘুর খুব একটা ডাক শোনা যায় না। গারো পাহাড়ে বাঘ, চিত্রা ও মায়া হরিণ, রামকুত্তা, ভোঁদড়, বন্যশূকর, খেকশিয়াল মেঘলা চিতা, বাঘডাশা, গন্ধগোকুল, বড় টিকটিকি, বাদুড়, প্যাঁচা, চিল, কৌড়া, ভল্লুক, হরিণ, বানর, চিতাবাঘ, বনবিড়াল, শজারু, বনরুই, বনগরু, গুইসাপ, উদ্‌বিড়াল, কালিম, সোনালি বিড়াল, কচ্ছপ, কাউট্টা, গেছোবাঘ, উল্লুক, সোনাগুইল, হনুমান, খরগোশ, গোয়াল, লজ্জাবতী বানর, চশমাপরা বানর, বনছাগল, অজগর, বাঘ, নীলগাই ও বন্যহাতির দেখা পাওয়া যেত। বর্তমানে এসব প্রাণীর সচরাচর বিচরণও লক্ষ করা যায় না।

গত পাঁচ দশকে বন্য প্রাণীর সংখ্যা ৬৫ শতাংশ কমেছে। প্রতি বছর কমার পরিমাণ ২ শতাংশ, এ হারে কমতে থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের ৮০ শতাংশ বন্য প্রাণী হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন ওয়ার্ল্ড জিওলজিক্যাল সোসাইটি অব লন্ডন এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের যৌথ গবেষণাপত্রে।এতে বলা হয়, ১৯৭০ সালের পর থেকে বিশ্বে ৫৮ শতাংশ বন্য প্রাণী হারিয়ে গেছে। এর মধ্যে নদ-নদী, হ্রদ ও জলাভূমিতে থাকা জীবজন্তুই বেশি পরিমাণে নিশ্চিহ্ন হয়েছে। এজন্য গবেষকরা মানবিক তৎপরতা বৃদ্ধি, আবাসস্থল ধ্বংস, বন্য প্রাণীর ব্যবসা, দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো কারণগুলোকে দায়ী করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী পৃথিবীতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ যে হারে বাড়ছে তার প্রভাবে প্রাণীদের পক্ষে সুস্থভাবে বেঁচে থাকাটা দায় হয়ে উঠেছে।

১৯৯২ সালে ২১ মে সুন্দরবনকে রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর বনের অভয়ারণ্য এলাকাকে ৭৯৮তম বিশ্বঐতিহ্য ঘোষণা করে ইউনেস্কো। এ এলাকাটির মোট আয়তন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ হেক্টর। বাংলাদেশ সরকার দেশে ২৪টি বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য, ১৯টি জাতীয় উদ্যান, দুটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা, তিনটি মেরিন প্রকটেটেড এলাকা, একটি উদ্ভিদ উদ্যান, তিনটি ইকো পার্ক, দুটি শকুন নিরাপদ এলাকা ঘোষণা করেছে। ১২ হাজার ৬৫৫ হেক্টর এলাকাজুড়ে টাঙ্গুয়ার হাওর ‘মাদার অব ফিশারিজ’ বা মা হাওর নামে পরিচিত। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার ১৮টি মৌজাজুড়ে এ হাওরের অবস্থান। হাওরে আছে ১০৯টি বিল। হাওরপারের ৮৮টি গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষের জীবনজীবিকা এ হাওরের ওপর নির্ভরশীল। ২০০০ সালের ২০ জানুয়ারি এ হাওর দ্বিতীয় রামসার সাইট হিসেবে ঘোষিত হয়। বর্তমানে নির্বিচারে মাছ শিকার, পাখি শিকার, নানা প্রজাতির গাছসহ জলাবন কাটা, ইঞ্জিনচালিত নৌকার অবাধ চলাচল, পর্যটকদের উচ্ছিষ্ট খাবার, মলমূত্র, প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন টাঙ্গুয়ার হাওরে ফেলে দেওয়ার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে দেশের দ্বিতীয় বিশ্বঐতিহ্য বা রামসার সাইট। টাঙ্গুয়ার হাওরে ২২ বছরে বিলুপ্ত হয়েছে ৫০ প্রজাতির মাছ। ২০০০ সালের দিকে এ হাওরে ১৪৩ প্রজাতির মাছের অভয়াশ্রম ছিল। বর্তমানে ৯৩ প্রজাতির মাছ রয়েছে। সম্প্রতি টাঙ্গুয়ার হাওরকে নিয়ে গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে।

