সাইদুল ইসলাম মন্টু, বেতাগী (বরগুনা)
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৪ ১০:১৩ এএম
বেতাগীর কিশোর-কিশোরী ক্লাব (কেকেসি) -এর কয়েকজন সদস। প্রবা ফটো
তৃণমূল পর্যায়ে সুস্থ মানসিক ও
সাংস্কৃতিক বিকাশে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে কিশোর-কিশোরীরা। এ ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা পালন
করছে কিশোর-কিশোরী ক্লাব (কেকেসি)। দেশের উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে প্রান্তিক
জনগোষ্ঠীর মাঝে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সমস্যা ও সংকটে করণীয়সহ জ্ঞানার্জন ও ইতিবাচক
দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এসেছে; যা স্থানীয়দের দৃষ্টি কেড়েছে।
নেতৃত্বের মনোভাব তৈরি, সঠিক চর্চার সুষ্ঠু বিকাশ, গুজব, সংস্কৃতিচর্চা, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ, সঠিক তথ্য জানতে কিশোর-কিশোরীরা আগ্রহী হয়ে উঠছে। কারাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কিশোরীরা ইভ টিজিং প্রতিরোধ ও নিজেদের সুরক্ষা করছে। বিশেষ করে প্রজননস্বাস্থ্যে কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে নতুন জীবনে পদার্পণে দিন দিন সচেষ্ট হচ্ছে।

বেতাগী উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিস
সূত্রে জানা যায়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন
কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের আওতায় সারা দেশের মতো এ উপজেলার একটি পৌরসভাসহ
সাতটি ইউনিয়নে ২০১৮ সালে আটটি কিশোর কিশোরী ক্লাব স্থাপন করা হয়।
এ কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে এসব
প্রতিষ্ঠানে কিশোর-কিশোরী ক্লাবগুলোয় সপ্তাহে দুই দিন শেখানো হচ্ছে বিনামূল্যে কণ্ঠসংগীত,
বাদ্যযন্ত্র ও কবিতা আবৃত্তি। এখানে সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে নানা খেলাধুলার। এ ছাড়া বিভিন্ন
বিষয়ে দক্ষতা অর্জন, অনলাইন প্ল্যাটফরম, পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু, মাদকবিরোধী কার্যক্রমসহ
নানা বিষয়ে জ্ঞানার্জন করছে কিশোর-কিশোরীরা। জেন্ডার প্রমোটরদের মাধ্যমে সমাজের ইতিবাচক
পরিবর্তনে কিশোর-কিশোরীদের ক্ষমতায়নে বাল্যবিয়ে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে
সচেতন করা হচ্ছে।
প্রতিটি ক্লাবে মহিলা বিষয়ক কার্যালয়
কর্তৃক নিয়োগকৃত একজন সংগীত শিক্ষক, একজন আবৃত্তি শিক্ষক এবং একজন জেন্ডার প্রমোটর
এ প্রশিক্ষণ কাজে নিয়োজিত আছেন।
প্রতিটি ক্লাবে ১১ থেকে ১৮ বছরের
২০ জন কিশোরী ও ১০ জন কিশোর এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। এখানে মেধা বিকাশে শেখানো হচ্ছে
প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও শিক্ষিকা দ্বারা। প্রতিদিন ক্লাসে দেওয়া হয় পুষ্টিকর নাশতা। ইতোমধ্যে
এ কেন্দ্রগুলো থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে অনেক কিশোর-কিশোরী গান এবং আবৃত্তিতে উপজেলা,
জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সফলতা অর্জন করেছে।
বেতাগী পৌর এলাকার কিশোর-কিশোরী
ক্লাবের গানের শিক্ষার্থী কথাকলি বলে, ‘এখানে আমি অনেক কিছু শেখার পাশাপাশি সপ্তাহে দুই
দিন পুষ্টিকর নাশতা খেতে পারছি। ইতোমধ্যে আমি জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা, শিক্ষা
সপ্তাহ, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অনেক পুরস্কার পেয়েছি।’
উপজেলার একাধিক কিশোর-কিশোরী ক্লাবের
সদস্য জানায়, আগে তাদের শেখার মতো কোনো ক্লাব বা প্রতিষ্ঠান ছিল না। এখন স্কুল ছুটির
দিন বিকালে ক্লাবে এসে গান, কবিতা শিখতে পারছে। এ ছাড়া নানা ধরনের খেলাধুলার সুযোগ
পাওয়ায় খুশি তারা। তাদের মধ্যে অনেকে জানায়, তারা আগে কীভাবে কবিতা আবৃত্তি করতে হয়
তা জানত না। এখন অনেকেই কবিতা আবৃত্তি করতে পারে। নিজে হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান গাইতে
পারে।
প্রকল্পের উপজেলা জেন্ডার প্রমোটর
অলি আহমদ বলেন, ‘সপ্তাহে বৃহস্পতি ও শুক্রবার এ ক্লাবে দুই ঘণ্টা
করে ক্লাস নেওয়া হয়। বিভিন্ন কিশোর-কিশোরী ক্লাবের অনেক শিক্ষার্থী গান এবং আবৃত্তি
শিখে বিভিন্ন প্রতযোগিতায় অংশগ্রহণ করে পুরস্কার পেয়েছে।’
বেতাগী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা
আফরোজ সুলতানা বলেন, ‘ উপজেলার পৌরসভাসহ সাত ইউনিয়নে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের
বাস্তবায়ন হচ্ছে। দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিনামূল্যে গান, আবৃত্তি
ও কারাতে শেখার সুযোগ পাচ্ছে।’
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার
মো. ফারুক আহমদ বলেন, ‘কিশোর-কিশোরীদের ক্ষমতায়নের জন্য এটি সরকারের
একটি ভালো ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এখানে যোগদানের পর এ কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে আমার
সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’