প্রাইমার টু প্রেস
হাসনাত মোবারক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৪ ১৪:১৫ পিএম
গ্যালারিজুড়ে শোভা পাচ্ছে ‘বর্ণমালা, বাংলা বর্ণ পরিচয় সংকলন’-এ অন্তর্ভুক্ত ১০০ বছরে লেখা বইগুলোর বিভিন্ন বর্ণ, শব্দ ও বাক্যের সঙ্গে সচিত্র। পাশাপাশি লেখক ও শিল্পীর ছবি। ছবি : কামরুল হাসান মিথুন
ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার লা গ্যালারিতে চলছে ভিন্নধর্মী প্রদর্শনী ‘প্রাইমার টু প্রেস’। শিল্পী সব্যসাচী হাজরার উদ্যোগে বাংলা ভাষাশিক্ষার আদি গ্রন্থমালা ও মুদ্রণশিল্পের ইতিহাসধর্মী এ আয়োজন নিয়ে লেখা...
কাকাতুয়ার ঠোঁটে ঝুলে আছে ‘অ’ বর্ণ। ছবিটি দেখে প্রকৃতি আনন্দময়ী ছুটে এলো ভাই স্বয়ম সমৃদ্ধর কাছে। ওর ভাই মগ্ন হয়ে দেখছিল চারটি ‘অ’ দিয়ে সাজানো একটি শিল্পকর্ম। ওদের মনে কৌতূহল জেগেছে, আচ্ছা সেই পাখির মুখ থেকেই কি কেড়ে নিয়েছে এলোমেলো করে বসানো বর্ণটি? শিশুমনে নানান ভাবনার উদয় হতে পারে মজার ছবি বা ছবির এ মজা দেখে। ধানমন্ডির নালন্দা উচ্চবিদ্যালয়ের ক্লাস টু পুড়ুয়া দুই শিক্ষার্থীর খুনসুটি পাশে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছিলাম। ছবির মধ্যে অক্ষর বা চিত্রের মধ্যে অক্ষর; সেগুলো অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিত্রাক্ষর’ শিশুপাঠ্য বইয়ের। ওদের কাছে জানতে চাইলাম, আচ্ছা বলো তো এখানকার কোন জিনিসটি তোমাদের ভালো লেগেছে। আঙুল উঁচিয়ে দেখাতে লাগলÑএটা, ওটা। এরপর বলল, সবই ভালো লেগেছে। শিশুদের ভালো লাগা অনেক বই থেকে বাছাই করে আটটি বই নিয়ে রাজধানীর আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার লা গ্যালারিতে ৩ মে থেকে চলছে ‘প্রাইমার টু প্রেস’ শীর্ষক প্রদর্শনী। এ আয়োজনের মূল কারিগর শিল্পী সব্যসাচী হাজরা। তার সম্পাদনা ও সংগ্রহ নিয়ে শিশুপাঠ্যের এ সংকলনে স্থান পেয়েছে ১৮৪৯-১৯৪৮ সাল পর্যন্ত লিখিত বাছাইকৃত আটটি বই। বইগুলো হলো- মদনমোহন তর্কালঙ্কারের শিশুশিক্ষা, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয়, রামসুন্দর বসাকের বাল্যশিক্ষা, সীতানাথ বসাকের আদর্শ লিপি, যোগীন্দ্রনাথ সরকারের হাসিখুসি, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রাক্ষর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ও নন্দলাল বসুর আঁকা সহজপাঠ এবং বিমলচন্দ্র ঘোষের লেখা ও সত্যজিৎ রায়ের আঁকা হাতেখড়ি।

গ্যালারিজুড়ে শোভা পাচ্ছে ‘বর্ণমালা, বাংলা বর্ণ পরিচয় সংকলন’-এ অন্তর্ভুক্ত ১০০ বছরে লেখা বইগুলোর বিভিন্ন বর্ণ, শব্দ ও বাক্যের সঙ্গে সচিত্র। পাশাপাশি লেখক ও শিল্পীর ছবি
প্রাইমার টু প্রেস
গ্যালারিজুড়ে শোভা পাচ্ছে ‘বর্ণমালা, বাংলা বর্ণ পরিচয় সংকলন’-এ অন্তর্ভুক্ত ১০০ বছরে লেখা বইগুলোর বিভিন্ন বর্ণ, শব্দ ও বাক্যের সঙ্গে সচিত্র। পাশাপাশি লেখক ও শিল্পীর ছবি।
খুদে দর্শনার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আসা কোনো কোনো অভিভাবক চমকে উঠছেন শিল্পীর সংগ্রহে থাকা এ বইগুলোর পুরোনো কপি দেখে। তাদের স্মৃতি নাড়া দিচ্ছে , কেননা পূর্বসূরিরা এ বইগুলো পড়েই তো বিদ্যাশিক্ষা অর্জন করেছেন।