সুন্দরবনের হরিণ

ডোরাকাটা হায়েনা রাজশাহী অঞ্চলে, ধূসর নেকড়ে নোয়াখালী ও চট্টগ্রামে, নীলগাই দিনাজপুর-পঞ্চগড়ে, বান্টিং বা বনগরু চট্টগ্রাম ও সিলেটে এবং বনমহিষ দেশের সব বনাঞ্চলেই দেখা যেত। এ ছাড়া তিন ধরনের গন্ডার ছিল বাংলাদেশে- সুমাত্রা গন্ডার, জাভা গন্ডার ও ভারতীয় গন্ডার। বাদা বা জলার হরিণকে স্থানীয়ভাবে বলা হতো বারো শিঙা হরিণ। সিলেট ও হাওর এলাকায় দেখা যেত। কৃষ্ণষাঁড় নামে একটি প্রাণী ছিল রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকায়।

মহাবিপন্ন প্রাণীদের তালিকায় রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হাতি, ভোঁদড়, লামচিতা, চিতা, বনরুই, উল্লুক, চশমাপরা হনুমান, বনগরু, সাম্বার হরিণ, বানর, হিমালয়ান ডোরা কাঠবিড়ালি ও কালো ভল্লুক।

প্রাণপ্রজাতি সুরক্ষায় বাংলাদেশ সাংবিধানিকভাবে অঙ্গীকার করেছে। সংবিধানের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্য প্রাণীর সংরক্ষণ ও বিধান করিবেন।’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ (প্রিজারভেশন) অর্ডার-১৯৭৩ জারি করেন। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য ১৯৭৪ সালে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ (সংশোধিত) আইন-১৯৭৪ প্রণয়ন করেন। ১৯৭৩ সালের ৩ মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশসহ ২১ দেশের স্বাক্ষরদানের মধ্য দিয়ে গৃহীত হয় বিপন্ন বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কিত সনদ। ১৯৯২ সালের ৫ জুন ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনিরোয় অনুষ্ঠিত ধরিত্রী সম্মেলনে স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত করা হলে বাংলাদেশ অনুসমর্থন দেয় ১৯৯৪ সালের ৩ মে। আমাদের দেশে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন-২০১২ এবং বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা)-২০১৭ প্রণয়ন করা হয়।

লাল প্রবাল সাপ

২০২১ সালে গ্লাসগো সম্মেলনে গৃহীত বৃক্ষ ও বন সুরক্ষা নীতিতে স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ বৃক্ষরক্ষায় বৈশ্বিক অঙ্গীকার করেছে। তা ছাড়া জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য সরকারের ২০১২ থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান রয়েছে।

বিশেষ জাতের পাহাড়ি বাঁশঝাড় প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় পাখিরাও এ দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ৫ থেকে সাড়ে ৫ ফুট উচ্চতার একেকটি সারস বাংলার নদীর ধারে ঘুরে বেড়াত। জলাভূমির শামুক ও ঝিনুক ছিল এদের খাবার। মূলত শিকারিদের কবলে পড়ে এ বিশাল পাখিটি হারিয়ে গেছে। দেশে বর্তমানে ২৬৮টির মতো দেশি শকুন আছে বলে সর্বশেষ তথ্যমতে জানা যায়। তার পরও মাঝে মাঝে শকুনের লাশ পাওয়া যায় বনের মাঝে। অসুস্থ শকুন লোকালয়ের কাছে এসে পড়ে থাকে। যা আমাদের ভাবিয়ে তোলে। বাংলার বিখ্যাত বালিহাঁস, গোলাপি হাঁস, বড় হাড়গিলা বা মদনটাক, ধলাপেট বগ, সাদা ফোঁটা গগন রেড, রাজ শকুন, দাগি বুক টিয়াঠুঁটি, লাল মাথা টিয়াঠুঁটি, গাছ আঁচড়া, সবুজ ময়ূর চিরতরে এ দেশ থেকে হারিয়ে গেছে। প্রাণের এ বৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে হবে আমাদের প্রয়োজনেই।

  • পরিবেশকর্মী ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী, বারসিক, নেত্রকোণা


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা