মাহমুদ হাসান
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৪ ১০:০৭ এএম
অন্যের বাড়িতে কাজ করেন আয়শা বেগম। প্রবা ফটো
পচন ধরা নাড়ার ওপরে পলিথিন মোড়ানো
দোচালা কাঁচা ঘর। সামনের অংশে কাঠের বেড়া থাকলেও পেছনের অংশে সিমেন্টের ব্যাগ দিয়ে
সাঁটানো। বৃষ্টি কিংবা ভারী ঝড় হলে যেকোনো সময় ঘরটি বিধ্বস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তবু
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ঘরে বাস করেন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের
হরিদ্রাখালী গ্রামের বাসিন্দা আয়শা বিবি (৭০)। সংসারের কর্তাব্যক্তি মারা গেছেন প্রায়
২০ বছর। আয়শা বিবির অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে দুই মেয়ে আর এক ছেলে থাকা সত্ত্বেও কেউ খোঁজ
না নেওয়ায়। অন্যের বাড়িতে গৃহস্থালি কাজে সহায়তা করে কোনোরকমে জীবন পার করছেন। নিরুপায় হয়ে একটি ঘরের জন্য ঘুরেছেন জনপ্রতিনিধিদের
দ্বারে দ্বারে। সবাই শুনেছেন জীবনের করুণ চিত্র কিন্তু সহায়তার হাত বাড়াননি কেউ। অথচ
এ উপজেলায় সরকারের দেওয়া বিনামূল্যের ঘর পেয়েছেন প্রায় ২ হাজার অসচ্ছল মানুষ। আক্ষেপ
নিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারি ঘরের জন্য টাকা চেয়েছিল। আমি দিতে পারিনি।
তাই ভাগ্য অনুকূলে আসেনি।’
সরেজমিনে কথা হয় আয়শা বিবির প্রতিবেশীদের
সঙ্গে। তারা বললেন, ‘যারা টাকা দিয়েছে তারা সরকারি ঘর পেয়েছে। অথচ
বয়স্ক এই মানুষটি ঘর, কাপড় ও খাবারের জন্য প্রতিনিয়ত কষ্ট করে থাকে। ছেলেমেয়ে থাকলেও
খোঁজ নেয় না। স্বামীর যে ভিটে রয়েছে সেখানে ছাপড়া দিয়েই বসবাস করছেন। ’
অশ্রুঝরা নয়নে বৃদ্ধা আয়শা বলেন,
‘কেমনে ঘর তুলব বাবা। মানুষের বাড়ি কাজ করে খাই।
বৃষ্টি নামলে ঘরে থাকা যায় না। ঘরের আসবাবপত্র অন্যের বাড়িতে রাখছি। অনেক সময় মানুষের
বাড়িতে ঘুমাই। ঘরের জন্য নাম নেছে। দুইবার কইরা কাগজপত্র সব জমা দিছি ইউনিয়ন পরিষদে।
কিন্তু ঘর পাই নাই। টাকা চায় হেরা। আমার জন্য একটা ঘরের ব্যবস্থা কইরা দিলে ভালো হয়।
মরার আগে ভালো একটা ঘরে ঘুমাইতে চাই।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
মিজানুর রহমান বলেন, ‘আপাতত ঘর সংস্কারের জন্য টিন ও নগদ টাকা দেব।
পরে সরকারি ঘর এলে তাকে দেওয়া হবে।’