বহুদিন আগে ছাপা হওয়া এ বইয়ের ছেঁড়া পাতার মধ্য থেকে উঁকি দিচ্ছে বর্ণমালাগুলো। হয়তো একটু পরই বিগত শতাব্দীর মনীষীরা হর হর করে পড়া শুরু করবেন তার প্রথম পাঠের বই। এর মধ্যে সত্যি সত্যি একজন বয়স্ক দর্শনার্থী শিশুশিক্ষা বইয়ের কপিটি দেখে আপন মনে সুর করে আবৃত্তি করেন, ‘পাখিসব করে রব, রাতি পোহাইল’। তার মতো অনেকের স্মৃতিতে মদনমোহন তর্কালঙ্কারের লেখা বইটি অনেকের মনে জায়গা করে নিয়েছে। ১৮৪৯ সালে কলকাতা বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় মদনমোহন বইটি লেখেন। স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বইটি লেখা হলেও তা রাতারাতি সমাদৃত হয়ে বাঙালির ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়।
বিদ্যাশিক্ষার শুরুতে শিশুর হাতে যে বইটি তুলে দেওয়া হয়, সেটিই প্রাইমার। মদনমোহনের ‘শিশুশিক্ষা’ প্রাইমারটির আগে লেখা হয়েছে আরও অনেক বই। ১৮১৬ সালে প্রথম শ্রীরামপুর মিশনারিরা ১২ পৃষ্ঠার একটি প্রাইমার প্রকাশ করেন। যার নাম ‘লিপিধারা’। লিপিধারাই মূলত বাঙালি শিশুদের জন্য লেখা প্রথম বই। এ বই লেখার আগে বাঙালি সন্তানরা ভাষা শিখত মুখের কথা শুনে। মা-দাদিদের মুখে মুখে ফেরা ছড়া, গল্প এবং প্রবাদ-প্রবচন শুনে। আজ পর্যন্ত কত প্রাইমার লেখা হয়েছে তার সঠিক হিসাব নেই।
বাংলা প্রাইমার কেমন হওয়া দরকার, সে পথে যাত্রা করেন মদনমোহন তর্কালঙ্কার। আর বিদ্যাসাগর ১৮৫৫ সালে এসে ‘বর্ণপরিচয়’ লেখার মাধ্যমে বাঙালিকে নিয়ে গেলেন আরও অনেক দূর। বিদ্যাসাগর তার বন্ধু মদনমোহনের কাব্যের সুরের পরিবর্তে গদ্যের ভঙ্গিতে লিখলেন বর্ণপরিচয়-এর প্রথম ভাগ। এরপর অনেক লেখক শুধু ব্যবসার জন্য প্রাইমার লিখতেন। ১৮৮০ সালে নতুন-পুনর্মুদ্রণ মিলিয়ে ৫০টির মতো প্রাইমার ছাপা হয়।

