শনিবারের হাসি
আবদুর রব শরীফ
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৪ ১৩:৫১ পিএম
শনিবারের হাসি।
আমার বন্ধুর মডেল হওয়ার শখ ছিল। শার্ট-প্যান্ট ব্যাগে করে শহরে নিয়ে যেত তারপর কোনো শপিং মলের বাথরুমে চেঞ্জ করে বিভিন্ন অফিসে ঘোরাঘুরি করত; কিন্তু কাজ হতো না।
ওর কাছে প্রথম জানলাম মডেল হতে টাকা লাগে। শেষমেশ তাকে একদিন হাটহাজারীর একটি শপিং মলের বিলবোর্ডে দেখেছিলাম। ফোন করে বললাম, দোস্ত তোরে পাইছি! তোর বিলবোর্ডের সঙ্গে এক্কান সেলফিও তুলছি। তুই তো নোবেল হয়ে গেছিস!
সে বলল, হাটহাজারী যাওয়া মানা। শপিং মলের শর্ত আছে। মডেল হওয়ার পর সেখানে যাওয়া যাবে না তাতে নাকি ডিমান্ড নষ্ট হবে। সেটাই তাকে শেষ মডেল হিসেবে দেখা।
মডেলিং করার জন্য সে একটা গার্মেন্টসের দোকান দিয়ে বসল। দিনের বেলায় সেগুলো পরে ছবি তোলে তো রাতে ভাঁজ করে দোকানে রেখে দেয়। কিন্তু শেষপর্যন্ত মডেল হতে না পারার দুঃখে বন্ধু আমার পাগলপ্রায়।
গোসলের ঠিক নেই। আউটফিটে মনোযোগ নেই। গেঞ্জির ওপর শার্ট পরে তো জাইঙ্গার নিচে প্যান্ট। এভাবে চলে যাচ্ছিল তার জীবন। অদ্ভুত পাগলের বেশভূষা নিয়ে থাকে। অভ্যাসবশত সে আগের মডেলিং রিলেটেড অফিসগুলোর আশপাশে হাঁটত।
অফিসগুলো এখন আর আগের মতো মডেল খুঁজে পাচ্ছে না। অবশেষে তাকে দেখে এক প্রকার জোর করে মডেল হিসেবে নিবন্ধন করে নিল।
এখন মডেল হিসেবে তার আবেগ কাজ করলেও বিবেক কাজ করছে না। এভাবে সে একদিন দেশের সেরা মডেল হয়ে উঠল।
কয়েক বছর পর তাকে বিচারক হিসেবে মঞ্চে আনা হলো। দেশসেরা নবীন নারী মডেলের খোঁজ করার দায়িত্ব তার কাঁধে। একে একে তার সামনে র্যাম্প করে যাচ্ছেন আর্টিস্টরা। সবাইকে সে নেগেটিভ মার্কিং করে যাচ্ছে। হঠাৎ একটি মেয়ে শার্টের ওপর ফ্রক আবার ফ্রকের ওপর কামিজ, সঙ্গে কামিজের ওপর কোট, কোটের ওপর ওড়নাসহ এহেন কিছু বাদ নেই যা সে পরে আসেনি। তাকেই সে সেরা মডেল ঘোষণা করল।
ওর এহেন কাণ্ডে সবাই অবাক। অবশেষে বিচারককেও বিচারের আওতায় আনা হলো। কারণ দর্শানোর জন্য বলা হলে সে বলল, ‘এই মেয়ে মডেল হলে এক দোকানে একসঙ্গে দশটি কাপড় বিক্রি হবে। পাশাপাশি আমাদের ডিটারজেন্ট স্পন্সর কোম্পানির ব্যবসার প্রসার হবে, সঙ্গে আরেক ইলেকট্রিক স্পন্সরের ইস্তিরির ব্যবহারও বেড়ে যাবে; সঙ্গে টাইটেল স্পন্সরের ওভার ড্রয়ারের বিক্রি বাড়ার সমূহ সম্ভবনা তো আছেই।’