ফারহাত মাইশা
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৪ ১৩:২১ পিএম
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নবাজ এসএম ইশতিয়াক ও তার দল তৈরি করেছে বিশ্বের প্রথম বাংলা ভাষায় চালিত ড্রোন
বিশ্বের হালনাগাদ সব প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি দেশে এ পরিবর্তন আসছে তরুণদের নানা উদ্যোগ আর প্রচেষ্টায়। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশের কিছু মেধাবী মানুষ প্রযুক্তির পরিবর্তনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন দিনের পর দিন।
তাদের নিরলস প্রচেষ্টা প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি বিদেশনির্ভরতা কমানোর জন্য শতবাধা অতিক্রম করে চলতে হচ্ছে। এমনই একজন অদম্য এক স্বপ্নবাজ তার দল নিয়ে তৈরি করেছেন বিশ্বের প্রথম বাংলা ভাষায় চালিত ড্রোন। স্বপ্নবাজ এই মানুষটির নাম এসএম ইশতিয়াক ইবনে সালাম। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাষক। তার দলে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও নয়জন বিভিন্ন বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের দলের নাম আরপাস টাস্কফোর্স।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ড্রোনটির নাম দেওয়া হয়েছে আচার্য। অন্যান্য ড্রোনের চেয়ে দক্ষ কন্ট্রোলিং এবং ভালো মানের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে পারবে এটি। বিশ্বের প্রথম বাংলা কমান্ডে চলা ড্রোনটি উদ্ভাবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীরা জানান, সফলতা পাওয়ায় নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দলের সদস্যরা ড্রোনটি সফলভাবে আবিষ্কারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আগামীতেও প্রযুক্তির উৎকর্ষে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দলনেতা এসএম ইশতিয়াক ইবনে সালাম বলেন, ‘ন্যাচারাল ল্যাংগুয়েজ প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে এই ড্রোন। কণ্ঠস্বর শুনেই ড্রোনটি পরিচালিত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দেওয়ার পর প্রশিক্ষণ দিয়ে ড্রোনটি আগে উপযোগী করে তোলা হয়েছে। এখন আমরা এটিকে যেভাবে আদেশ দিচ্ছি, সেভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।’ ড্রোনটি পরিচালনার জন্য বিদেশি কোনো ভাষা কিংবা ইংরেজি জানার দরকার নেই। বাংলা ভাষার যেকোনো লোক এটিকে পরিচালনা করতে পারবেন। এটি পরিচালনা করতে আরসি ট্রান্সমিটার কিংবা রিমোট কন্ট্রোল ব্যবহারেরও প্রয়োজন পড়ে না। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এসএম ইশতিয়াক ইবনে সালামের নেতৃত্বে ওই প্রজেক্টটি সফল করতে অবদান রেখেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত আরও নয়জন তরুণ শিক্ষার্থী। ওই শিক্ষার্থীরা হলেন- ঝলক ব্যানার্জি, হিমেল ইসহাক, তাসদিদ তাহসিন, সাইফুল ইসলাম রনি, বোরহান উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন সৈকত, মারুফ রায়হান, হলিজিত পাল ও খালিদ সাইফুল্লাহ।