পেরিয়ে বন্ধুর পথ
সাইদ মেমন, বরিশাল
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৪ ১০:৪২ এএম
আপডেট : ১৮ মে ২০২৪ ১৩:২৪ পিএম
কৈশোরেই মাহাথির রহমানের শরীরে বাসা বেঁধেছিল দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যানসার। ক্যানসার জয় করে এসএসসি পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে জিপিএ-৫ পেয়ে। প্রবা ফটো
ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে শিক্ষাজীবন
থেকে দুই বছর হারিয়ে গেলেও থেমে থাকেনি বরিশালের জিলা স্কুলের ছাত্র মাহাথির রহমান।
ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে সে।
নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ড মুন্সির
গ্য্যারেজ এলাকার বাসিন্দা সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী মফিজুর রহমান জামাল ও হোসনে
আরা পলি দম্পত্তির ছেলে মাহাথির রহমান। যমজ দুই ভাইয়ের অপরজন মাকতুম রহমান বরিশাল সরকারি
সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
মাহাথির রহমান বলে, ২০১৮ সালে ক্লাস
সেভেনে পড়াকালীন মায়ের সঙ্গে মার্কেটে ঘুরতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ি। চিকিৎসকের কাছে
গেলে জানতে পারি ব্লাড ক্যানসার বাসা বেঁধেছে শরীরে। এর পর থেকেই নিয়মিত চিকিৎসা চলে।
তার অসুস্থতার খবর শুনে দেশে আসেন বাবা। ভারতে একটানা ছয় মাস চিকিৎসা করান। কোভিডের
সময় তিন মাস পরপর আসা-যাওয়া করতে অনেক সমস্যা হয়। তার পরও সুস্থ হয়ে ২০২২ সালে আবার
অসুস্থ হয়ে পড়ি। ফরম পূরণ করেও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারিনি। এ সময় তারও ভাইয়ের
খারাপ লেগেছিল। কিন্তু করার তো কিছু ছিল না। ভাই জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।
মাহাথির জানান, ২০২২ সালের ২৪ ডিসেম্বর
ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে তার বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে। যমজ ভাই মাকতুম রহমান
তাকে স্টিম সেল দিয়েছে। এখন ভালো আছে সে। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
অসুস্থ হলেও পরিবার সবসময় তাকে
সাহস দিয়েছে। কখনও তারা বুঝতে দেয়নি সে অসুস্থ। পরিবার ও শিক্ষকরা সবসময় পাশে ছিল।
তাদের উৎসাহে মনোবল ভেঙে পড়েনি। তাদের দেওয়া সাহস ও নিজের ওপর আস্থা ভালো ফল অর্জনে
সহায়তা করেছে।
গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ায় তার ইচ্ছা
ঢাকা নটর ডেম কলেজে পড়াশোনা করা। সুযোগ পেলে সেখানে পড়বেন। নয়তো ঢাকার ভালো কোনো কলেজে
পড়ার চেষ্টা করবেন।
ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন
দেখছেন জানিয়ে মাহাথির বলেন, আমি তো একজন অসুস্থ রোগী। চিকিৎসক হয়ে মানুষকে সেবা করতে
চান তিনি।
বাবা মফিজুর রহমান জামাল বলেন,
আমরা খুশি সে ভালো ফল করেছে। ভবিষ্যতে সে ডাক্তার হতে চায়। সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করব।
বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা
পাপিয়া জেসমিন বলেন, ক্যানসারের মতো এমন মরণব্যাধি নিয়েও এসএসসি পরীক্ষায় মাহাথিরের
এমন সাফল্যে খুশি আমরা, সবাই খুশি। যেকোনো প্রয়োজনে মাহাথিরের পাশে থাকাব।