গাজী মো. মাসুদ রানা
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৪ ১১:০২ এএম
অন্ধ বাবা ও মায়ের সঙ্গে অদম্য মেধাবী হালিমা খাতুন। প্রবা ফটো
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার শাপলেজা ইউনিয়নের নলীচড়কগাছিয়া তমিজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী হালিমা আক্তার। চারদিকে দারিদ্র্যের স্পষ্ট ছাপ। ভাঙা বাড়ি, ভাঙা চেয়ারে বসেই বাজিমাত করেছে দরিদ্র অন্ধ বাবার কন্যা হালিমা আক্তার। দারিদ্র্যকে রীতিমতো বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অর্জন করেছেন মাধ্যমিকের শ্রেষ্ঠ সাফল্য জিপিএ-৫।
ভাঙা বাড়িতে কি চাঁদের হাট বসেছে? না, নীরবতা প্রমাণ করে এখানে কোনো উচ্ছ্বাস নেই; নেই সাফল্য অর্জনের ন্যূনতম আনন্দ। অথচ হতে পারত ভিন্ন চিত্র। মেতে থাকতে পারত চূড়ান্ত সাফল্যের আনন্দে। শিক্ষাজীবনে প্রথম সাফল্য এভাবে যে ভীতু করে তা হালিমাকে না দেখলে বোঝার উপায় নেই। টাকার অভাবে প্রাইভেট পড়া হয়নি তার। ২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করতে। শিক্ষকদের সহায়তায় কোনোমতে পড়াশোনা করেও এত কষ্টের সাফল্য ধরে রাখতে পারবে তো? এটাই এখন ভয়ের বিষয়। প্রতিবেশীরাও চান সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এ অদম্য মেধাবী এগিয়ে যাবে অনেক দূর।
হালিমা আক্তার বলে, ‘আমি ডাক্তার হয়ে বিনা পয়সায় গরিব মানুষের সেবা করতে চাই। গরিব হয়ে জন্মেছি বলেই হয়তো টাকার অভাবে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। বাবা প্রতিবন্ধী। আশপাশের মানুষ ও শিক্ষকরা লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছেন। সরকারের দেওয়া বিনামূল্যে বইয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের লেখাপড়া শেষ করতে পেরেছি। কিন্তু উচ্চশিক্ষার অর্থের জোগান কোথা থেকে আসবে, কীভাবে আসবে, এ চিন্তা সারাক্ষণ ভাবিয়ে তুলছে আমাকে।’
প্রতিবেশী কামাল জানান, হালিমা মেধাবী ছাত্রী হওয়ায় পড়াশোনার বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনেক সহযোগিতা করেছেন। এসএসসিতে ভালো ফলও করেছে। কিন্তু এখন হালিমাকে ভালো কলেজে ভর্তি করতে ও পড়ালেখা চালাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। সেটা জোগাড় করা তাদের পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
হালিমার বাবা নাসির হাওলাদার বলেন, ‘আমার মেয়ে জিপিএ-৫ পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি। শিক্ষক এবং আশপাশের মানুষের সহযোগিতায় মেয়েকে লেখাপড়া করিয়েছি। আমি প্রতিবন্ধী; কাজ করতে পারি না। আমার চার মেয়েকে কষ্ট করে পড়াচ্ছি। আমার থাকার ঘর নেই। ভাঙা একটি রান্নাঘরে বসবাস করি। একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দিলে মেয়ে লেখাপড়া চালিয়ে নিতে পারতো।’
নলীচড়কগাছিয়া তমিজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হালিমার পরিবার দরিদ্র। ক্লাস সিক্স থেকে বিনা বেতনে তাকে পড়িয়েছি। বাবা অন্ধ, অত্যন্ত আর্থিক কষ্টে জীবনযাপন করেন। আমরা চাই মেয়েটি পড়াশোনা শেষ করে ভালো একটি পেশায় যুক্ত হবে।’