১৮৭৭ সালের জুনে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয় রামসুন্দর বসাকের ‘বাল্যশিক্ষা’। ১৮৯৩ সালের পর ঢাকা থেকে ‘শিশুশিক্ষা’ ছাপা শুরু হয়। এখানকার ইস্ট বেঙ্গল প্রেস, রঘুনাথ প্রেস, নারায়ণ প্রেস, গোপীনাথ প্রেস; সবাই পাল্লা দিয়ে ‘শিশুশিক্ষা’ ছাপতে শুরু করেন। এ প্রাইমারগুলো একসময় ছাপা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রেস মেশিনে। কালের বিবর্তনে অনেক কিছুর পরিবর্তনের সঙ্গে হারিয়ে গেছে সেসব ছাপাখানা। এ গ্যালারি প্রাঙ্গণে বসানো সচল লেটার প্রেস মেশিনটি দেখে অনেকেই স্মৃতিচারণা করে ফিরছেন। সব্যসাচী হাজরা সচল এ প্রেস মেশিনটির সন্ধান পেয়েছেন নীলক্ষেতের প্রেসপট্টিতে। তাই চালু থাকা এ লেটার প্রেসের মুদ্রাকর হালিম হোসেনকে সবার সঙ্গে পরিচয় করে দেন একালের নায়ক হিসেবে। অনেক প্রতিকূলতার মধ্য এখনও এ মুদ্রাকর স্মৃতি ধরে আছেন। তার মুখ থেকে গল্প শোনার ইচ্ছে হলো। তত সময়ে তিনি জুড়ে দিলেন মেশিন। শুরু হলো ঘটাং ঘটাং আওয়াজ। সাদা পৃষ্ঠা ভরে বাংলা বর্ণমালা ছাপা হয়ে আসছে। দর্শনার্থীরা তাকে ঘিরে ধরেছেন। হাতে হাতে লেটার প্রেসে ছাপা কপি।
বঙ্গদেশে ছাপা বই
শিল্পী সব্যসাচী হাজরার শৈশব-কৈশোরে হাতেখড়ি নলখাগড়ার কলমে। ছোটবেলায় তিনি সংগ্রহ করতেন হাতে লেখা পুঁথি। শৈশব-কৈশোরের অভিজ্ঞতালব্ধ উপলব্ধি তার বর্তমান কাজের অনুপ্রেরণা। বর্ণমালা ও ভাষা শিক্ষা সম্পর্কে তার একের পর এক গবেষণামূলক কাজ তা-ই প্রমাণ করে। বিকাশের প্রয়োজনে শিকড়ের সন্ধানে হাঁটতে থাকা এ শিল্পীর সম্পাদনায় সদ্যপ্রকাশিত ‘বাংলা বর্ণ পরিচয় সংকলন’। কবি প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এ বইটি প্রদর্শনের পাশাপাশি একটি টেবিলে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। শিল্পী ও সম্পাদক সবার সামনে তুলে ধরছেন ১৫ শতকে ছাপাখানার জনক জোহানেস গুটেনবার্গ (১৪০০-১৪৬৮)-এর পরিচয়। একটি টেবিলে গুটেনবার্গ, ন্যাথালিয়ান ব্রাসে হ্যালহেড রচিত আ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজের প্রচ্ছদ।

এটিই বাংলা অক্ষরে (ইংরেজি অক্ষরেও) ছাপা প্রথম বই। চার্লস উইলকিন্স যে বাংলা হরফগুলো বানিয়ে নিয়েছিলেন পঞ্চানন কর্মকারের কাছ থেকে। এর পাশে ‘শিশুশিক্ষা’ বইয়ের একটি পৃষ্ঠার বর্ণমালার নমুনা কপি। ‘বর্ণপরিচয়’-এর পরের ছবিটি বটতলা প্রেসের। যে ছাপাখানার বই খুব অল্প সময়ে বিস্তার লাভ করে। তাই এ বাংলা মুদ্রণশিল্প বিকাশে ছাপাখানার অবদান অপরিসীম। এর পাশেই কাঠের হরফ দেখে অবাক হতে হয়। যা তৈরি করেছেন একালের শিল্পী শীতল চন্দ্র ধর। কাঠখোদাইকারীকে সব্যসাচী খুঁজে বের করেছেন নরসিংদী থেকে। এরপর ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র কাঙ্গাল হরিনাথের ছবি। এখানে লেখা প্রিন্ট ইন প্রোগ্রেস। কুষ্টিয়ার এক অজপাড়াগাঁয়ে থেকে যিনি আমেরিকান একটি কলাম্বিয়ান প্রেস মেশিন নিয়ে এসে পত্রিকা প্রকাশ করলেন, সেই কাঙ্গাল হরিনাথ মূলত আমাদের দেশের মুদ্রণের অগ্রনায়ক। এমন ইতিহাস এ প্রদর্শনীকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। একটি টেবিলে দেখা যাচ্ছে সহজপাঠে আঁকা নন্দলাল বসুর একটি চিত্রকর্ম। এর পরের প্লেটে ‘অ আ ক খ’। এখানে লেখা এক একটি বাংলা অক্ষর এক একটি বাঙালির জীবন। তারপর অবনীন্দ্রনাথের চিত্রকর্ম। টেবিলের শেষ প্রান্তে এ প্রদর্শনীর লোগো। যেখানে লেখাÑঘোড়সওয়ার ছোট্ট এক বালক। নিচে ইংরেজিতে লেখা খুলনা, ১৯৮২ রকিং হর্স আ চাইল্ডহুড মেমোরি। এর নিচে একটি ট্যাক্সির ছবি। এখানেও লেখা- ১৯৮৭ খুলনা, আ ম্যাচবক্স, উইথ এ প্রিন্টিং ট্যাক্সি। মাই ফেবারিট চাইল্ডহুড টয়।

প্রদর্শনীর বিষয়ে শিল্পী সব্যসাচী হাজরা বলেন, ‘এটি মূলত বাংলা প্রাইমার ও মুদ্রণ সংশ্লিষ্ট আয়োজন। কীভাবে বাংলা প্রাইমারের বিবর্তন হয়েছে তা তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। মুদ্রণব্যবস্থা অতীত থেকে কীভাবে বর্তমানে এসে পৌঁছেছে। এ ক্ষেত্রে কাদের অবদান। সেই শিকড়ের সন্ধান করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ কাজ করতে গিয়ে লক্ষ করলাম, যারা প্রাইমার রচনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা ওই সময়ের সবচেয়ে প্রগতিশীল মানুষ ছিলেন। তাদের কাজের মধ্যে যুগলবন্দি ছিল। যেমন মদনমোহন তর্কালঙ্কার থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। রবীন্দ্রনাথের লেখায় ছবি এঁকেছেন নন্দলাল বসু। আবার বিমলচন্দ্র ঘোষের সঙ্গে সত্যজিৎ রায়। এ শিল্পীরা লেখকদের লেখার বিষয়বস্তুর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারতেন বলে তাদের কাজটি হয়ে উঠেছে সময়ের সেরা শিল্প।’
যেমন আছেন লেটার প্রেসের হালিম হোসেন
‘প্রাইমার টু প্রেস’ প্রদর্শনীকে বর্ণময় বা অক্ষরের কোলাহলে ভরে তুলতে আয়োজকরা একটি লেটার প্রেস মেশিন নিয়ে এসেছেন। সেই সঙ্গে একজন মুদ্রাকরও। তিনি একতা লেটার প্রেসের মুদ্রাকর হালিম হোসেন। মুদ্রণশিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন গত ৩৫ বছর। তার কাছে অনেকেই কাজ শিখেছেন, অনেকেই পেশা বদলেছেন। কিন্তু তিনি এ কাজই করে চলেছেন। হালিম হোসেন বলেন, ‘লেটার প্রেসের প্রতিটি অক্ষরের মায়ায় পড়ে আছি। এটি আমার শরীরে একেকটি অঙ্গের মতো।’

১৯৮৯ সালে তমুদ্দিন লেটার প্রেসে কাজ শুরু করেন তিনি। এ পেশায় আসার গল্প জানিয়ে বললেন, ‘যখন কাজ শিখি তখন শখের বসেই এসেছিলাম। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে ছাপাখানায় যাই। দেখতে দেখতে কাজ শেখা শুরু করলাম। ১৯৯৬ সালে এসে নিজেই মেশিন কিনলাম। সেই যে চলছে।’ কেমন চলছে পেশা? এ প্রশ্নের উত্তরে হাসি দিয়ে বলেন, ‘আমার কোনো উজানভাটি নাই। একই মাপে চলছে।’ আয়োজকরা হালিম হোসেনকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়েছেন উপহার স্বরূপ। অনুভূতির কথা জানতে চাইলে হালিম হোসেন বলেন, ‘এত বড় প্রদর্শনীতে প্রেস মেশিন নিয়ে এসেছি। সবাই আগ্রহ নিয়ে দেখছেন। এটাই বড় পুরস্কার। এত বড় একজন মানুষ আমাকে খুঁজে বের করেছেন এটাই বড় পাওনা। গাড়িবাড়ি করার কোনো স্বপ্ন থেকে এ পেশায় আসি নাই। অর্থের চাহিদা থাকলে এ মেশিন আঁকড়ে ধরে রাখতে পারতাম না। কাজের প্রতি ভালো লাগা ও ভালোবাসাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।’

এখন মানুষ দ্রুত ছাপার জন্য লেটার প্রেসে যায় না। তাই অনেকেই পেশা গুটিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু হালিম হোসেন আবেগের কারণেই ধরে রেখেছেন। পুরো প্রদর্শনী জুড়েই সেই ভালোবাসা আর আবেগের দেখাই মেলে। প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ১৮ মে পর্যন্ত। সাপ্তহিক বন্ধ রবিবার। প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত থাকছে। স্মৃতিময় ঘোরের দারুণ এই আয়োজন থেকে ঘুরে আসলে মন্দ লাগবে না কারও।